ঢাকা : বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর, ২০১৭ ১১:৪০:৩৪আপডেট : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ১২:৪৪:১৬
চলে গেলেন নাজ গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন মো. নজরুল ইসলাম, রেখে গেলেন স্বপ্নের বিদ্যাপিঠ
এ কে নাহিদ

 

পৃথিবীতে কিছু মানুষ যারা নিজেকে আলোকিত করেন মানবিক গুণাবলীতে। আর আলো ছড়িয়ে দিতে চান হাজারও জনে। সেরকম একজন আলোকিত মানুষ লায়ন মোঃ নজরুল ইসলাম। সেই মানুষটি ১১ অক্টোবর  সকাল ৮টায় রাজধানীর নাখালপাড়ার নিজ বাসায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। তিনি স্ত্রী সৈয়দা আমেনা ইসলাম, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রহী রেখে গেছেন।
তাঁর প্রতি আমরা টাইমওয়াচ পরিবার গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং মরহুমের জন্য মাগফিরাত কামনা করছি।
লায়ন নজরুল ইসলামের বড় মেয়ে নাজিয়া ইসলাম ঈতিশা রহীমআফরোজ কোম্পানিতে এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে কর্মরত ও ছোট মেয়ে নওরিন ইসলাম নাতাশা যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি গবেষক হিসেবে রয়েছেন। এ ছাড়া এক ছেলে ইজহারুল ইসলাম উদয় ঢাকায় লেখাপড়া করছেন।
লায়ন নজরুল ইসলাম ১৯৫৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের ভায়েটা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলভী আব্দুল কদ্দুস ও মা রওশন আরা বেগম। ৬ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।
সফল ব্যবসায়ী লায়ন নজরুল ইসলাম টাঙ্গাইল জেলা সমিতির সভাপতি ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। এ ছাড়া আব্দুল কুদ্দুস দাখিল মাদ্রাসা ও ভোট বাসালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়েরও প্রতিষ্ঠাতা তিনি।
এই গুণী ব্যক্তিত্বের জন্ম ২৮ ডিসেম্বর ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দ (সার্টিফিকেট অনুযায়ী ২৮ মে ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দ)। লায়ন মো. নজরুল ইসলাম তরুণ সমাজের প্রতি এবং দেশের প্রতিটি দেশের প্রতিটি বিত্তবান মানুষের জন্য একটি আদর্শ, অনুপ্রেরণার উৎস। কেননা ছোটবেলা থেকে পারিবারিক বৈসম্যের শিকার হয়ে, দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হয়েও তিনি জীবনের হাল ছেড়ে দেন নি বরং এইসব বাধা-বিপত্তিই তাকে অনুপ্রাণিত করেছে আজকের  এই সফলতা অর্জন করতে। তিনি প্রবল ইচ্ছা ও কল্পনা শক্তির অধিকারী। তিনি উদ্যোমী, পরিশ্রমী ও একনিষ্ঠ চিত্তের অধিকারী। তিনি জীবনে কখনও পরাজিত হতে শেখেননি। এক সময় তার কিছুই ছিলনা কিন্তু তার পরিশ্রমের জোরে তিনি আজ প্রতিষ্ঠিত সমাজের বিত্তবানদের মাঝে একজন। তিনি তার এই কষ্টে অর্জিত ধন সম্পদ শুধু নিজের আরাম-আয়েশে বা বিলাসিতায় খরচ করেননি বরং সমাজের কল্যাণে, অসহায় দরিদ্রের সাহায্য করে, শিক্ষাক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে সমাজের মানুষের কাছে তিনি এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আজকের সুপ্রতিষ্ঠিত অবস্থান অর্জন করতে হয়েছে সংগ্রাম করেই। তাই, তাকে “সেলফ মেইড ম্যান” বললেও মোটেও অত্যুক্তি হবে না। লায়ন মো. নজরুল ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি নাজ গ্রুপ অফ কোম্পানিজ এর চেয়ারম্যান।
লায়ন মো. নজরুল ইসলাম ব্যবসায়িক জীবনে দেশের প্রথম সারির একজন জনশক্তি রপ্তানিকারক।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে জনশক্তি রপ্তানির মত অতি মহৎ এবং অতি জটিল-কঠিন কাজ করতেন সুনামের সঙ্গে। জনশক্তি রপ্তানি থেকে অর্জিত বৈদেশিক মূদ্রা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছে। লায়ন নজরুল ইসলাম তার এ ব্যবসা থেকে অর্জিত আয়ের কিছু অংশ ব্যয় করে চলেছেন কলেজটির অগ্রগতির জন্য। সরকারি অনুদান পাওয়ার পূর্বে কলেজ পরিচালনার কাজটি হয়েছে তার নিজস্ব অর্থায়নে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা- বোনাসই শধু নয়, ছাত্র-ছাত্রীদের বই কেনা থেকে শুরু করে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ছাত্র-ছাত্রীদের ভাল ফল করলে তাদের নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী দ্বারা পুরস্কৃত করা হয়। শুধু তাই নয়, ভাল ছাত্র-ছাত্রীর বাবা-মাকেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কৃত করে থাকেন।
ব্যক্তি উদ্যোগে তিনি নিজ গ্রাম ভায়েটায় বিশাল জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন সময়োপযোগী আধুনিক ও মানসম্মত লায়ন নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। পূর্ব পাকিস্থানের আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে লায়ন নজরুল ইসলাম ছিলেন দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আর্থিক সামর্থ না থাকলেও তার বাবা মৌলভী আব্দুল কদ্দুস ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী উদ্যোগী মানুষ। তিনি অন্যদের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে নিজ গ্রামে একটি মাদ্রাসা চালু করেছিলেন। ইচ্ছা থাকলে যে উপায় হয়ে যায়Ñ এই বিষয়টি লায়ন নজরুলর মনে ছোটবেলাতেই দাগ কেটেছিল। সে সময় তার নিজেরও ইচ্ছে হয়েছে বড় হয়ে কিছু একটা করার। ফলে পড়াশোনা চলে গেলেন নাজ গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন মো. নজরুল ইসলাম, রেখে গেলেন স্বপ্নের বিদ্যাপিঠ
শেষে ব্যবসা করে যখন তিনি স্বচ্ছলতা পেলেন তখনই হাত দিলেন কলেজ প্রতিষ্ঠায় যদিও এটি ছিল দুঃসাহসিক একটি উদ্যোগ অন্তত লায়ন নজরুল ইসলাম এর মতো একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে। জনশক্তি রপ্তানীর মত মহৎ পেশার মাধ্যমে লায়ন মোঃ নজরুল ইসলামের অর্থনৈতিক মুক্তি আসার পর তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে তিনি এগিয়ে যান। তাই ১৯৮৯ সালের ১৫ মার্চ গ্রামে কলেজ প্রতিষ্ঠা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন। নানা কারণে কিছুটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ১৯৯৩ সালের ৫ নভেম্বর এ প্রেক্ষিতে প্রথম সভা অনুষ্ঠান করেন। ১৯৯৩ সালের ২৯ মার্চ শুরু হয় কলেজের মাটি ভরাটের কাজ। কলেজে নির্মাণ কাজ ও শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ১৯৯৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। উদ্বোধন করেন তৎকালীন মন্ত্রী ব্যারিস্টার মরহুম আব্দুস সালাম তালুকদার।
 
লায়ন নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ যেন অন্য এক শান্তি নিকেতন
টাঙ্গাইলের নিভৃত পল্লী ভায়েটা এখন শিক্ষা গ্রাম। প্রায় ৭০ বিঘা জমির ওপর অনেকটা শান্তি নিকেতনের মত চমৎকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সৌহার্দ্যরে সেতু বন্ধন নিয়ে সুশিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে  লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ। মেইন রাস্তায় কলেজ গেটের দুপাশে সারিবদ্ধ বৃক্ষগুলো যে কোন দর্শনার্থীকেই কাছে টেনে নেয়। গেটের রাস্তার দক্ষিণ পাশে বিশাল পুকুর মসজিদের সিঁড়ি স্পর্শ করেছে। অবশ্য মসজিদটিই পরে স্থাপিত হয়েছে, ফলে বলায় মসজিদের নান্দনিক সিড়িঁ নামতে নামতে পুকুরে নেমে এসেছে একদম পানির ছোঁয়ায়। দুপুরের রোদ ক্লান্ত ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এমনকি যে কোনো দর্শনার্থী এই কলেজে ঢুকে নিজেকে প্রশান্তির ছায়ার মধ্যে আবিষ্কার করতে পারবেন। এ কলেজ ৩/৪টি বিষয়ে অনার্স পড়ানোর অনুমোদন করেছে। ২০১৩ সাল থেকে অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। তার বিশ্বাস আগামী ১০ বছরের মধ্যেই এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে।
 
টাঙ্গাইল শহর থেকে ৭/৮ মাইল ভেতর যা কোন উপজেলা সদর নয় কিংবা ইউনিয়ন পর্যন্ত নয় সেই গ্রামে এই কলেজের কারণে ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁযা পরিলক্ষিত হলো। এই কলেজের পাশেই ভায়েটা সরকারি প্রাইমারি স্কুল, আব্দুল কদ্দুস দাখিল মাদ্রাসা, মাদানিয়া দারুল উলম মাদ্রাসা এবং পাশের ছোট বাসালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভায়েটাকে শিক্ষানোখিত গ্রামে পরিণত করেছে। এর পেছনে একজন লায়ন নজরুল ইসলামের রয়েছে ব্যাপক অবদান। লায়ন নজরুল ইসলাম ভায়েটা গ্রামে লায়ন নজরুল ইসলাম কম্পিউটার এডুকেশন চালু করে গ্রামের আগ্রহী ছাত্রীদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ এনে দিয়েছেন।
 
শুরু মুহূর্তে লায়ন নজরুল নিজের অর্থায়নে জমি, কলেজের ভবন, ছাত্রাবাস ইত্যাদি নির্মাণ করেছিলেন। ইতোমধ্যে সরকারিভাবে ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিজ্ঞান ভবন, ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কলা ভবন, ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে একাডেমিক ভবন ও ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ করা হয়েছে। নজরুল ইসলামের চলে গেলেন নাজ গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন মো. নজরুল ইসলাম, রেখে গেলেন স্বপ্নের বিদ্যাপিঠ
প্রত্যাশা একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর সুনাম ও সুখ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ুক।
 
ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
লায়ন নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ একটি ব্যতিক্রম ধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি ধুমপানমুক্ত এবং একই সাথে রাজনীতিমুক্ত। এখানে শিক্ষক শিক্ষিকাদের ১শ’ ভাগ উপস্থিতির জন্যে যেমন পুরস্কার আছে ছাত্র-ছাত্রীদের বেলায়ও তাই। ভালো ছাত্রদের জন্যে আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়। দরিদ্র ছাত্রদের বিনা বেতনে পড়ানো হয়। লায়ন নজরুল ইসলাম একজন স্বপ্নদর্শী মানুষ। তিনি তার ব্যবসা ক্ষেত্রে যেমন আন্তরিক, তেমনি শিক্ষাসহ সমাজকল্যাণমূলক কাজেও বেশ তৎপর। ইতোমধ্যে ফলাফলের দিকে থেকে এ কলেজটি দেশের শীর্ষ কয়েকটি কলেজের মধ্যে নিজেদের অবস্থান তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের রেজাল্টের ওপর শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট কিংবা পদোন্নতি নির্ভরশীল। এ কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়তে হয়না। তাদেরকে ক্লাসেই উন্নত শিক্ষা প্রদান করা হয়। অর্থাৎ পড়ানোর ব্যাপারে শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট দায়বদ্ধ যা অন্য কোথাও নেই।
 
 
এ কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নির্ধারিত ড্রেস পড়তে হয়। এতে সবার মধ্যে একটা ভ্রাতৃত্ববোধ এবং অধিক আন্তরিকতা গড়ে ওঠে। সাধারণ মানুষও বুঝতে পারে এরা কোন কলেজের ছাত্র। লায়ন নজরুল ইসলাম এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কাজ করার ইচ্ছা থাকলে অর্থ কিংবা অন্য কোন বাঁধা কঠিন কিছু নয়। প্রচেষ্টা এবং কাজের প্রতি মমত্ববোধ থাকলে সফল প্রতিবন্ধকতা ঠেলে এগিয়ে যাওয়া যায়। তিনি তার নিজের স্বপ্ন সম্পর্কে বলেন, কলেজ থেকে এখন এটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তরিত হয়েছে ইনশাআল্লাহ এটি ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।
 
 
নিয়মিত সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা
এ কলেজে স্কাউটিং ও খোলাধুলার পাশাপাশি নিয়মিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা হয়ে থাকে। এতে প্রতিষ্ঠাতা লায়ন নজরুল ইসলাম সব সময় উৎসাহ প্রদান করেছেন। কলেজের স্থায়ী মঞ্চে রীতিমত নাটক, গান ও স্বরচিত কবিতা পাঠ করে ছাত্র-ছাত্রীরা। লায়ন নজরুল ইসলাম তাদের পারফরমেন্সে খুশী হয়ে মুহূর্তেই উপহার সামগ্রীর ব্যবস্থা করতেন। এদের অনেকের মধ্যেই দারুণ প্রতিভাবান, সুযোগ পেলে দেশখ্যাতি লাভে সক্ষম হবে।
 
এক নজরে কলেজের বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ১২০০ জন। শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা যথাক্রমে ৪৮ ও ১৪ জন। পাকা ভবন ৫ টি, আধা পাকা (টিনশেড) ৫ টি। ৩ টি ছাত্রাবাস ( মৌলভী আব্দুল কদ্দুস ছাত্রাবাস, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ছঅত্রাবাস ও বেলায়েত হোসেন ছাত্রাবাস) ও ১টি ছাত্রীনিবাস ( বেগম সুফিয়া কামাল ছাত্রীনিবাস) রয়েছে। কলেজ লাইব্রেরীতে বই ও জার্নালের সংখ্যঅ প্রায় ৭০০০। কলেজ  ক্যাম্পাসে প্রায় ২০০০ ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রয়েছে। কলেজচলে গেলেন নাজ গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন মো. নজরুল ইসলাম, রেখে গেলেন স্বপ্নের বিদ্যাপিঠ
ক্যাম্পাসে রয়েছে ৩ টি পুকুর ও ১টি আধুনিক স্থাপত্য শৈলী সমৃদ্ধ মসজিদ।
 
সাংগঠনিক তৎপরতা
তিনি সাধারণ সম্পাদক (২০০২-২০০৫) টাঙ্গাইল জেলা সমিতি, ঢাকা; সাবেক সাংস্কৃতিক ও জনসংযোগ সম্পাদক বায়রা এবং আজীবন সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশন, লায়ন চক্ষু হাসপাতাল, ধানমন্ডি রিক্রিয়েশন ক্লাব।
 
ভ্রমণ
১৯৭৩ সালের ১১ জানুয়ারী সাইকেলে সারা বাংলাদেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে করটিয়া সা‘দত কলেজ থেকে যাত্রা শুরু করে ৬৪ দিনে ২৫৫৩ মাইল ভ্রমন করেন। চার জনের মধ্যে লায়ন নজরুল ইসলাম ছিলেন দলনেতা। ১৯৭৪ সালে  মে মাসে করটিয়া সা‘দত কলেজ থেকে তিন জনের দল নেতা হিসেবে যাত্রা শুরু করে ২৪ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। ২৭ মে আকাশবাণীতে সাক্ষাতকার দেন। ২৮ জুন ১৯৭৪ সালে ভারতের প্রক্তন প্রধানমন্ত্রী  ইন্দ্রিরা গান্ধীর সাথে সাক্ষাত করে সাইকেলে আংশিক ভারত ভ্রমণ করেন।
 
আন্তর্জাতিক লায়ন কনফারেন্সে যোগদানের জন্য ১৯৯৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ১৯৯৫ সালে কোরিয়া, ১৯৯৮ সালে ইংল্যান্ড, ২০০০ সালে আমেরিকা, ২০০২ সালে জাপান ভ্রমণ করেন। এছাড়াও থাইল্যান্ড, ভারত, পাকিস্থান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নেপাল, সৌদি আরব, হংকং, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, মস্কো, চীন, উজবেকিস্থানসহ আরো অনেক দেশ ভ্রমণ করেন।
 
স্বীকৃতি সম্মাননা প্রাপ্তি
লায়ন্স ক্লাব সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেলভীন জোনস ফেলো-১৯৯৪, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন স্মৃতি পরিণদ থেকে শিল্পাচার্য স্বর্ণ পদক-১৯৯৪, লায়ন্স ক্লাবের প্রথম লায়ন্স স্বর্ণ পদক-২০০০ (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে গ্রহণ করেন), দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস স্বর্ণ পদক-২০০০, ২০০২ সালে প্রান্তর চোখ সাহিত্য চলে গেলেন নাজ গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন মো. নজরুল ইসলাম, রেখে গেলেন স্বপ্নের বিদ্যাপিঠ
পুরস্কার, অতিস দীপঙ্কর স্বর্ণ পদক, অর্থকণ্ঠ, মুক্তধারা পুরস্কার উল্লেখযোগ্য।
 
শখ
বাগান করা, ছবি তোলা (তার সংগ্রহ করা আছে ৩২ হাজার ছবি), ভিডিও করা (ভিডিও করা আছে ১৫০ টির মত), উপহার ও পুরস্কার দেওয়া, ভ্রমণ করা এবং দান করা তার শখ ছিল।
 
৫০ বছর পূর্তি ও আমার জীবন আমার সংগ্রাম বই প্রকাশ
বইটির মোড়ক উন্মোচন কালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বাংলাপিডিয়ার প্রধান সম্পাদক ড. সিরাজুল ইসলাম, সাবেক পরিবেশ ও বন মন্ত্রী শাজাহান সিরাজ, সাবেক জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এ. কে. এম মোশারফ হোসেন, সাবেক জেলা গভর্নর সিরাজুল ইসলাম, ভাইজান মো. রফিকুল ইসলাম, ঢাকাস্থ টাঙ্গাইল জেলা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আ.ফ. ম. খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
 
বিশ্বাস
লায়ন নজরুল ইসলাম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, “প্রত্যেকের আয়ের একটা অংশ সমাজ কল্যাণে ব্যয় করা উচিত”।
লেখক: সম্পাদক, পাক্ষিক টাইমওয়াচ ও ডেইলি অনলাইন নিউজ পোর্টাল http://timewatch.com.bd/

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd