ঢাকা : মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর, ২০১৭ ১৭:২০:৪২
গুরুদাসপুর বেগম রোকেয়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে নানা সংকটে পাঠদানে ব্যাহত
নাটোর সংবাদদাতা


 


নাটোরের গুরুদাসপুর বেগম রোকেয়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবন ও শ্রেণিকক্ষ সংকটে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এমন সংকট চললেও সমস্যার সমাধান মিলছে না। অথচ ২০১৬ সালে উপজেলার সেরা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।
১৯৬৩ সালে এলাকার কতিপয় হিতৈষি ব্যক্তির উদ্যোগে নারী শিক্ষা প্রসারে চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র গুরুদাসপুর পৌরসভায় বেগম রোকেয়া গার্লস স্কুল নামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে মাত্র ৪জন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের ব্যবধানে এখন উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান করছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক-ভোকেশনাল ও কলেজ শাখা মিলে ১ হাজার ২৫০ জন ছাত্রী রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিকে ৮৫০ জন, এসএসসি (ভোক) ২০০ জন এবং কলেজ শাখায় ২০০জন ছাত্রী রয়েছে। বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৫৮জন। শিক্ষার্থী অনুপাতে রয়েছে শিক্ষক সংকটও।  কিন্তু  শিক্ষার্থী অনুপাতে ভবন, পাঠদান কক্ষ, বসার জায়গাসহ পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা রয়েছে অপ্রত্যুল। এছাড়াও ছাত্রীদের বিশ্রামাগার, বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরী, ছাত্রী হোস্টেল না থাকায় বিঘœ হচ্ছে পাঠদান।
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সকালে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানা গেছে, দশম শ্রেণির ছাত্রীরা (এসএসসি’র পরীক্ষার্থী) পাঁচটি কক্ষে নির্বাচনী পরীক্ষা দিচ্ছে। অন্য কক্ষগুলোতে গাদাগাদী করে বসে চলছে ক্লাশ। সপ্তম-অষ্টম ও নবম শ্রেণির ছাত্রীদের পাঠদানের কক্ষে থাকার কথা থাকলেও তারা কক্ষ সংকটের কারণে বেশিরভাগ ছাত্রী মাঠে সময় কাটাচ্ছে।
বন্যা, মৌরী, শশী, ঐশিসহ কমপক্ষে ১৫জন ছাত্রী জানায়, পাঠদান কক্ষ ও বসার জায়গা সংকট রয়েছে তাদের। নেই বিশ্রামাগারও। পাঁচ হাজার বই থাকলেও পাঠাগার না থাকায় বই পড়ে সময় কাটানোর উপায় নেই তাদের। প্রতিদিনই ক্লাশে বসার প্রতিযোগীতা করতে হয়। অনেক সময় ক্লাশ করাই সম্ভব হয় না। তখন বিদ্যালয় মাঠে সহপাঠীদের সাথে আড্ডায় সময় কাটাতে হয়। নেই নামাজ ঘর, ছাত্রী হোস্টেল। রয়েছে টয়লেট স্বল্পতাও।
অন্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীদের জন্য বিজ্ঞানাগার নেই। পর্যাপ্ত উপকরণ একটিমাত্র আলমারীতে রাখা হয়েছে। মানব কঙ্কালটি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বাইরে। কলেজ ও এসএসসি (ভোক) শাখার ছাত্রীদেরও একই রকম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান জানান, উপজেলার নারী শিক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠানটিতে নানা সমস্যা থাকলেও ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ৯৯%ভাগ, এইচএসসি পরীক্ষায় ৭৯%ভাগ, ২০১৫ সালে এসএসসিতে ৯৬%ভাগ, এইচএসসি পরীক্ষায় ৭৩%ভাগ এবং ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ১০০%ভাগ এইচএসসি পরীক্ষায় ৭০%ভাগ পাশের হার অর্জন হয়েছে। ২০১৬ সালে উপজেলার সেরা প্রতিষ্ঠানের গৌরব অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির পরিসংখ্যান বলছে, দুইটি দ্বিতল পাকা ভবনে মোট ১৫টি কক্ষ রয়েছে। এরমধ্যে ৫টি কক্ষ ব্যবহার হচ্ছে অধ্যক্ষের অফিস, নারী-পুরুষ শিক্ষকদের পৃথক কক্ষ, একটিতে বিজ্ঞানাগারে যন্ত্রপানি ও আপ্যায়নের উপকরণ এবং অন্যটিতে রাখা হয়েছে বইপত্র। অপর ১০টি কক্ষে পালা করে চলে পাঠদান। সাম্প্রতিক ঝড়ে ৬০ ফুট লম্বা একটি টিনশেড ঘর বিধ্বস্ত হয়। সেই ঘরের চারটি কক্ষে চলে কলেজ শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
মাধ্যমিক পর্যায়ে ষষ্ঠ-সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে ছাত্রী বেশি রয়েছে। এসব শ্রেণির প্রত্যকটিতেই তিনটি করে (ক,খ,গ) শাখায় ৭০-৮০জন করে ছাত্রী রয়েছে। প্রতিটি কক্ষে গড়ে ২০ জোড়া করে বেঞ্চ দরকার হলেও রয়েছে ১৩ জোড়া করে। এ কারনে প্রতিটি শ্রেণিতে শতভাগ ছাত্রী ক্লাশ করতে পারে না।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, পাঠদান কক্ষ ও বসার জায়গা স্বল্পতার কারনে প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫% ভাগ ছাত্রীর উপস্থিত কম থাকছে বিদ্যালয়ে। প্রায় একযুগ ধরে এমন সমস্যায় চলছে পাঠদান। কিন্তু স্থায়ী সমাধান হচ্ছেনা। স্থানীয় সাংসদের সহায়তায় দুই বছর ধরে একটি দ্বিতল ভবনের জন্য ফ্যাসিলিটিজ দপ্তরে আবেদন ও  প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর দাবী জানানো হয়েছে। দাবী বাস্তবায়ন হলে চলনবিল অধ্যুষিত গুরুদাসপুর উপজেলায় নারী শিক্ষার প্রসার ঘটবে বৈপ্লবিকভাবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, নারী শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি নানা সমস্যার মাঝেও শিক্ষায় অবদান রাখছে। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে নানা সমস্যা থাকলেও শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে পড়ালেখায় ভালো করছে। তবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী জাতির উৎসর্গকৃত দান, পাশাপাশি মৃত্যুঞ্জয়ী বেগম রোকেয়ার জাগরণী গান- দু’য়ের মিলিত শক্তিকে চিরঞ্জীব রাখার জন্য বেগম রোকেয়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কে বিশেষ বিবেচনায় জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। একই সাথে সার্বিক সমস্যার সমাধানের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
শিক্ষা পাতার আরো খবর

Developed by orangebd