ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা           কারও মুখের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী          ২২তম অধিবেশন চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:৪০:৪২
বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী টালির ছাউনী
নওগাঁ সংবাদদাতা


 


আধুনিকতার উৎকর্ষে গ্রামীন ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরী ঘরে টালির ছাউনী আজ বিলুপ্তির পথে। নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলে এক সময় মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম বাসস্থান হিসেবে মাটির তৈরি ঘরে টালির ছাউনীর ব্যাপক প্রচলন ছিল। গ্রাম এবং শহরে হরহামেশা চোখে পড়তো লালচে রংয়ের ছাউনী বা চালা। কিন্তু এখন আর এগুলো খুব একটা চোখে পড়ে না। যুগের পরির্বতনের সাথে শহরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষের রুচি বোধের পরিবর্তন হয়েছে শতভাগ। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি টালির ছাউনী।
দেড় যুগ আগেও গ্রামের ৩০ থেকে ৪০ ভাগ একতলা বা দ্বিতল বিশিষ্ট্য মাটির বাড়িতে বাস গৃহের প্রাচীন ঐতিহ্য টালির ছাউনী ব্যবহার হতো। কাঠ বা বাঁশের ফ্রেমের উপর থরে থরে ছোট ছোট টালি সাজানো থাকতো। যা ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। যতদিন ফ্রেম পচে নষ্ট না হয় তত দিন টালির চালে আর কোন খরচ লাগেতো না। টালির ছাউনী আগুনে বা বৃষ্টিতে নষ্ট হয় না।
তবে, এখনও বরেন্দ্র অঞ্চলের কিছু এলাকায় দেখা মিলছে মাটির তৈরি ঘরে টালির ছাউনী। নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার গনেশপুর গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দিনের ছেলে মজিবর উদ্দিনের বাড়িতে। অপরটি একই  গ্রামে মৃত সুবিদ শাহর’র ছেলে সদর উদ্দিনের বাড়ির চালায় সোভা পাচ্ছে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি টালির ছাউনী।
বৃহস্পতিবার নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার গনেশপুর গ্রামের মাটির তৈরি টালির বাড়ির মালিক সফের উদ্দিন এর সাথে কথা হয়। তিনি জানান, প্রায় ২৫ বছর আগে নতুন মাটির বাড়ি তৈরি করে টালি দিয়ে ছাউনী দিয়েছেন তিনি। এখন পর্যন্ত রয়েছে তার ঘরের ছাউনীতে মাটির টালি। টালির ঘরে বসবাস করা বেশ আরাম। গরমের সময় টালির ঘর ঠান্ডা থাকে। তিনি আরও জানান, রান্না ঘরে টালির চালা থাকলেও ধোঁয়া বেরুতে কোনো অসুবিধা হয় না।
তিনি আরো জানান, ওই যুগ শেষ। এখন ইচ্ছে থাকলে আর নতুন করে টালি দিয়ে ঘরের চালা করতে পারবেনা। মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়েছে। গ্রামেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তাই তার সন্তানেরা এ মাটির তৈরি টালি দিয়ে আর ঘরের ছাউনী দিতে চায় না। তার ছেলের বৌ এর কথা যে, ভবিষ্যতে যদি নতুন করে বাড়ি তৈরী করতে হয়; তবে ছাদ সহ ইটের বাড়ি করবো।
মহাদেবপুর উপজেলার সাকিম উদ্দিন মন্ডলের পুত্র রেজাউল হক জানান, বাবা খুব সৌখিন মনের মানুষ ছিলেন। সখের বসে মাটির বাড়িতে টিনের বদলে মাটির টালি দিয়ে ঘরের ছাউনী করেছিলেন। বাবার ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা একসময় মাটির তৈরি টালির বাড়িতেই বসবাস করতেন। এছাড়াও কুমারেরা আর টালি বানায় না। বর্তমানে কোথাও নতুন করে টালির ঘর তৈরি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আবার পুরাতন ঘর সংস্কারকল্পে টালির ব্যবহারও করতে চাইলেও টালি পাওয়া যায় না। আর সে কারণে সম্প্রতি আমরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মাটির তৈরী টালির ছাউনীর বদলে ইটের তৈরী ঘরে টিনের ছাউনী দিয়ে বসবাস করছি।
মান্দা উপজেলার পালপাড়ার পোল্লা পাল জানান, কয়েক পুরুষ আগে থেকে তারা মাটির তৈরি সকল উপকরণ তৈরি করে আসছে। আমার বর্তমান বয়স এখন ৫০ বছর হতে চলেছে। মাটির তৈরি টালি বাবার সাথে যুবক বয়সে তৈরি শুরু করেছেন তিনি। এরপর থেকে পায় ৩০ বছর ধরে টালি বানান তিনি। তবে এখন আর আগের মত টালি তৈরী হয় না।
কারণ বলতে গিয়ে তিনি জানান, টালির প্রচলন শেষ হয়ে গেছে। মানুষ ঘর-বাড়িতে টালির ছাউনীর বদলে টিন ব্যবহার শুরু করেছে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd