ঢাকা : শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • আ.লীগকে হারানোর মতো দল বাংলাদেশে নেই : জয়          ইরানে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প          সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে
printer
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৫:০১:১৭
অস্তিত্ব সংকটে হবিগঞ্জের হবিব উল্লাহর মাজার
হবীগঞ্জ সংবাদদাতা


 


কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে হবিগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ হবিব উল্লাহ’র নাম। এমনকি বর্তমান প্রজন্মমতো দূরের কথা গ্রামবাসীও জানেন না তার সম্পর্কে। জেলা শহরের দক্ষিণে সুলতানশি হাবেলিতে তার মাজারে এখন এপিটাফ তো দূরের কথা, কোনো সাইনবোর্ডও রাখা হয়নি। উপরোন্তু তার মাজার ঘিরে তারই উত্তরসূরীদের বেশ ক’টি মাজার প্রতিষ্ঠা করে মূল মাজারটি রয়েছে অস্তিত্ব সংকটে। সরেজমিনে দেখা গেলো, মাত্র দুই-তিন দশক আগে দেওয়া কবরগুলোতে নামফলক আর সাইনবোর্ড থাকলেও সৈয়দ হবিব উল্লাহর কবরে তেমন কিছুই রাখা হয়নি। এমনকি স্থানীয় ঠিকভাবে জানেনও না কোনটি তার কবর। হবিগঞ্জের হবিব উল্লাহ নিজ গ্রামবাসীর কাছে পরিচিতির অভাবই প্রমাণ করে অবহেলার চিত্র। জানা যায়, তিনি সিলেট জয়ী হযরত শাহজালালের অনুসারী ও সুলতানসি হাবেলির প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ সুলতানের উত্তরসূরী। হবিগঞ্জের অন্যতম নদী খোয়াই তীরে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ফলে বাজার শব্দের পরিভাষা (তৎকালি সময়) ‘গঞ্জ’ নামে পরিচিত ছিল। হবিব উল্লাহ্ এই ‘গঞ্জ’ টি প্রতিষ্ঠা করায় তার নামের সঙ্গে মিল রেখে স্থানীয়রা তার নাম দেয় ‘হবিবগঞ্জ’। কালের পরিক্রমায় ‘হবিবগঞ্জ’ থেকে ‘ব’ অক্ষরটি বাদ পড়ে শুধুমাত্র ‘হবিগঞ্জ’ শব্দটি টিকে থাকে। পরবর্তীতে এটি ‘হবিগঞ্জ’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। হবিব উল্লাহ’র মাজারে যেতে হলে শহর থেকে দক্ষিণে শায়েস্তাগঞ্জের পথ ধরতে হলো। ধুলিয়াখাল বাজারে এসে পূর্ব দিকে যাওয়া ধুলিয়াখাল-মিরপুর রোডের কিছু দূর এগুলেই পাওয়া যাবে খোয়াই নদীর উপর একটি ব্রিজ। খোয়াই এখানে দক্ষিণ-থেকে উত্তরে এগিয়েছে। রুগ্ন খোয়াই নদী পেরিয়ে হাতের ডানে মশাজানের দিঘি। বিশাল এই দিঘির নির্দিষ্ট মালিক নেই। যার যখন ইচ্ছা ছিপ বা জাল ফেলে মাছ ধরে খেতে পারেন। মশাজান পেরিয়ে হাতের বাঁয়ের রাস্তা ধরে কিছু দূর এগুলেই হাতের ডানে চোখে পড়বে সুলতানসি হাবেলি। বিশাল এক পুকুরের পাড়ে তিন তিনটি বিশাল ঘরে সারি সারি মাজার। হবিব উল্লাহ’র মাজার মাঝের ঘরটাতে। পুকুরের কোণায় তার মাজারের তিন দিক ঘিরে আরো অনেককে সমাহিত করা তো হয়েছেই, দু’পাশে গড়া হয়েছে আরো মাজার ভবন। হবিগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতার স্মৃতিস্তম্ভের এমন অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। সচেতন মহল বলছেন, হবিগঞ্জে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠাতার স্মৃতি রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। কেবল জেলা তথ্য বাতায়নে এই সুলতানসি হাবেলির আলোচনায় হবিব উল্লাহ’র নামটি উল্লেখ করে দায়সারা হয়েছে। তাদের দাবী, যে কেউ এখানে আসতে হলে খোঁজ করতে হবে সুলতানসি হাবেলির। হবিব উল্লাহ’র কথা বলে এখানকার ঠিকানা খুঁজে বের করা কিছুতেই সম্ভব হবে না। জেলা তথ্য বাতায়নে বলা আছে, হবিব উল্লাহ’র প্রতিষ্ঠা করা হবিবগঞ্জ থানা হয় ১৮৬৭ সালে। তবে হবিব উল্লাহ ঠিক কতো সালে ‘গঞ্জ’ প্রতিষ্ঠা করেন তা উল্লেখ করা নেই। ১৮৭৮ সালে মহকুমায় রূপান্তরিত হয় হবিগঞ্জ। ১৯৬০ সালে সার্কেল অফিসার (উন্নয়ন) এর অফিস স্থাপিত হয় এখানে।  ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ হবিগঞ্জ উন্নীত হয় জেলায়।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd