ঢাকা : মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১৩:১৮:৪২আপডেট : ০৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১৩:২৪:২৭
‘চারণ ব্যান্ড ও একজন মাহমুদ’
টাইমওয়াচ রিপোর্ট

 

এক ধরণের সামাজিক মূল্যবোধ থেকে চারণ ব্যান্ডের পথচলা শুরু ২০০৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে মারাত্মকভাবে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটে। সমাজিক মূল্যবোধ নিচে নেমে যায়। এরই ধারাবহিকতায় এক বিশেষ চারণ গোষ্ঠীর আর্বিভাব ঘঠে; যারা সুরের মূর্ছনায় এ মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারে যুদ্ধে নামে ; গানে গানে যুদ্ধ করছে বলেই ওরা চারণ, চারণের উত্তরাধিকার। কথাগুলো বলেন চারণ ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও শিল্পী মাহমুদ।
মেলো রক প্রকৃতির এই ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবামের নাম ‘হ্যামিলন ও ঢাকা’। অ্যালবামটি প্রথম বাজারে আসে ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। এতে রয়েছে ৮টি গানের সমাহার। গঙ্গা-যমুনা, বৃষ্টি যেমন তার রং বদলায়, হ্যামিলন ও ঢাকা, সুখী মানুষের জামা, ৭১’র চিঠি প্রভৃতি এই অ্যালবামের উল্লেখযোগ্য গান। চারণের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাংলার সুর ও কথাকে কালত্তীর্ণ করা।
হ্যামিলন ও ঢাকা’র সবকটি গানের কথা ও সুর করেছেন ব্যান্ডের ভোকাল মাহমুদ। শিল্পী মাহমুদ টাইমওয়াচ’কে জানান, প্রথম গান গঙ্গা যমুনার বিষয়টিতে কাঙ্খিত লক্ষ্যে মানুষের চিরন্তন ছুটে চলার অদম্য ইচ্ছাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। ‘বৃষ্টির রঙ বদলায়’ গানটি প্রকৃতি আর মানবমনের সাদৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছে। বৃষ্টির নিজস্ব কোনো রং নেই। প্রকৃতির রঙে নিজেকে সজ্জিত করে বার বার নিজের রং বদলায়। বৃষ্টি যেমন তার রং বদলায়, আকাশ যেমন প্রতিক্ষণে তার রুপ পরিবর্তন করে ঠিক তেমনি মানুষের মনও ক্ষণে ক্ষণে এর রং পাল্টায়। মনের এই বর্ণ ও চরিত্র পাল্টানোর বহুমুখীতার খেলা চলে বলেই মানব চরিত্র এমন বর্ণাঢ্যময় হয়েছে। ‘হ্যামিলন ও ঢাকা’ অ্যালবামের ‘শিরোনাম’ গান বিষয়ে মাহমুদ বলেন, আমাদের প্রিয় নগর ঢাকা এক অভিভাবকহীন নগরীর নাম। এই নগরীর প্রতি আমাদের কোনো নাগরিক দায়িত্ব বোধ নেই। রাস্তার ফুটপাত দিয়ে চলার মতো জায়গা নেই। অকারণে যানবাহনের শব্দ দেখার কেউ নেই। ম্যানহোলের ঢাকনা খোলা পরে থাকে আটকে দেওয়ার কেউ নেই। যানজটে চলে যায় সারাবেলা, প্রতিকার নেই। আরো কতো কী যে নেই প্রিয় এই নগরীতে, তা আর মনে আসে না। হয়তো একদিন কালের গর্ভ থেকে রাজপথে নেমে আসবেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’র মতো কোনো এক নগর পিতা। অদ্ভুত সুরে বাজাতে শুরু করবেন জাদুকরী সেই সুর। ঢাকার সব চিরচেনা অসঙ্গতি নিয়ে ছুটবেন বুড়িগঙ্গার দিকে সকল চারণও ছুটবে তার পিছু পিছু।‘চারণ ব্যান্ড ও একজন মাহমুদ’
সুখী মানুষের জামা গানটিতে ‘আসমানী’ নামটি ঠিকানাবিহীন ও বাস্তুহারা সব পথশিশুদের মা হিসেবে ইঙ্গিত করে প্রতীকী অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান শিল্পী মাহমুদ। যদিও এককালে আসমানীদের অন্তত একটি মাথা গুজার ঠাঁই ছিল। কালক্রমে তাদের উত্তরাধিকারীরা এখন ফুটপাতে। তাদের জন্য সান্তনার বাণী অপ্রতুল। চারদিকে এখন বড় বেশি শুুধু নিজেকে সুখী করার প্রতিযোগিতা চলছে। ভুলতেই বসেছি সমাজবদ্ধ হয়ে সবাইকে নিয়ে সুখী হওয়ার মাঝেই প্রকৃত সুখ নিহিত। সোডিয়াম আলোর নিচে সারি বেঁধে যখন সৃষ্টির সেরা জীব খাঁচা বদ্ধ হয়ে নির্জীব পরে থাকে তখন হৃদয় বারবার মর্মাহত হয়। অস্তিত্বে এক ধরনের অপরাধ বোধ কাজ করতে থাকে। গানটি সুখী ও দুঃখী উভয় শ্রেণি মানুষের জন্য। এক শ্রেণির মানুষের জন্য সান্তনা আর অন্য শ্রেণির মানুষের কাছে আশ্রয়হীন মানুষদের জন্য কিছু করার কিছু ভাবার আহবান। এছাড়াও প্রিয়ভাষিণী, ৭১’র চিঠি, বিপিণের দাওয়াই ও সিলেবাসে নেই গানগুলো দীর্ঘ সময় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে; যা শ্রোতাদের কাছে বিশেষ বার্তা বহন করবে বলে চারণ মনে করে। বেশ কয়েকটি মিডিয়াতে পারফর্ম করেছে চারণ। এ বছরের ২৫ জানুয়ারি বৈশাখী টিভিতে (অব এয়ার) এ অংশগ্রহণ এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি রেডিও আমার (৮৮.৪ এফএম)-এ লাইভ করেছে। এছাড়াও দেশ টিভিতে ২১ এপ্রিল কলের গানে লাইভ প্রোগ্রাম এবং রেডিও কালার (১০১৬ এফএম)-এ ২৭ এপ্রিল লাইভ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, শিল্পী মাহমুদ নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন ব্যান্ড দল ‘চারণ’। নন্দিত এই শিল্পী কর্মজীবনে দেশের অন্যতম শীর্ষ কর্পোরেট ‘রানার গ্রুপ’-এর কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স শেয়ার অ্যান্ড ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। শিক্ষাজীবনে জনাব মাহমুদ ঢাকা কলেজ থেকে ইংরেজিতে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইনন্সটিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ (আইসিএসবি)-এর সহযোগী সদস্য। কর্পোরেট জগতের দায়িত্বশীল এই কর্মকর্তা কণ্ঠের যাদু ছড়াচ্ছেন সংগীত জগতে। তিনি কণ্ঠের মাধুর্য দিয়ে স্থান করে নিয়েছেন সংগীত পিয়াসীদের মন। সংগীত জগতে শিল্পী মাহমুদের অবস্থান আরো অধিক সুদৃঢ় হোক; এই প্রত্যাশা সকলের।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিনোদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd