ঢাকা : মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:৪২:২৫
অবশেষে চালু হচ্ছে খুলনা-বেনাপোল-কোলকাতা যাত্রীবাহী ট্রেন
এম এ রহিম, বেনাপোল


 


অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে খুলনা-বেনাপোল কলকাতা যাত্রীবাহী মৈত্রী ট্রেন ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ নাম নিয়ে ৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার চালু হচ্ছে ট্রেনটি। বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে এটি চলাচল করবে। ট্রেনটিতে আসন থাকছে ৪৫৬টি। এর মধ্যে এসি চেয়ার ৩১২টি আর কেবিন চেয়ার ১৪৪টি। সীমান্তে কোন পরীক্ষা ছাড়াই যাতায়াত করবে এ ট্রেন। ফলে যাত্রীরা হয়রানির হাত থেকে মুক্ত হবে। বাঁচবে সময়। ট্রেন চলাচলে মহা খুশি যাত্রীরা। তবে ট্রেন ও বগি সংখা বৃদ্ধির দাবী তাদের। ১৬ নভেম্বর থেকে নিয়মিত চলাচল  করবে ট্রেনটি। এরফলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সৌহার্দ্য সম্পৃতি আরো বৃদ্ধি পাবে বলে জানান স্থানীয়রা।
১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যায় খুলনা-কলকাতা রেল চলাচল। গত ৫২ বছর ধরে আশায় ছিলেন দুই বাংলার মানুষ। ব্রিটিশ শাসনামলে চালু হওয়া পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে খুলনা কলকাতা যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করতো। দেশ ভাগের পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০০১ সালে ফের এই রুটে পণ্য পরিবহণ শুরু হয়। সেই থেকে মাঝেমধ্যে মালগাড়িই চলছে। চালু হয়েছে খুলনা বেনাপোল যাত্রীবাহি ্েরটন। দু দেশের মানুষের সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষে ২০০৮সালের ১লা বৈশাখ ১৪ ্রিেপ্রল  ঢাকা কলিকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু শুরু হয়। এখন লাভের মুখ দেখেছে উভয় দেশের মানুষ। এদিকে বেনাপোল পেট্টাপোল স্থল পথে প্রতিদিন ভারত বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করে ১০ হাজারেও বেশী মানুষ। বন্ধন ট্রেনটি চলাচলে সড়ক(স্থলপথে) যাত্রী দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।  
বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কলকাতা-ঢাকা ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ সপ্তাহে তিন দিন চলাচল করলেও বন্ধন চলবে আপাতত সপ্তাহে একদিন প্রতি বৃহস্পতিবার। পরে বাড়ানোর পরিকল্পনার রয়েছে বলে জানান ঐ কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের (পশ্চিমাঞ্চল) চিফ অপারেশন সুপারিন্টেনডেন্ট বেলাল উদ্দিন জানান, ৯ নভেম্বর বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ নামের যাত্রীবাহী ট্রেনের উদ্বোধন করবেন।
“ওদিন কলকাতা থেকে ট্রেনটি শুভেচ্ছা যাত্রা হিসেবে দু’দেশের সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, রেলের ও টেকনিক্যাল কমিটির কর্মকর্তাদের নিয়ে আসবেন। ১৬ নভেম্বর থেকে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিকভাবে খুলনা-কলকাতার মধ্যে বন্ধন এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করবে।”
‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ নামের এই ট্রেনটি খুলনা থেকে কলকাতা ১৭৭ কিলোমিটার রেলপথ পাড়ি দিতে সময় নেবে সাড়ে চার ঘণ্টা। খুলনা রেলস্টেশন ও কলকাতার চিৎপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।
সকাল সাড়ে সাতটায় কলকাতার চিৎপুর থেকে যাত্রী নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় ‘বন্ধন’ পৌঁছুবে খুলনায়। পরে বেলা ২টায় আবার কলকাতার উদ্দেশে খুলনা ছেড়ে যাবে বলে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান।
তবে এখনও পর্যন্ত টিকিটের মূল্য নিয়ে দু’দেশের রেলওয়ে কর্মকর্তারা ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছেন।
 
বেনাপোল রেলষ্টেশন মাষ্টার সাইদুজামান জানান, দু দেশের মধ্যে রেল চলাচলে প্রস্ততি নিচ্ছেন তারা।
উল্লেখ্য-খুলনা বেনাপোল কলিকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলের কথা ছিল ১৪এপ্রিল। পরে ১লা জুলাই ও তৃতীয় দফায় ৩আগষ্ট চালুর উদ্যোগ নিলেও পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে হচ্ছে বাস্তবায়ন। কলিকাতা বেনাপোল টু সুন্দর রেল চলাচলের দাবী জানান সীমান্ত এলাকার মানুষ।
 বাংলাদেশ রেল ম্যাকানিক্যাল ইজ্ঞিনিয়ার মিজানুর রহমান ও  চিফ একাউন্ট অফিসার ওগরিাঙ্গ জানান, বন্ধনের ভাড়া নিরাপত্তা সহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে দু দেশের রেল সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। ভাড়া প্রস্তাব করা হয়েছে চেয়ারকোচ আট ডলার বাংলা সাড়ে আটশ টাকা। আর ক্যাবিনে ১২ডলার বাংলা সাড়ে নয়শ টাকা। প্রথমে খুলনা বেনাপোল কলিকাতা চলাচল কারী ট্রেনর নাম সোনার তরী নাম করনের  প্রস্তাব দেওয়া হলেও পরে বন্ধন এক্সপ্রেস নামে উভয় দেশ সম্পতি দেয়।
বেনাপোল বন্দর উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন ও বিশিষ্ট ব্যাবসায়ি আলী কদর সাগর বলে বন্ধন ট্রেনটি চলাচল শুরু হয়ে দু দেশের মধ্যে আরো সোহার্দ সম্পৃতি ব্যাবসা বাজিন্য বৃদ্ধি পাবে। সপ্তাহে ৪ দিন ৮টি ট্রেন চলাচল করুক এ রুটে দাবী জানান তারা।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় পাতার আরো খবর

Developed by orangebd