ঢাকা : শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • আ.লীগকে হারানোর মতো দল বাংলাদেশে নেই : জয়          ইরানে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প          সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে
printer
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৭:৫৩:৪৯
সাদুল্যাপুরে সহকারী গ্রন্থাগারের সনদ জালিয়াতি
তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা


 


গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা জেসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক সাদ্দাম হোসেন রাসেলের গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান ডিপ্লোমা কোর্সের সনদপত্র অবশেষে জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে। গত ১৩ নভেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত স্মারক নং-জাতীঃ বিঃ /পরী/সনদ/৪৪৯/২০০৫/১০১০৮  প্রধান শিক্ষক বরাবরে প্রেরিত পত্রে এ তথ্য জানা যায়।
উক্ত পত্রে বলা হয়, সাদ্দাম হোসেন রাসেল এর সাময়িক সনদপত্র ও নম্বর পত্র যার রোল নং-৯১০৩৮৯, রেজিষ্ট্রেশন নং-০১০৪৭৫, শিক্ষাবর্ষ-২০০৯-১০ ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরী এন্ড ইনফরনেশন সাইন্স পরীক্ষা-২০১০, ফলাফল দ্বিতীয় শ্রেণী, জাতীয় রিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী সঠিক নয় এব্রং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত নয়। এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, উল্লেখিত পত্রের প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত সাদ্দাম হোসেন রাসেল প্রদত্ত জাল সনদখানার চির অবসান ঘটলো বলে আমি মনে করি। তবে এ বিষয়টি শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কে প্রয়োজনীয় ব্যরস্থা গ্রহনের জন্য অবগত করা হবে বলে তিনি জানান।
রোববার সকালে সংশ্লিষ্ট তথ্যসুত্রে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগার সাদ্দাম হোসেন রাসেল ২০১২ ইং সনে নিয়োগ সংশ্লিষ্টদের চোখে ফাঁকি দিয়ে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান ডিপ্লোমা কোর্সের সনদটি জালিয়াতি করেত সহকারী গ্রন্থাগার পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে গত মে/২০০১৩  মাসে এ,পি,ও ভূক্ত হয়ে বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন। এরই মধ্যে তার সনদখানা জালিয়াতির গোঁমর ফাস হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় একটি সচেতন ব্যক্তিবর্গ  গত ০৭/০১/২০১৫ ইং তারিখে এ ব্যাপারে একখানা অভিযোগ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বরাবরে প্রেরন করেন।
অভিযোগ খানা প্রাপ্তির পর প্রধান শিক্ষক সনদখানা যাচাইয়ের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবরে একটি পত্র প্রেরণ করেন। এর আগে সনদ খানা বিভিন্ন ভাবে যাচাই বাছাই করা হলে এর কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। ইতিপূর্বে এ সংকান্ত সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল্ । এমতবস্থায় পরিচালনা পর্ষদ সর্বসম্মতিক্রমে সনদ জালিয়াতীর অভিযোগে সাদ্দাম হোসেন রাসেলকে চাকুরী বিধিমালা অনুসারে প্রথমত তার বেতন ভাতা স্থগিত করে এবং পরকর্তীতে সাময়িক ও চুড়ান্ত ভাবে তাকে চাকুরী থেকে ররখাস্ত করা হয়। বে-সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাকুরী বিধিমালা অনুসারে জাল সনদধারী সাদ্দাম হোসেন রাসেল কে চাকুরী থেকে চুড়ান্ত ভাবে বরখাস্তকরন অনুমোদনের জন্য দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের আপিল এ্যান্ড আরবিট্রেশন কমিটির নিকট প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র প্রেরন করা হয়। কিন্ত আরবিট্রেশন কর্তৃপক্ষ জাল সনদের বিষয়টি আমলে না নিয়ে চুড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদন না দিয়ে উল্টো গত ২৭/০৮/২০১৭ ইং তারিখে আপিল এ্যান্ড আরেিট্রশনের ১১তম সভার সুপারিশের প্রেক্ষিতে গত ২৯/১০/২০১৭ ইং তারিখে জাল সনদধারী  সহকারী গ্রন্থাগার সাদ্দাম হোসেন রাসেল কে চাকুরীতে স্ব-পদে পূনঃবহালের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিদ্যালয় পরিদর্শক স্বাক্ষরিত একখানা পত্র সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক বরাবরে প্রেরন করেন। বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কর্তৃপক্ষ চরম বিপাকে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd