ঢাকা : রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • অটিজম আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে আহবান প্রধানমন্ত্রীর          নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সকলকে সহযোগিতার আহবান স্পিকারের          প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠানে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী          তিন হাজার বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে           সালেই বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে : মেনন
printer
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:২২:৪৫
রাউজানে আমনের বাম্পার ফলন
সোনলীধানে কৃষকের মুখের হাসি
এম বেলাল উদ্দিন, রাউজান (চট্টগ্রাম)


 


রাউজান উপজেলায় আমনের বাম্পার ফলন ফলেছে। পাকা ধানের লালচে রঙে কৃষকের চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। এতে বেশ আনন্দিত কৃষকেরা। মাঠে সোনলী ধানের দোলায় ফুটেছে কৃষকের মুখের হাসি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। আগমী ১০-১৫ দিনের মধ্যে পুরোদমে ধানকাটা শুরু হবে। কিন্তু ফসলের কাঙ্খিত দাম পাওয়া ও শেষ মুহুর্তের অনাকাঙ্খিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, এবারের আমনের লক্ষ্যমাত্রা ১১৩৫০ হেক্টর।এরমধ্যে উফশি ১১১৫০ হেক্টর, স্থানীয়জাত ২০০ হেক্টর। হেক্টর প্রতিফলনের লক্ষ্যমাত্রা ২.৮৯ মেট্রিকটন। প্রথমদিকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্টি বন্যার ফলে বীজতলার ক্ষতি হলেও পরবর্তী পর্যায়ে আবহাওয়া অনকূলে থাকায় আমানের বাম্পার ফলন ফলেছে। কৃষকেরা প্রযুক্তিগত সেবা গ্রহণ করায় এ বছর ফসলে রোগবালাই কম হয়েছে।

উপজেলার পাহাড়তলী, বাগোয়ান, কদলপুর, নোয়াপাড়া, সুলতানপুর, হলদিয়াসহ বেশ কয়েকটি স্থানে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, কোথাও মাঠে সোনালীধান, কোথাও হালকা হলদে- সবুজের সংমিশ্রণে অপূর্ব দৃশ্য। কৃষকেরা কামলা (দিনমজুর) নিয়ে কাটছে ফসল। অনেকেই প্রযুক্তিগত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক মাড়াইযন্ত্র দিয়ে ফসলের মাঠের ধানমাড়াই করে চটের বস্তায় ভরে ধান ঘরে তুলছেন। আকাশে একটু মেঘ করলেই কৃষকেরমুখ যেন সেইকালো মেঘেইঢাকাপড়েযায়। অনেক স্থানে কামলার সংকটে পাকা ফসল ঘরে তোলা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বাজারে ভোলা,সন্দ্বীপ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, বাশঁখালীসহ বিভিন্ন স্থানের কাজের লোক দেখা গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ধানকাটা লোকদের দৈনিকমজুরীও বেশচওড়া। একেক জন কাজের লোকের দৈনিক মুজুরি ৫শ থেকে ৬শটাকা। যা অতিরিক্ত মজুরি বলে মনে করেন কৃষকেরা।মাড়াইযন্ত্রে ধানমাড়াইকরতেখানি (৪০ শতক) প্রতি এক হাজার থেকে-১২শটাকা। তবুও সব সমস্যাকে আলিঙ্গন কওে ফসল ঘওে তুলতে ব্যস্ত হয়েপড়েছেন কৃষকরা।

হলদিয়া ইউনিয়নের বৃন্দাবন এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি পাঁচ একর জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। পাকা আমন ধান কেটে ঘওে নিয়োছি। বসত ঘরের উঠানে ধানমাড়াই যন্ত্র দিয়েকাজ করছি।

পাহাড়তলী ইউনিয়নের কৃষক শেখ ইয়াছিন বলেন, এবারেরআমন মৌসুমে প্রায় ৯ একর জমি চাষ করেছি। উপজেলা কৃষিকর্মকর্তার পরামর্শে ৫২ জাতের ধানের চাষ করে ভাল ফলন হয়েছে। একরপ্রতি ৬০-৬২ মণ ধান ঘওে ঊঠবে বলে আশা করছি। এই ফসল উৎপাদনে কানি (৪০ শতক) প্রতি খরচ হয়েছে ১০-১২ হাজারটাকা। তবে কোনধরণের দূর্যোগনাহলেএবং ফসলেরন্যায্য মূল্য পাওয়া গেলেলাভবানহব।

তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্ব প্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে মাঠ পর্যায়ে তিনি তেমন কোন সহযোগিতা পাননি। বারবার যোগাযোগ করা গেলেও কোন ধরণের সাড়া পাননি। কৃষিকর্মকর্তারা পাহাড়তলী বাজাওে একটি দোকানে বসে ফোনে তালিকাভুক্ত কৃষকদের তথ্য নিয়ে চলে যায়। মাঠপর্যায়ে আসেনা।

এই ব্যাপারে উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, আমরা উপজেলার ৩৪৫৪০টি কৃষি পরিবারকে কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে থাকি। এদেরমধ্যে ২৭০০০ কৃষকদের কৃষিকার্ড দেওয়া হয়েছে। এদেরমধ্যে ১২শ জন  কৃষকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়। ৬০ জন কৃষককে বীজসংরক্ষণ প্রদর্শনীর জন্য ১০ কেজি করে আমন ধানের বীজ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এই মৌসুমে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ১১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কয়েক দফায়প্রবলবর্ষণ ও বন্যার কারণে ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায়১১ হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরজমি থেকে দুই মেট্রিকটন ৮৫ কেজি চাল উৎপাদিত হবে। এ হিসেবে এ উপজেলায় ৩১ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হবে। আমরা কৃষকদের প্রযুক্তিগত সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এর ফলস্বরূপ এবার ভাল ফলন হয়েছে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd