ঢাকা : রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • অটিজম আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে আহবান প্রধানমন্ত্রীর          নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সকলকে সহযোগিতার আহবান স্পিকারের          প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠানে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী          তিন হাজার বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে           সালেই বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে : মেনন
printer
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর, ২০১৭ ১০:৩৯:৪১
দক্ষিণ উপকূলে জাটকা শিকারের মহোৎসব
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা


 


বঙ্গোপসাগরের কুয়াকাটা ও এর পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় এলাকায় এখন জাটকা ইলিশ শিকারের মহোৎসব চলছে। কুয়াকাটা, মহিপুর-আলীপুর মৎস্যবন্দর, কলাপাড়াসহ উপকূলীয় এলাকার গ্রামীণ হাট-বাজার এবং শহরের অলিগলিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জাটকা। প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে জাটকা ব্যবসা পরিচালনার সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। মৎস্যবন্দর থেকে ট্রাক, যাত্রীবাহী পরিবহন ও নৌপথে প্রতিদিন পাচার হচ্ছে হাজার মণ জাটকা। জাটকা শিকার, বিক্রি ও পরিবহনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মোটা অংকের  অর্থ লেন দেনের অভিযোগ উঠেছে। তথ্য কয়েকটি সূত্রের।       

জানা যায়, ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত, আট মাস। এরই মধ্যে ২৮ দিন অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু ৯ ইঞ্চির কম সাইজের জাটকা ধরা, পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ হচ্ছে না। কুয়াকাটা, আলীপুর, মহিপুর মৎস্যবন্দরসহ উপকূলীয় এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও মৎস্য আড়ৎ মালিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মৎস্যবন্দরসহ উপকূলীয় এলাকার একাধিক পয়েন্ট থেকে এখন দেশের বিভিন্ন মোকামে নির্বিঘেœ সরবরাহ করা হচ্ছে জাটকা। গত ২৮ দিনে দেশের বিভিন্ন মোকামে বিপুল পরিমাণ জাটকা ট্রাক, পিকআপের পাশাপাশি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহনে সরবরাহ হয়েছে। পিছিয়ে নেই সরকারি পরিবহন সার্ভিস বিআরটিসি বাসও। পরিবহন ও প্রশাসন ম্যানেজ করার নামে জেলেরা পাচ্ছে নামমাত্র মূল্য। অভিযানের তথ্য আগেই চলে যাচ্ছে অভিযুক্তদের কাছে। ফলে জাটকা বিরোধী অভিযান সফল হচ্ছে না।

জেলে, আড়ৎ মালিক ও পরিবহন সূত্রে জানা যায়, গভীর সমুদ্রে জাটকা ইলিশ শিকার একদম বন্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে যেতে জ্বালানি তেল, বরফসহ এক লাখ বিশ হাজার থেকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়। ইলিশ না পেলেও অন্যান্য মাছে বাজার খরচ ওঠে জেলেদের। তাই বাজার খরচের বিষয়টি মাথায় রেখে ট্রলার মালিক ও জেলেরা তাদের ট্রলারে আড়াই ইঞ্চি ফাসের জাল নিয়ে সমুদ্রে যায়। এছাড়া জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমের এসময় নদী, সমুদ্র মোহনা ও গভীর সমুদ্রে জাল ফেললে স্বাভাবিক ভাবেই জাটকা জেলেদের জালে ধরা পড়ে। জাল থেকে খুলতে না খুলতেই মারা পড়ে এসব জাটকা। এরপর এসব জাটকা সংরক্ষণ করে তারা। কিন্তু তীরে এসে প্রশাসন ও পরিবহন ম্যানেজের নামে নাম মাত্র মূল্য পায় জেলেরা। বঙ্গোপসাগরের কুয়াকাটা উপকূল, ঢোস, বুড়োজালিয়া, গঙ্গামতি, কাউয়ারচার, চরচাপলি, বাবলাতলা, রামনাবাদ নদীর দু’পাড় ও মহিপুর-আলীপুর মৎস্যবন্দরে বড় মাছের সাথে ককসিড ভর্তি করে জাটকা পাচার করা হচ্ছে নির্বিঘেœ। আলীপুর মৎস্য বন্দরের থ্রি পয়েন্ট, মহিপুর মৎস্যবন্দরের লোড পয়েন্ট, টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকা এবং কুয়াকাটা থেকে ট্রাক কিংবা যাত্রীবাহী পরিবহনে দেশের বিভিন্ন মোকামে পাচার করা হচ্ছে জাটকা। মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত ট্রাকে কলাপাড়া, পটুয়াখালী, বরিশাল, মাদারীপুর, ফরিদপুর অতিক্রম করে জাটকাবাহী পরিবহন নির্বিঘেœ পৌঁছে যাচ্ছে মোকামে। গন্তব্যে পৌঁছার প্রতিটি থানা এলাকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পট পেমেন্ট কিংবা বিক্যাশে পৌঁছে যাচ্ছে টাকা। এছাড়া হাটবাজার, নৌ বন্দর ও পথে পথে মাথায় নিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রী হচ্ছে জাটকা। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে জাটকা বিক্রীর কমিশন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। গন্তব্যের পথে পথে চলে এ লেন দেন। এমনকি মৎস্য বিভাগের নামে আড়ৎ প্রতি মাছ, নগদ টাকা মাসোয়ারা আদায় এবং উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মাঝে বন্টনের অভিযোগ রয়েছে।   

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমবিরোধী অভিযানে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকা থেকে ৫ মেট্রিক টন জাটকা জব্দ এবং এক জনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। এর আগে ইলিশ প্রজনন মৌসুমে জেলায় ৮ লক্ষ মিটার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, মা ইলিশ ধরার অপরাধে ২৯ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান, বিপণন কার্যক্রমে জড়িত থাকার অপরাধে ৫০ জনকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং ১.৪ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, প্রজনন মৌসুমসহ জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমে মৎস্য বিভাগ সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। জাটকা পাচার, সিন্ডিকেট গঠন সহ মৎস্য বিভাগের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আবু হাসানাত জানান, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমবিরোধী অভিযান চলছে। এবং মৎস্যবিভাগ জাটকা শিকার, মজুদ, বিক্রয় ও পরিবহনের বিষয়ে সজাগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd