ঢাকা : শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • আ.লীগকে হারানোর মতো দল বাংলাদেশে নেই : জয়          ইরানে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প          সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে
printer
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:৩৩:৫৭
দেশে এইডস রোগী সম্ভাব্য ১১,৭০০ জন
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 

বাংলাদেশে এইচআইভি আক্রান্তের সম্ভাব্য সংখ্যা ১১ হাজার ৭০০ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এইডস্‌ সংক্রমণের হার ০.০১ শতাংশের নিচে। এ রোগে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ১ শতাংশের মতো। দেশে সম্ভাব্য এইডস আক্রান্ত ১১ হাজার ৭০০ জন।
 
বিশ্ব এইডস্‌ দিবস-২০১৭ উপলক্ষে ৪ ডিসেম্বর দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
 
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত সাধারণ জনগোষ্ঠী ও এইডসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে মোট ৭৭ হাজার ৭২৫ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ৮৬৫ জনের মধ্যে এইচআইভি শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৩৯ জন পুরুষ, ২১৩ নারী, ১৩ জন হিজড়া এবং ৬৩ জন রোহিঙ্গা নতুন করে এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন। সবমিলিয়ে ১৯৮৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এইচআইভিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৫৮৬ জন।
 
এইডস রোগ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এইডসের সংক্রমণ ঢাকার কিছু অঞ্চলে বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে আছে। কিছু রোহিঙ্গার শরীরে এইডস্‌ পাওয়া গেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই রোগীরা শিরার মাধ্যমে মাদক নিয়ে একে অন্যের মধ্যে রোগটি ছড়াচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
 
মোহাম্মদ নাসিম জানান, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এইডসের কম ঝুঁকিপূর্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছি। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এইচআইভি বিষয়ক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি। সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে এবং এর বিভিন্ন সূচক অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসডিজি ৩ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এইডস নির্মূলে সক্ষম হব বলে আশা করছি।’ এইডস নির্মূলে সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, গণমাধ্যমের সমন্বিত কার্যক্রম এসডিজি ৩ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
 
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ১ ডিসেম্বর বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্যদিয়ে বিশ্ব এইড দিবস পালিত হয়েছে। কিন্তু দিবসটি উপলক্ষে ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি করা যায়নি। এ কারণে দেরিতে হলেও আগামী ৬ ডিসেম্বর দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি পালন করা হবে।
 
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিশেষ কারণে এবার ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস্‌ দিবস পালন করা যায়নি। ‘স্বাস্থ্য আমার অধিকার’ স্লোগানকে ধারণ করে ৬ ডিসেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হবে।
 
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভা। এ সভায় এইডস আক্রান্ত নতুন রোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
 
মন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিদেশ সফরের সফলতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার মস্কোয় গত ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর ‘যক্ষ্মা নির্মূলে করণীয়’ বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ২০৩০ সালের মধ্যে যক্ষ্মা নির্মূলে আন্তঃদেশীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ায় মিয়ানমারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা বলেছি।
 
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব মো. সিরাজুল হক খান ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফয়েজ আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় পাতার আরো খবর

Developed by orangebd