ঢাকা : বুধবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • আঞ্চলিক দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশে নারীরা এগিয়ে : চুমকি          তিন হাজার বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে          সরকারের কাজ সম্পর্কে জনগণকে ধারণা দিতেই উন্নয়ন মেলা          পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা : শিক্ষামন্ত্রী           সালেই বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে : মেনন          বিশ্ব ইজতেমায় বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে শতশত মুসুল্লি
printer
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:৩৯:৪৫
জাবিতে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি
তুহিন আহামেদ, আশুলিয়া

 

প্রস্তুতি নিচ্ছেন পিঠা ব্যবসায়ীরা, সকালে একটু একটু নামছে কুয়াশা। রাতের শেষে কম্বল ছাড়া আর জমছে না ঘুম। শিশিরকণা জ্বলজ্বল করতে শুরু করেছে ঘাসের ডগায়। চারদিকে চলছে শীতের আনাগোনা। আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস বলছে, শীত চলে এসেছে। যার প্রমাণ মেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়ে শীতের অতিথি পাখির আগমনে।
এরই মধ্যে মুখরিত হয়ে উঠেছে অতিথি পাখির কলতানে জাবির জলাশয়। যার টানে ক্যাম্পাসে ভিড় করতে শুরু করেছেন অনেক পাখিপ্রেমী। ছোট বড় লাল পদ্মে সুশোভিত অতিথি পাখিভর্তি জলাশয় যেমন নজর কাড়ে পাখিপ্রেমীদের, তেমনি প্রতি শীতেই সুদূর হিমালয়ের উত্তরের দেশ থেকে আসা অতিথি পাখিরা বেছে নেয় জাবির জলাশয় অভয়ারণ্য হিসেবে।
সাধারণত হিমালয়ের উত্তরের দেশ সুদূর সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া ও নেপালে এ সময়টায় প্রচুর তুষারপাত হয়। এ তুষারপাতে পাখিরা মানিয়ে নিতে না পেরে বাংলাদেশের মতো নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে চলে আসে। শীতের শুরুতে আসে এবং শীত চলে গেলে আবার পাখিগুলো চলে যায় তাদের আপন ঠিকানায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়ে যেসব পাখি আসছে তার মধ্যে অন্যতম- সরালি, পিচার্ড, গার্গেনি, মুরগ্যাধি, মানিকজোড়, কলাই, নাকতা, জলপিপি, ফ্লাইপেচার, কোম্বডাক, পাতারি, চিতাটুপি, লাল গুড়গুটি ইত্যাদি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজে ঘেরা প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি এমনিতেই নজর কাড়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের। তাতে আবার বাড়তি যোগ হয়েছে অতিথি পাখি। সব মিলিয়ে যেন প্রকৃতির মিলন মেলা।জাবিতে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি
ভেতরে প্রবেশ করে শহীদ মিনার থেকে একটু সামনে ডান দিকে এগিয়ে গেলেই নজরে আসবে জলাশয়, যাতে ফুটে আছে অসংখ্য ছোট-বড় লাল শাপলা। আর তাতে চলছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অতিথি পাখিদের খেলা, কখনো উড়ছে, কখনো ডুবছে, আবার কখনো চুপটি মেরে বসে আছে।
ষড়ঋতুর এই দেশে শীত যেন উৎসবে পরিণত হয়েছে। আর এ উৎসব পরিলক্ষিত হয় জাবি ক্যাম্পাসের পাখিপ্রেমীদের আনাগোনায়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছোট-বড় ১২-১৫টি জলাশয় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে চারটি জলাশয়ে অতিথি পাখি বেশি বসে। যার মধ্যে প্রশাসনিক ভবনের সামনের লেক, জাহানারা ইমাম ও প্রীতিলতা হল সংলগ্ন লেক, বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশে ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের লেক এবং সুইমিং পুল সংলগ্ন সবচেয়ে বড় লেক। এই লেকগুলোকে অভয়া শ্রম হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, পাখির কলতান, লাল পদ্ম- দূর থেকে তাকালেই প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। সত্যিই যেন নজর কাড়ার যাদু আছে এখানে। তাই ইট-পাথর আর ধুলাবালির শহরে একটু অবসর পেলেই বিশুদ্ধ শ্বাস নিতে আর হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য দর্শনার্থী।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd