ঢাকা : বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর, ২০১৭ ০৯:৫৫:১৫আপডেট : ১৫ অক্টোবর, ২০১৭ ১৭:৪১:০২
থামছেনা সুন্দরবনের হরিণ শিকার
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা


 


বাঘের লাফ বিশ হাত, হরিণের লাফ একুশ হাত। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় এই প্রবাদবাক্যটি বহুল প্রচলিত। কিন্তু বাস্তবে হলো বাঘের থাবা ও সুন্দরবনের বনদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেলেও শিকারির ফাঁদ ও বন্দুকের গুলি থেকে রেহাই পাচ্ছে না সুন্দরবনের চিত্রল হরিণ।

সুন্দরবনের গহিনে সম্প্রতি কোস্টগার্ডের অভিযান চালিয়ে হরিণের মাংসসহ নৌকা আটক করলেও কোনো শিকারিদের আটক করা হয় না। সুন্দরবনে বনদস্যু অনেকটা কমে গেলেও হরিণ শিকারিদের এই চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, মুন্সীগঞ্জ, কৈখালী, রমজাননগর ইউনিয়নের সুন্দরবন সংলগ্ন অধিকাংশ গ্রামে নিয়মিত বিক্রয় হচ্ছে হরিণের মাংস। দিন দিন এই প্রবণতা বাড়ছে, তবে বনবিভাগের দাবি শিকারিদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, ভোজনবিলাসী মানুষের কাছে হরিণের মাংসের ব্যাপক কদর রয়েছে। এ জন্য তারা চড়া মূল্য দিতে দ্বিধাবোধ করে না। ফলে ৫০০-৬০০ টাকা দরে বিক্রয় হয়ে থাকে।

হরিণ শিকারি ও মাংস ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রশাসনের কাছে থাকলেও ওইসব শিকারি ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ওইসব শিকারি ও মাংস ব্যবসায়ী বিশেষ করে বনবিভাগসহ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এড়িয়ে চলে।

এদিকে বনবিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা উৎকোচের মাধ্যমে সুন্দরবনে নিষিদ্ধ অভয়ারণ্য এলাকায় চোরা শিকারিদের, জেলে বাওয়ালিদের সুযোগ করে দেওয়ায় সুন্দরবন আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

এ বিষয়ে কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা মিঠু তালুকদারের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বনবিভাগের কেউ কোনো উৎকোচ নেয় না, যদি এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, মরাগাং টহল ফাঁড়ি ও টেংরাখালী টহল ফাঁড়িকে জোরালো টহলের নির্দেশ দিয়েছি। আমি নিজেও এলাকায় টহলে নামব।

সরেজমিন তদন্তে জানা যায়, আগামী নভেম্বরে দুবলার চরে রাশ মেলায় শ্যামনগর থেকে কয়েক হাজার দর্শনার্থী যাবেন। যার বেশির ভাগ যাত্রীর একটাই উদ্দেশ্য নিজ হাতে হরিণ শিকার করে রান্না করে খাওয়া। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আয়োজক বলেন, অন্য বছরের থেকে এ বছর শিকারি ভাড়া করতে তাদের অনেক বেশি পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। নতুন ও উন্নত সব বন্দুক সংগ্রহ শুরু হয়ে গেছে। প্রশাসনকে ঠিক সময়ে ম্যানেজ করে লুকিয়ে এসব অস্ত্র হরিণ শিকারে ব্যবহার করা হবে। সেজন্য এবারের ভ্রমণ খরচ একটু বেশি হচ্ছে।

সচেতন মহলের দাবি, বন টহলে র‌্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ব্যবস্থা করলে জাতীয় সম্পদ রক্ষা পাবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd