ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা           কারও মুখের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী          ২২তম অধিবেশন চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:৫৬:১৪
বড়াল নদী দখল করে চলছে বাড়িসহ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ
জাহাঙ্গীর আলম, চাটমোহর (পাবনা)


 


রাজশাহীর চারঘাট থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি পর্যন্ত প্রবাহমান বড়াল নদী এখন অবৈধ দখলদারদের কবলে। চাটমোহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এই বড়াল। নদীর দু’পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। চাটমোহর নতুন বাজার, পুরাতন বাজার, হরিপুর, জোনাইল এলাকায় বড়াল নদীর পাড় দখল করে প্রভাবশালীরা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে বড়াল নদীর পাড় দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন।
চাটমোহরের বিভিন্ন এলাকায় বড়াল নদী দখল করে গড়ে উঠেছে পাকা স্থাপনা। পুরাতন বাজারে পৌরসভা কর্তৃক রাস্তা নির্মাণ করা হয়। সেটি নদীতে ধসে যাওয়ার পর বাকি অংশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী বাজার। নতুন-পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল এলাকার নদীর মাঝে বাড়ি নির্মাণ করছেন কয়েকজন স্থানীয় অধিবাসী। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বড়াল নদীতে বাড়ি নির্মাণ করছেন হাবিবুর রহমান, সাজদুল ইসলাম ও হায়দার আলী। স্থানীয়রা জানান, বড়াল নদী দখল করে তারা বাড়ি নির্মাণ করছেন।  
বসতবাড়ির মালিক হাবিবুর রহমানসহ কয়েক জন জানায়, নদীর খাস জমির পাড় দখল করে তারা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। খাসজমি আমাদেরই প্রাপ্য। বড়াল নদী অবমুক্ত ও রক্ষার দাবিতে ২০০৮ সালে গড়ে ওঠে বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটি। বড়াল পাড়ের মানুষ সম্পৃক্ত হয় এই আন্দোলনে। ২০১৪ সালে বড়াল রক্ষার দাবিতে নদীর ২২০ কিলোমিটার পড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এই আন্দোলনে সহায়তা করে। বেলার পক্ষ থেকে বড়াল রক্ষায়,নদীর সকল বাধ ও সড়ক অপসারণ করার জন্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে। আদালতের নির্দেশে বড়াল নদীর ৩টি ক্রসবাঁধ, পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ অপসারিত হয়েছে। নির্মাণ হয়েছে ব্রিজ। অথচ বড়াল দখল প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা। শুধু তাই নয়, নদীর বুকে আবাদ করা হচ্ছে বিভিন্ন ফসলের।
এ ব্যাপারে বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এসএম মিজানুর রহমান জানান, বড়াল নদী অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করতে নদী বিষয়ক টাস্ক ফোর্স এবং হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট এলাকার ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছেন। তারাই পদক্ষেপ নিবেন। বড়ালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি ড্রেজিং করতে হবে। তিনি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নতুন করে নদী দখল রোধে অতি দ্রুত প্রশাসনের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd