ঢাকা : মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর, ২০১৭ ১১:৫৯:৪০আপডেট : ০৮ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:১৯:০৯
চিকুনগুনিয়া ব্যথায় ফিজিওথেরাপি
প্রফেসর আলতাফ হোসেন সরকার

 

চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাস এর নাম। এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে চিকুনগুনিয়া জ্বর হয়। আমাদের শরীরে এডিস মশার দংশনের মাধ্যমে এক রোগাক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে অন্য সুস্থ ব্যক্তির দেহে এই ভাইরাস প্রবেশ করে।
চিকুনগুনিয়া সর্বপ্রথম শনাক্ত করা হয় তানজানিয়াতে ১৯৫২ সালে। এছাড়াও পরবর্তীতে ১৯৫৬, ১৯৬৮ সালে মহামারী আকার ধারণ করে- ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কায়। ১৯৭৩ সালে ভারতে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৬ সালে এটি মহামারী আকারে ধারণ করে। চিকুনগুনিয়া রোগ সর্বপ্রথম আমাদের দেশে শনাক্ত করা হয় ২০০৮ সালে। পরবর্তীতে আবার ২০১১ সালে শেষ বারের মতো আমাদের দেশে দেখা গিয়েছিল। আবার এ বছরের (২০১৭) প্রথম দিক থেকে ঢাকা শহরে এ রোগ মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই রোগের নির্দিষ্ট প্রতিকার নেই। লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। আর এই রোগের পার্শ¦ প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। দেহে এ রোগের জীবাণু প্রবেশের পর এ রোগের সুপ্তিকাল ২ থেকে ১২ দিন। সুপ্তিকাল শেষে তা রক্তের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং নানা উপসর্গ তৈরি করে। লক্ষণসমূহ তিনটি পর্যায়ে দেখা দেয়- স্বল্পমেয়াদি পর্যায় (বিস্তার রোগ প্রকাশের পরবর্তী ২১ দিন পর্যন্ত), মধ্যমেয়াদি পর্যায় (২২ দিন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত) ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যায় (৯০ দিন বা তার পরবর্তী সময় পর্যন্ত)।চিকুনগুনিয়া ব্যথায় ফিজিওথেরাপি
প্রচণ্ড জ্বর সাধারণত ১০২ ডিগ্রী ফা. থেকে ১০৫ ডিগ্রী ফা. পর্যন্ত হতে পারে। জ্বর থাকে ৫ দিন বা কিছু বেশি দিন। প্রতি পর্যায়ে জ্বর সাধারণত ২৪ থেকে ২৮ ঘন্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। জ্বরের সাথে অল্প বা তীব্র কাঁপুনি থাকতে পারে।
এক বা একাধিক অস্থিসন্ধিতে (জয়েন্ট) ব্যথা অন্যতম প্রধান লক্ষণ। ব্যথার পাশাপাশি অস্থিসন্ধি ফুলে যেতে পারে। অস্থিসন্ধির মধ্যে হাত ও পায়ের ক্ষুদ্র অস্থিসন্ধিগুলো, হাঁটু, কাঁধ ও মেরুদণ্ডের অস্থিগুলোও আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়াও চামড়ায় ছোপ ছোপ বা গুটি গুটি লাল থেকে সাদা দাগ দেখা দেয়। গলা ব্যথা, পেট ব্যথা, চোখ ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া ও মুখের চারপাশে ঘা হতে পারে।
চিকিৎসা : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসা শুরু করতে হবে বাড়ীতেই। যেমন- বিশ্রাম নেওয়া। অধিকাংশ চিকুনগুনিয়া রোগীদের প্রধান সমস্যা ব্যথা। ব্যথা হতে পারে দুই ধরনের। যেমন- মাসল পেইন ও জয়েন্ট পেইন। মাসলের দুর্বলতার কারণে মাসল ব্যথা হয়। কোন কোন রোগী প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে, ব্যথার কারণে তার দৈনিন্দন জীবনে কাজ-কর্ম ব্যাহত হয়। জয়েন্টে স্টিফনেসের কারণে নড়া-চড়া ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের সময় ব্যথা অনুভব হয়। চিকুনগুনিয়া রোগীদের ব্যথা ও স্টিফনেস কমানোর ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্ট ক্লিনিক্যাল রিজিওনিং এর মাধ্যমে চিকুনগুনিয়া রুগীর চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করেন। সতর্কতার সাথে রোগীর ব্যথার মাত্রা, ব্যথার স্থান নির্ধারণ করে থাকেন। অস্থিসন্ধি ও মাসলপেশীর ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। ব্যথা উপশমের জন্য কিছুটা স্বল্প পরিশ্রমের ব্যায়াম করা মাসল ও অস্থিসন্ধি ব্যথার জন্য খুবই উপকারী। এটি ব্যথা কমাতে ও মাসল শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
ব্যথা কমানোর জন্য ব্যথার জায়গায় নারিকেল তেল লাগিয়ে তার উপর বরফের সেক ব্যবহার করলে বেশি উপকার হয়। সাথে সাথে সঠিক এক্সারসাইজ করতেই হবে। অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট নির্দিষ্ট মাসল গ্রুপের উপর ম্যানুয়াল থেরাপি প্রদান করেন। ফিজিওথেরাপিউটিক সেশন-এ স্ট্রেচিং ও স্ট্রেন্দ্রেনিং এক্সারসাইজ জয়েন্ট ব্যথা ও স্টিফনেস কমায়। এই চিকিৎসা জয়েন্টের রেঞ্জও বৃদ্ধি করে।
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার পাশাপাশি প্রচুর জুস, পানি বা লবণ পানি রোগীকে খাওয়ানো যেতে পারে। এছাড়াও ফ্যাটি এসিড, সিলেনিয়াম, জিংক, ভিটামিন ই ও সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া যেতে পারে। রোগীকে মশারির ভেতরে অবস্থান করতে হবে। দিনের বেলা পুরুষরা ফুল হাতা শার্ট, প্যান্ট এবং নারীরা শাড়ি, ওড়না ব্যবহার করা যেতে পারে।
যেহেতু এ রোগের চিকিৎসার কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি সেহেতু সর্বপরি ফিজিওথেরাপি চিকৎসা যেমন- বরফের সেক, ম্যানুয়্যাল থেরাপি, চিকুনগুনিয়া রোগীদের ব্যথা, স্টিফনেস, ফুলে যাওয়া কমানোর ক্ষেত্রে একটি দিগন্তকারী ভূমিকা রাখে এবং যা ক্লিনিক্যালি প্রমাণিত চিকিৎসা পদ্ধতি।
লেখক : মাস্কুলোস্কেলিটাল বিশেষজ্ঞ
লেজার ফিজিওথেরাপি সেন্টার
পান্থপথ, ঢাকা।    
০১৭৬৫ ৬৬ ৮৮ ৪৬

printer
সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্য ও জীবন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd