ঢাকা : শনিবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • আঞ্চলিক দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশে নারীরা এগিয়ে : চুমকি          তিন হাজার বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে          সরকারের কাজ সম্পর্কে জনগণকে ধারণা দিতেই উন্নয়ন মেলা          পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা : শিক্ষামন্ত্রী           সালেই বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে : মেনন          বিশ্ব ইজতেমায় বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে শতশত মুসুল্লি
printer
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:৪৯:৩৩
কদমবিলে দেশি-বিদেশী পাখির অভয়াশ্রম
এম এ রহিম, বেনাপোল


 


মৌসুমি বায়ুর পালাবদলে আগাম শীতের আগমনে শার্শার দূর্গাপুর কদমবিলে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে শুরু করেছে ডমকুর সরাইল,পানকৌড়ি, বগ, কাসতেচুড়া সহ হাজার হাজার দেশ বিদেশী অতিথি পাখি। পাখির অভায়রন্যে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন পাখিপ্রেমী দর্শনাথীরা। উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক দৃষ্য। পাখির কিচির মিচির আওয়াজে মুখরিত এলাকা মুগ্ধ হচ্ছে আগতরা।
মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও সাংবাদিক আব্দুল মান্নান বলেন, অনেকদিন থেকে শুনে আসছেন ভারত ঘেসা গ্রাম কদমবিলে পাখির অভয়াশ্রম। ঘুরতে এসে দেখলেন মনোরম দৃষ্য। ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে পখি তারা বসছে ঘাসের নিড়ে। নানা রংয়ের পাখির কিচির মিচির ও পাখামেলে উড়ে যাওয়ার দৃষ্য দেখে অভিভুত তারা। তবে সীমান্ত এলাকা হওয়ায় কেটে ফেলা হয়েছে গাছিপালা। বিলীন হতে চলেছে অভয়াশ্রম। বাগান রক্ষায় প্রানী সম্পদ বিভাগ সহ বন মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
বেনাপোল শহর থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরে সীমান্ত বেষ্টিত দূর্গাপুর গ্রামের কদম বিল। এ বিলের ৫০ গজ দুরেই ওপারে ভারতের কাটা তারের বেড়া। এপারে এবিলে ৭৫ বিঘা জলাশয়ে গোলাম মোর্সেদের মাছের ভেড়ী। কেওড়া বেষ্টিত জলাশয় ও সবুজ বেষ্টনিতে ঘেরা ভেড়ী। ভ্যান মটরসাইকেল ও ইজিবাইকে চড়ে যাওয়া যায় এ বিলে। নিরাপদ ও এলাকাবাসির কড়া নজরদারী থাকায় এখানে পাখির অভয়ারন্য গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর শীতের আগেই ঝাকে ঝাকে আসতে শুরু করে দেশী ও বিদেশী অতিথি পাখি। দৃষ্টি নন্দন ও মনোরম দৃষ্য দেখতে  গ্রাম ও শহর থেকে অতিথি পাখির অভয়আশ্রমে প্রতিদিন আসছে শত শত মানুষ। পাখিরা সন্ধায় ফিরছে নীড়ে সকালে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে উড়ে। পাখির এই কিচির মিচির ও উড়ে যাওয়া দৃষ্য দেখে বিমোহিত তারা। তবে সম্প্রতি এখানের বন উজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতাকে দূষছেন দর্শনার্থীরা।
স্থানীয় কামরুল ইসলাম ও শামিম আহম্মেদ বলেন-গ্রামবাসি সচেতনতা ও আলহাজ্ব গোলাম মর্শেদের পাখির প্রতি ভালবাসা ও নিরেট দরদের কারনে কদমবিলে পাখির অভয়্শ্রাম গড়ে উঠেছে। বিলে মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন তিনি। এখানে হচ্ছে অনেকের কর্মসংস্থান। মনোরম ও নিরিবিল পরিবেশ দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন প্রাখীপ্রেমী মানুষ। সহযোগিতা করছেন তারা।
লক্ষনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন শান্তি বলেন, ভেড়ীতীরে লাগানো হয়েছে স্লোগান সম্বলিত সাইনবোর্ড। লেখা হয়েছে ওদের মেরোনা বাঁচতে দাও গাইতে দাও, ওরা বাঁচলে বজায় থাকবে পরিবেশের ভারসম্য আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়ালু হও পাখিকে বাস ভাল। সমাজ সেবক ও প্রানী দরদী মানুষ গোলাম মোর্সেদ। তিনি মাছ চাষের জলাশয়ে গড়ে তুলেছেন পাখির অভয়াশ্রম। ভেড়ীতীড়ে লাগিয়েছেন বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও ঝোঁপঝাড়। ভারত সহ  বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাখিরা বাস করছে নিরাপদ জলাশয় ও বৃক্ষ রাজির নীড়ে। পাখির কিচির মিচিরে মুগ্ন হচ্ছে দর্শনার্থী ও পাখি প্রেমী মানুষ। যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নতি সহ বৃক্ষ সংরক্ষণে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
শার্শা উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা জয়দেব কুমার সিংহ বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাখির অভয়াশ্রম গড়ে উঠেছে। শার্শার কদমবিলে সুরক্ষা থাকায় আসছে লাখো পাখি ফলে বাড়ছে দর্শনার্থী। স্থানীয়দের গণ সচেতনতায় এখানে নিরাপদে আসছে পাখি। রোধ হচ্ছে প্রানী নিধন। এভাবে প্রানীর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তৈরীতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd