ঢাকা : শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • আ.লীগকে হারানোর মতো দল বাংলাদেশে নেই : জয়          ইরানে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প          সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে
printer
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৫:১৮:২৮
চার যুগ ধরে গাছের নিচে ভিক্ষা করছে অন্ধ সামাদ
নওগাঁ সংবাদদাতা


 


চলতি বাস ও ট্রেনে ভিক্ষা করতে দেখা যায় অনেককে । আবার কেউ কেউ বাসষ্ট্যান্ড ও রেলষ্টেশন, শহরের মার্কেট, বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামগঞ্জে বাড়ি বাড়ি ঘুড়ে ভিক্ষা করে অনেক ভিক্ষুক। তবে নওগাঁর মহাদেবপুরে রয়েছে এক আজব অন্ধ ভিক্ষুক আব্দুস সামাদ। সে প্রায় চার যুগ ধরে শুধু মাত্র নির্দিষ্ট একটি গাছের নিচে বসে ভিক্ষা করে সংসার চালাচ্ছেন। নওগাঁ জেলা শহর থেকে ১২ কি. মি. দূরে নওহাটা (চৌমাশিয়া)  মোড় বাসষ্ট্যান্ড থেকে মহাদেবপুর গামি সড়ক দিয়ে মাত্র ১ মিনিট পায়ে হেটে সামনে এগিয়ে গেলেই একটি শিশু গাছের নিচে দেখা মিলবে আব্দুস সামাদের (৬০) সাথে। সরজমিনে দেখা যায়, মরা একটি শিশু গাছের নিচে মাটি ও ভাঙ্গা ইটের তৈরি টিলার উপর পুরাতন চটের বস্তা বিছিয়ে গাছের সাথে হেলান দিয়ে বসে রয়েছেন সামাদ। এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটর সাইকেল চালকেরা  যানবাহন দাড়িয়ে কিংবা চলন্ত অবস্থায় সামাদকে টাকা দিচ্ছেন। চলতি যানবাহন থেকে ফেলে দেয়া টাকা পথচারিরা কুড়িয়ে সামাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। প্রায় ২ ঘন্টা এ দৃশ্য দেখার পর স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ থেকে ৬০ বছর পূর্বে পার্শ¦বর্তী চৌমাশিয়া গ্রামে এক হতদরিদ্র পরিবারে অন্ধ অবস্থায় জন্ম গ্রহন করেন তিনি। তার গরিব পিতা মৃত আব্দুল অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। এর এক পর্যায়ে প্রায় ১০-১২ বছর বয়সে সামাদ অভাবের করনে প্রতিবেশিদের সহযোগীতায় সড়কের পাশে ছোট্ট শিশু গাছের নিচে বসে যানবাহন আশা যাওয়ার শব্দ কানে পেলেই হাত তুলে চিৎকার করলে চালক ও পথচারীরা টাকা ফেলে দিত। এরপর থেকে সামাদ নিয়মিত ঐ গাছতলায় বসে বিভিন্ন যানবাহন চালক, যাত্রী ও পথচারিদের দানের টাকা সংগ্রহ করতে থাকেন। স্থানীয়রা আরো জানান, ইতিমধ্যেই এই গাছের নিচে বসে থেকেই ভিক্ষুক সামাদের কেটে গেছে ৪৮ বছর। এ গাছতলায় বসার প্রায় ৯-১০ বছর পরে সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার একটি মেয়ে ও একটি ছেলে আছে। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন আর ছেলেটির বয়স ১৮ বছরের মতো। আব্দুস সামাদ বলেন, আমাকে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন চালক, যাত্রী সহ সব ধরনের লোকজনই খুবই ভালবাসেন। তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে হলেও এখানে গাড়ী দাড়িয়ে আমার হাতে টাকা তুলে দেন, যা দিয়ে আমার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি এবং সংসারটিও অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd