ঢাকা : শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • আ.লীগকে হারানোর মতো দল বাংলাদেশে নেই : জয়          ইরানে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প          সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে
printer
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৫:০৪:৪৬আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৫:০৮:৩১
সেন্টমার্টিনে জাহাজ চালু করবে চট্টগ্রাম কর্তৃপক্ষ
রেজুখালের মোহনা থেকে মঈনুল হাসান পলাশ, কক্সবাজার


 

উখিয়ার পেঁচারদ্বীপের রেজুখাল এলাকা থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চালানোর চিন্তা করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে এই চিন্তা বা উদ্যোগ আদতে সফল হবে কী না? এই নিয়ে সন্দিহান খোদ উদ্যোক্তারাই। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে নৌযান চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এই রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ বন্ধ রাখে প্রশাসন। সর্বশেষ গত ১০ নভেম্বর সাবরাং পয়েন্ট দিয়ে সেন্টমার্টিন চলাচল করছে জাহাজ কেয়ারী সিন্দবাদ। তবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসন, কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যেতে নিরাপদ রুট খুঁজছে।
 
এ লক্ষ্যে গত ১ ডিসেম্বর উখিয়ার পেঁচারদ্বীপে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন একটি রিসোর্টে দেশের পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের সাথে এক পরামর্শ সভা করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
 
জানা গেছে, গত ২৬ নভেম্বর ২৯ দেশের নৌ-প্রতিনিধিদের চারদিনের সম্মেলন সম্পন্ন হয় কক্সবাজারের অন্যতম পর্যটন স্পট উখিয়ার ইনানীতে। এ সময় বঙ্গোপসাগরে আসা বিদেশি জাহাজগুলো দিয়ে আগত নৌবাহিনীর সদস্যরা যাতে হোটেলে পৌঁছাতে পারে সেজন্য উখিয়ার রেজু খালের মোহনায় ড্রেজিং করে গভীরতা বাড়ানো হয়েছিলো। সেখানে একটি অস্থায়ী পাল্টুন বসানো হয়।
 
এই রেজু খালের মোহনায় ড্রেজিং করে অপেক্ষাকৃত বড় নৌযান ভিড়ানোর কাজে সফল হওয়ায় আশাবাদী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখন চিন্তা করা হচ্ছে ড্রেজিং অব্যাহত রেখে এই মোহনা দিয়ে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চালানো যায় কী না?
 
বৈঠকে বন্দর কর্মকর্তারা জানান, রেজুখালের মোহনায় বর্তমানে ড্রেজিং করে দেড় মিটার গভীরতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে সর্বোচ্চ দুই মিটার পর্যন্ত গভীর নাব্যতা রাখা যাবে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য। কমোডর শাহিন জানান,রেজু খালের মোহনায় প্রতি ঘন্টায় সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে বালি জমা হয়ে নাব্য হ্রাস পায়। তাই এখানে নিরবিচ্ছিন্ন ড্রেজিং কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
 
এদিকে, রেজুখালের মোহনা দিয়ে সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করানো নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বৈঠকে উপস্থিত একাধিক জাহাজ মালিক। তাদের মতে, ন্যূনতম দুই মিটার নাব্য রক্ষা করা কঠিন চ্যালেঞ্জ এখানে। বৈঠকে প্রস্তাব করা হয়, যদি পর্যাপ্ত গভীরতা না থাকে, তবে সাগরে জাহাজ ভাসমান রেখে ছোট নৌকায় যাত্রী উঠানোর ব্যবস্থা রাখা যায়। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন জাহাজ ব্যবসায়ীরা।
 
সকল চেষ্টার পরেও যদি রেজুখালের মোহনা থেকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চালানো সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে এই জেটি এবং ড্রেজিং সুবিধা ব্যবহার করে নৌ বিহার আয়োজন করে পর্যটক আকৃষ্ট করা যেতে পারে বলে প্রস্তাব তোলা হয়। পরবর্তীতে এই ধরণের নৌবিহার জনপ্রিয় হয়ে উঠলে তা হবে কক্সবাজারের পর্যটন খাতের এক নতুন দিক। ধীরে ধীরে এখান থেকে সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া, মহেশখালী কিংবা কুতুবদিয়া পর্যন্ত নৌবিহার যুক্ত হতে পারে কক্সবাজারের পর্যটনে।
 
পর্যটন ব্যবসায়ীরা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের পাল্টা প্রস্তাব দেন, আগে সরকারী জাহাজ আনা হোক। রেজুখালের মোহনা থেকে সেন্টমার্টিন রুটে সরকারী মালিকানাধীন জাহাজ পর্যটক বহন করে আর্থিকভাবে টেকসই হলে, কেবল তখন প্রাইভেট জাহাজ মালিকেরা এখানে জাহাজ আনতে আগ্রহী হবে। তারা বলেন, যতোই ড্রেজিং করে নাব্যতা রাখা হোক না কেনো, সম্ভাব্যতা যাচাই করে সন্তুষ্ট হবার পরেই প্রাইভেট জাহাজ মালিকেরা এখানে তাদের জাহাজ নিয়ে আসবেন।
বৈঠকে টোয়াব, টোয়াক, জাহাজ মালিকসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে কমোডর শাহিনের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দলে চিফ হাইড্রোফার আরিফুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd