ঢাকা : শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • আ.লীগকে হারানোর মতো দল বাংলাদেশে নেই : জয়          ইরানে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প          সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে
printer
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:১২:০৮
নাসার ‘ইনোভেটর অব দ্য ইয়ার’ বাংলাদেশি মাহমুদা
টাইমওয়াচ ডেস্ক


 


বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি প্রাসী তরুণ-তরুণীরা দিন দিন নানা সাফল্য লাভের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। বিভিন্ন কাজে তাদের উদ্ভাবনী শক্তি এবং সৃজনশীলতা প্রয়োগের মাধ্যমে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করছেন তারা। এই যেমন সব বাধা পেরিয়ে, সব সীমা ছাড়িয়ে এবার বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণী মাহমুদা সুলতানা।
পৃথিবীর অন্যান্য মেধাবীদের টেক্কা দিয়ে এবছর নাসার ইনভেন্টর অব দ্য ইয়ার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন নাসার কনিষ্ট নারী কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা। গ্রাফিন (এক ধরনের পারমাণবিক স্কেল) নিয়ে সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রাখায় এ মনোনয়ন পান মাহমুদা। নাসার সাময়িকী ‘কাটিং এজ ‘এর লেটেস্ট ইস্যুর প্রচ্ছদ প্রতিবেদনই করা হয়েছে মাহমুদাকে নিয়ে! তিন পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে শুধু তাকে নিয়ে নাসার বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের মুগ্ধতার বন্যা! ২০১০ সালে গওঞ থেকে কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি নেয়ার আগেই এক জব ফেয়ারে মাহমুদা নাসার গডার্ড ডিটেক্টর সিস্টেম ব্রাঞ্চে জবের অফার পান। এর আগেই তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট করেছিলেন।
এছাড়া ততদিনে কাজ শুরু করেছিলেন বিখ্যাত বেল ল্যাবরটরিতে রিসার্চ একাউন্টেন্ট হিসেবে! নাসার ‘এড়ফফধৎফ’ং ঋণ১৭ ওজঅউ ওহহড়াধঃড়ৎ ড়ভ ঃযব ণবধৎ’ হিসেবে মনোনীত হওয়া ছাড়াও, নাসায় যোগদান করার খুব অল্প সময়ের মধ্যে সুলতানা পর পর ১০টি নাসার অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। মাহমুদা সুলতানা কিশোর বয়সে পরিবারের সাথে আমেরিকা প্রবাসী যান। তার বড় চাচাও নাসার এমস রিসার্চ সেন্টারে ফিজিসিস্ট হিসেবে কাজ করেন। তাই ছোট বেলা থেকেই নাসার বিভিন্ন গবেষণা, অর্জন নিয়ে তার পড়াশোনা সমবয়সী যে কারো থেকে অনেক বেশি ছিল।
নাসাতে কাজ করার যে স্বপ্ন তিনি দেশে বসে দেখতে শুরু করেছিলেন, ২০১০ সালে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে! মূলত ন্যানো টেকনোলজি, ৩ প্রিন্টিং, ডিটেক্টর ডেভেলপমেন্ট এসব নিয়েই মাহমুদার গবেষণা। গওঞ-এর সাথে মিলে কোয়ান্টাম ডট প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন আলো তরঙ্গ ডিটেক্টর নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। থ্রিডি প্রিন্টার আরো সহজ করার জন্যও তার আবিষ্কার ‘গ্রাউন্ড ব্রেকিং’ বলে বিবেচিত হচ্ছে!
মাহমুদার বিষয়ে নাসার গডার্ড এর প্রধান কর্মকর্তা পিটার হিউজেস বলেন, ‘এ বছর মাহমুদা সুলতানার মতো মেধাবীকে ‘গডার্ড এফওয়াই ১৭ আইআরএডি ইনভেন্টর অব দ্য ইয়ার’ এ মনোনীত করতে পেরে আমরাও গর্বিত। কারণ নাসার যে কয়েকটা কাজে সুলতানা অংশগ্রহণ করেছেন তার প্রত্যেকটিতেই অসাধারণ সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছে তিনি। তার চমৎকার পারদর্শিতার কারণে, আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই সুলতানা নাসার একজন ন্যানো-টেকনোলজি বিশেষজ্ঞ হবেন।’ মাহমুদার সহকর্মী, নাসার আরেক টেকনোলজিস্ট তাকে নিয়ে বলেন, ‘মাহমুদার মধ্যে আমি একজন প্রফেশনাল তরুণীকে দেখি যে নাসাতে অনেক দূর যাবে!’ চিফ টেকনোলজিস্ট টেড সোয়ানসনও মনে করেন একজন সফল আবিষ্কারক হওয়ার সব গুণ আছে তার মধ্যে।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই মাহমুদা কাজ করছেন গ্রাফিন নিয়ে। কার্বনের এই বিশেষ রূপ কোয়ান্টাম ডট আকারে ব্যবহার করে আলোর কিছু বিশেষ তরঙ্গ ধারণ করা যায়, যা সূর্যের করোনার ছবি তোলার জন্য কাজে আসবে। তবে কোয়ান্টাম ডট তৈরি করে তা দিয়ে একটি পুরো সেন্সর তৈরির কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে ২০ বাই ২০ কোয়ান্টাম ডটের ছক সমৃদ্ধ সেন্সর তৈরি করে তার মাধ্যমে করোনার ছবি তোলার জন্য প্রয়োজনীয় তরঙ্গ ধারণ করা যায়। এটি প্রমাণ করার জন্যই মাহমুদা সুলতানাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
গবেষণার পাশাপাশি মাহমুদা ন্যানোটেক সম্মেলনে নাসার প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি গোডার্ডের ইন্সটুমেন্ট ও পেলোড সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রাঞ্চের অ্যাসোসিয়েট ব্রাঞ্চ হেডের দায়িত্বও মাহমুদাকে দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি তার আবিষ্কার পরবর্তী প্রজন্মের কিউবস্যাট ও অন্যান্য মিশনের যন্ত্রপাতিতে ব্যবহার করতে পারবেন। এভাবে মাহমুদার মত প্রতিশ্রুতিশীল প্রবাসী তরুণ-তরুণীরা বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান উজ্জ্বল করছেন। একই সাথে উপযুক্ত সুযোগ সুবিধা পেলে বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মেরও যে বিশ্বজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে তা-ই যেন বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন মাহমুদারা।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর

Developed by orangebd