ঢাকা : মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:০০:৪৫আপডেট : ২৬ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:০১:০৭
লাকসামে সড়ক সংস্কারের অভাবে জন চলাচলে চরম দূর্ভোগ
লাকসাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা


 


ধসে গেছে পাকা সড়ক, সড়ক তো নয় জীবনের মরনফাঁদ। তবুও প্রয়োজনের তাগিদে চলাচল করছে জনসাধারন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে গিয়ে মাঝে মধ্যে ঘটছে দূর্ঘটনা। সড়কটি হচ্ছে লাকসাম উপজেলা গোবিন্দপুর ইউনিয়নে মোহাম্মদপুর, ইছাপুরা হতে গজরাপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৮ কিঃ মিঃ সড়কের মধ্যে ৫ কিঃ মিঃ পাকা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের বর্তমান বেহাল দশা দেখে মনে হয় যেন মৃত্যুর ফাঁদ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলা ৪নং গোবিন্দপুর ইউণিয়নে লাকসাম- মনোহরগঞ্জ সড়কের সংযোগ মোহাম্মদপুর মনু চেয়ারম্যান বাড়ীর সামনে থেকে তারাপাইয়া, ইছাপুরা, সাতঘর, বাতাবাড়িয়া, শ্রীরামপুর, চিবাখোলা, গজারিয়াপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, ইসলামপুর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৮ কিঃ মিঃ সড়কটির মধ্যে ৫ কিঃ মিঃ পাকা রাস্তা সংস্কারের অভাবে প্রায় ১৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের চলাচলের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হতে হচ্ছে। প্রায় পুরো সড়কেই কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজারের সাথে একমাত্র যোগাযোগের ভরসা এ সড়ক।  ব্যস্ত এ সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত যানবাহন  ও পথচারী চলাচল করে থাকেন। রাস্তাটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথে ওৎপ্রতো ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি অংশ বিশেষ ধ্বসে যাওয়ায় চলাচলে চরম দূর্ভোগে স্বীকার হচ্ছে প্রায় ১৫টি গ্রামের ২০-২৫ হাজার মানুষ ও স্কুল ও কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা চরম দূভোর্গ পোহাচ্ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধরোগী ও গর্ভবতী মায়েদের প্রসবকালীন অবস্থায় দ্রুত এম্বুল্যান্স করে  হাসপাতালে নিতে সমস্যায় পড়তে হিমশিম খাচ্ছে। এ সড়কের পাশে রয়েছে প্রায় ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ যেন জীবনের কাল শত্রু। সংস্কারের অভাবে বর্তমানে যানচলাচল হুমকির মধ্যে পড়ছে। বাধ্য হয়ে যাতায়াত করলেও তাদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। রাস্তাটি এমন বেহাল অবস্থা তবুও যেন দেখার কেহ নেই। রাস্তাটির উল্লেখিত স্থানে বহুদিন যাবত মেরামতের অভাবে যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হওয়ায় প্রায় দূর্ঘটনা মুখোমুখি হচ্ছে পথচারী ও হাটুরে। এ রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় নানা ধরনের যানবাহন উল্টে প্রায় আহত হচ্ছে পথযাত্রী।  রাস্তা খানাখন্দ থাকায় রিক্সা, ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ও সিএনজি চালিত অটোরিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহনে যাতায়াত করতে গিয়ে তীব্র ঝুকিতে যাত্রীদের অবনর্নীয় কষ্ট হচ্ছে। সড়কের উভয়পাশে মাটিও ধ্বসে পড়ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টি পানি রাস্তায় জমে থাকায় রাস্তাঘাটে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মালবাহী ট্রাকও অন্যান্য যানবাহন অতিরিক্ত মাত্রায় চলাচলের কারনে রাস্তাটি ব্যবহারে সম্পূর্ন অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী বেহাল অবস্থা থাকারপরও প্রতিদিন মারাত্মক ঝুকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে শত শত বিভিন্ন প্রকার যানবাহন চলাচল করছে। এসব যানবাহন প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করার কারনে কোন স্থানে দূর্ঘটনা ঘটিয়ে সাধারন মানুষের যানমালের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে চলছে।
ইছাপুরা সেন্ট্রাল হাইস্কুলের পড়–য়া শিক্ষাথী নাজমা আক্তার, ফাহমিদা ইয়াছমিন, সুমি আক্তার, রফিকুল হাসান, সরোয়ার হোসেন বলেন, দুই মাস আগে অটোরিক্সা করে এ সড়ক দিয়ে স্কুলের আসার সময় ২ অটোরিক্সা মুখোমুখি গর্তে পড়ে ডোবাতে পড়ে যাই। এতে চালকসহ আমরা কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী হাতে পায়ে আঘাত পাই। সাথে থাকা বই খাতা পানিতে ভিজে যায়।  
ইছাপুরা বাজার ব্যবসায়ী সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম মিঠু বলেন এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে এ রাস্তাটি সংস্কার না করায় এ এলাকার মানুষ অনেক কষ্টে যাতায়াত করতে হিমশিম খাচ্ছে। পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। সড়ক সংস্কার করার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা উধর্বতন কর্মকর্তার নিকট লিখিত ও মৌখিক ভাবে অবহিত করার পরও আমরা এখনও প্রতিকার পাচ্ছি না।    
ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নিজাম উদ্দিন শামীম বলেন, এ সড়কটি সংস্কার কাজের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে আমরা অতি তাড়াতাড়ি উপজেলা কর্মকর্তাদের হাতে প্রেরণ করা হবে।
উপজেলা এল জিইডি উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন এ সড়কটি সংস্কার না করায় স্থাণীয় এমপি ও পৌর মেয়র অনুরোধে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ রাস্তাটি দু’পাশে  প্রস্থ্য বাড়িয়ে মেরামত করার জন্য অল্প সময়ের মধ্যে এ রাস্তাটি কাজ শুরু  হবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd