ঢাকা : মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০১৭ ১৩:৩৭:০৭আপডেট : ০১ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:০৩:৪০
আইসিটি খাতের উন্নতি হয়েছে : মুহিত
ফেরদৌস হোসেন


 

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা যোগ করে বলেন,  ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নিয়েছে। দেশে আইসিটি খাতে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। ফলে দেশের মানুষ জ্ঞান আহোরণের ব্যাপক সুবিধা পাচ্ছে।
 
১ নভেম্বর বুধবার ঢাকায় শুরু হওয়া জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোস্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্যা প্যাসিফিক (এসকাপ) এর এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে (এপিআইএস) এর স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম অধিবেশনে তিনি একথা বলেন। সকালে দুইদিনব্যাপী এই অধিবেশনের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
 
অর্থমন্ত্রী বলেন, এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে (এপিআইএস) এর স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম অধিবেশন আজ ঢাকা থেকে শুরু হলো। আশা করি, এই অধিবেশনের মাধ্যমে এশিয়ান সুপার হাইওয়ের কনেকটিভিটি বাড়াতে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কানেকটিভিটি যত বাড়বে এই অঞ্চলের দারিদ্রের হারও  কমে আসবে।
 
অনুষ্ঠানের সভাপতি আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্নে করতে জাতিসংঘের এসকাপভুক্ত সকল দেশ মিলে এপিআইএস এর ওয়ার্কিং গ্রুপ একটি মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। এপিআইএস এর এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এপিআইএস এর স্টিয়ারিং কমিটি আগামী দু’দিনে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র, সমন্বয় এবং বাস্তবায়নের কার্যকর উপায় বের করতে সক্ষম হবে বলে আমি আশাবাদী।
 
প্রতিমন্ত্রী এ সময় ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের নানাবিধ কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, আমরা বাংলাদেশের সকল নাগরিককে ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করে চলেছি।২০২১ সালের মধ্যে আমরা সবার জন্য ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে সক্ষম হব।ফলে জ্ঞান আহরণ অনেকটা সহজ হয়েছে।
 
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ইউএনএসকাপ এর প্রোগ্রাম ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি হং জো হাম, রোড ট্রান্সপোর্ট ডিভিশনের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মোফাজ্জল হোসাইন, এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রæপের সভাপতি ও আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বনমালী, ইউএনএসকাপ এ বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা মুনা তাসনিমসহ সহ দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিরা।
 
অতিথির বক্তব্যে ইউএনএসকাপ এর প্রোগ্রাম ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি হং জো হাম বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে অনুকরণীয়।ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা অনেক দেশই গ্রহণ করছে।ফলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে রাইজিং স্টারে পরিণত হয়েছে।
আইসিটি খাতের  উন্নতি  হয়েছে : মুহিত
এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি ও আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, এপিআইএস এর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তা মাথাপিছু নিন্ম ব্যান্ডউইডথ ব্যবহারকারী স্বপ্লোন্নত দেশের জন্য অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে মাথাপিছু ব্যান্ডউইডথ ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পাবে এবং তা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
 
উল্লেখ্য যে, এপিআইএস এর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে স্টিয়ারিং কমিটির এই অধিবেশনে জাতিসংঘের এসকাপভ‚ক্ত ৫৬ দেশের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি  শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছে।এই অধিবেশনে এপিআইএস এর মহাপরিকল্পনায় অন্তর্ভূক্ত কানেক্টিভিটি, ইন্টারনেট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, ই-রেসিলিয়েন্স এবং ব্রডব্যান্ড ফর অল। এই চারটি স্তম্ভ এবং মধ্যবর্তী মেয়াদে (২০১৬-১৮) বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
 
গত ২৯-৩০ আগস্ট ২০১৬ চীনের গুয়াংজুতে এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রুপের এর দ্বিতীয় সভায় বাংলাদেশকে এক বছরের জন্য ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করে।তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
 
এপিআইএস এর চার স্তম্ভ বাস্তবায়ন এশিয়ার প্যাসিফিক অঞ্চলে ডিজিটাল বিভাজন  দূর করায় যেমন ভূমিকা রাখবে তেমনি সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদেশিক ট্রাফিক চলাচলের জন্য বিদ্যমান ব্যয় হ্রাস করবে।একই সঙ্গে স্বল্প ব্যয়ে উচ্চগতির টেরিস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের সুযোগ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় পাতার আরো খবর

Developed by orangebd