ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা           কারও মুখের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী          ২২তম অধিবেশন চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৭:১৫:২০আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৭:২০:১৭
আমার পরিবারের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখাই আমার মূল লক্ষ্য : জসীম উদ্দিন চৌধুরী
এ কে নাহিদ

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, লিবারেশন কাউন্সিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চেয়ারম্যান, স্বাধীন বাংলাদেশের শ্রম, সমাজকল্যাণ এবং স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক মন্ত্রী প্রয়াত জহুর আহমদ চৌধুরীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের নানা ইতিহাস অনেকের জানা। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও সুবিদিত। তবে জহুর আহমদ চৌধুরী’র পরিবারের প্রকৃত তথ্য অনেকেরই অজানা। আর এই বিষয়ে তাঁর সন্তান মোঃ জসিম উদ্দিন সম্প্রতি টাইমওয়াচ প্রতিনিধির কাছে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, আমার পিতা মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরী ১৯১৫ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার কাট্টলী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জহুর আহমদ চৌধুরী’র বাবার নাম আবদুল আজিজ। তিনি আরো জানান, পূর্ব পুরুষের পেশার ধারাবাহিকতায় আবদুল আজিজ ছিলেন জাহাজের সারেং। আজীবন ত্যাগী, নির্লোভ, শ্রমজীবী মানুষের প্রিয় জহুর আহমদ চৌধুরী’র বর্ণাঢ্য জীবনে ৪ নারীকে বিয়ে করেন। তারা হলেন প্রয়াত আয়াতুন নূর, জাহানারা বেগম ওরফে পরিজান বিবি, প্রয়াত সাইয়েদা বেগম ও প্রয়াত ডা. নূরুন্নাহার জহুর। এদের ৩ জনই জহুর আহমদ চৌধুরী’র চলার পথে নানাভাবে সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। তিনি বলেন, জহুর আহমদ চৌধুরী’র প্রথম বিয়ে হয় কাট্টলী গ্রামের আখতারুজ্জামানের মেয়ে আমাতুন নূরের সঙ্গে; ১৯৪০ সালের ৮ জানুয়ারি। আমাতুন ছিলেন জহুর আহমদ চৌধুরীর চাচা উকিল আখতারুজ্জামানের মেয়ে অর্থাৎ সম্পর্কে চাচাতো বোন। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যে সেই স্ত্রীর মৃত্যু হয়। তার কোনো সন্তান ছিল না। ফলে চৌধুরী পরিবারে তার কোনো প্রভাব বা ছায়া পড়েনি। অন্য ৩ ঘরের মোট ছেলে-মেয়ে ২০ জন। এর মধ্যে ১১ জন ছেলে ও ৯ জন মেয়ে। চৌধুরী’র দ্বিতীয় স্ত্রী জাহানারা বেগম ওরফে পরিজান বিবি দামপাড়া এলাকার তৎকালীন বিখ্যাত মনু খলিফা বাড়ির আবদুস সোবহানের কন্যা। আবদুস সোবহান ছিলেন বিত্তহীন। জহুর আহমদ চৌধুরী বিয়ের সময় তার ৪০ শতক ভিটে বাড়ি জাহানারা বেগমকে দান করে দেন বলে আমি আমার গর্ভধারিণী মায়ের কাছ থেকে জানতে পারি। জহুর আহমদ চৌধুরী’র পরের দুই স্ত্রীকে সেই সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করে দেন জাহানারা বেগম। তার প্রথম কন্যা সন্তান শৈশবে মারা যান। তিনি বলেন, জাহানারা বেগম শহীদ জননী জাহানার ইমামের মতোই শহীদ জননী হলেও তাকে নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। জাহানারার তিন ছেলের মধ্যে প্রথম জন সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৩ এপ্রিল হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হন। চট্টগ্রামের জামালখান সড়কের উত্তরপ্রান্ত থেকে লালখান বাজার ইস্পাহানি মোড়ের পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত শহীদ এস এস খালেদ চৌধুরী সড়কটি শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরীর স্মৃতি বহন করে চলেছে। দ্বিতীয় ছেলে মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের আমার পরিবারের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখাই আমার মূল লক্ষ্য : জসীম উদ্দিন চৌধুরী
অন্যতম সহযোগী, বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তৃতীয় ছেলে মঈনুদ্দিন খালেদ চৌধুরী এক সময় ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে স্বাস্থ্যগত কারণে অবসর সময় কাটাচ্ছেন। জহুর আহমদ চৌধুরী’র তৃতীয় স্ত্রী সাইয়েদা বেগম। তার ৫ কন্যা ও ৩ পুত্র সন্তান। ৫ কন্যা সন্তান হলেনÑ জাহেদা বেগম (স্বামীর নাম : এ জহারুল হক চৌধুরী), সাজেদা বেগম (স্বামীর নাম : মাসুদ করিম সোহেল), খালেদা খানম (স্বামীর নাম : শেখ নুরুল আলম) রাশেদা বেগম রাসু (স্বামীর নাম : সিরাজুল হক চৌধুরী) শামীম আরা নিশু (স্বামীর নাম : প্রকৌশলী তৈয়বুল আলম)। তাঁর ৩ পুত্র সন্তান হলেনÑ নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, কুতুবউদ্দিন চৌধুরী ও জসীম উদ্দীন চৌধুরী। তিনজনই ব্যবসায়ে যুক্ত। জসীম উদ্দিন চৌধুরী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
জসীম উদ্দীন চৌধুরীর কাছ থেকে জানা যায়, তার মা সাইয়েদা বেগমের জন্ম ১৯৩৯ সালে পাকিস্তানের নিউপোস্তকস্থানে (পেশোয়ার)। তার বাবা ওবায়দুল্লাহ খান ও মা গোলতাজ বেগম। ব্রিটিশ আমলে ওবায়দুল্লাহ খান ছিলেন কারা কর্মকর্তা। ১৯৪৭ সালে তিনি কোলকাতায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। ভারত-পাকিস্তানের বিভক্তির সময় তিনি পরিবার নিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন এবং পতেঙ্গা এলাকায় শরণার্থী হিসেবে অবস্থান নেন। পরবর্তী সময়ে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে কাজ-কর্ম করে সংসার চালাতেন। জহুর আহমদ চৌধুরী তখন চট্টগ্রামের উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা। বিশেষ করে শ্রমিক নেতা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছিল তাঁর যাতায়াত ও সাংগঠনিক তৎপরতা। ১৯৫২ সালে পতেঙ্গা এলাকায় তার সঙ্গে পরিচয় ঘটে ওবায়দুল্লাহ খান ও তার পরিবারের সঙ্গে। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ওবায়দুল্লাহ’র মেয়ে সাইয়েদা বেগমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন জহুর আহমদ চৌধুরী। মায়ের কাছ থেকে শোনা কথার স্মৃতিচারণ করে জসীম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘স্বদেশী আন্দোলনে ভারত উপমহাদেশের ব্রিটিশ-বিরোধী অনেক আন্দোলনের কথা আমার মায়ের মুখ থেকে শুনেছি। ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের নেতা যতীন্দ্রমোহন  সেনের স্ত্রী ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত নেলী সেনগুপ্তা যেমন আর কখনও ইংল্যান্ডে ফিরে যাননি। আমার মাও তেমনি এই দেশকে ভালোবেসে পাকিস্তানে ফিরে যাননি। সারা জীবন আওয়ামী লীগের একজন হিসেবে বাবাকে সমর্থন করে গেছেন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় আমার বড় মা শহীদ আমার পরিবারের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখাই আমার মূল লক্ষ্য : জসীম উদ্দিন চৌধুরী
জননী জাহানারা বেগম ও বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা মাহতাবউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে আমি ও আমার মা তৎকালীন কূটনীতিক কে এম সাহাবুদ্দীনের গ্রামের বাড়ি পটিয়ার কাঞ্চননগর (বর্তমান চন্দনাইশ থানা) এবং তৎকালীন সময় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী জমিদার মানিক চৌধুরী পটিয়া থানার অন্তর্গত হাবিলাস দ্বীপ গ্রামের বাড়িতে আমরা তিনদিন আশ্রয়ে ছিলাম। আমাদের পুরোনো বাড়ি কাট্টলী এবং বড় কুমিরা আমার ফুফুর বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করি। একদিন আমরা কুমিরা থেকে আসার পথে ভাটিয়ারীর সামনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আমাদের বহনকারী গাড়িকে থামার নির্দেশ দেয়। গাড়িচালক ভয়ে নির্দেশ উপেক্ষা করে গাড়ি চালিয়ে চলে আসতে থাকলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গুলি করতে উদ্যত হয়। আমার মা পিছন থেকে চালককে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেন। সাথে সাথে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এসে আমাদের গাড়িচালক ও আমার চাচা নূরুউল্লাহ চৌধুরীকে মারধর করতে শুরু করে। আমার মা গাড়ি থেকে নেমে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পোস্ত ভাষায় উচ্চস্বরে কি যেন বলে বকাবকি করলে ওরা আমাদের ছেড়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, মা, তুমি সেদিন বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে কি বলেছিলে? জবাবে মা বলেছিলেন, তাদের বলেছিলাম, তোমরা নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করছ কেনো? তারা স্বাধীনতা চাচ্ছে, তাদের স্বাধীনতাটা দিয়ে দেওয়াটাই ভালো। ওরা জিজ্ঞেস করলোÑ তুমি বাঙালিদের সাথে কেনো? মা বলেছিলেন, বাঙালির সাথে আমার বিয়ে হয়েছে, তাই তাদের সাথেই আমাকে থাকতে হবে। ২০০৭ সালের ২৯ এপ্রিল আমার মা মারা যান। বাবার কবরের পাশেই তাকে শায়িত করা হয়। ১ নং বাগমনিরাম ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার নূরুন্নাহার জহুর ৫ পুত্র ও ৪ কন্যার জননী। তারা হলেনÑ জিয়াউদ্দিন আহমদ চৌধুরী শাহীন (মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী), শিল্পপতি হেলাল উদ্দিন চৌধুরী আমার পরিবারের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখাই আমার মূল লক্ষ্য : জসীম উদ্দিন চৌধুরী
তুফান, কামরুদ্দিন চৌধুরী কমু (প্রয়াত), মহিউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও শরফুদ্দিন আহমদ চৌধুরী রাজু। মেয়েরা হলেনÑ জেরিনা শিরিন, (স্বামীর নাম: এম এ আহাদ), জেরিনা বেবী (স্বামীর নাম : আমিনুল ইসলাম শাহজাদা), জেরিনা পারভীন (স্বামীর নাম : ডা. এম এ সালাম) ও জেরিনা রোজী (স্বামীর নাম : আনিসুল মোরশেদ জুনায়েদ)। ১৯৮৬ সালের ১২ মার্চ ডা. নূরুন্নাহার জহুর মারা যান।
অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছেÑ আমার পিতা জহুর আহমদ চৌধুরী মারা যাওয়ার পর থেকেই আমরা সহায়হীন হয়ে পড়ি। সংসারের ভবিষ্যতের জন্য বলতে গেলে তেমন কোনো সম্পদ তিনি রেখে যাননি। পরবর্তী সময়ে আমরা যার যার অবস্থান থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি করে স্বাবলম্বী ও স্বচ্ছল হওয়ার চেষ্টা করি। এরই আলোকে জীবিকার তাগিদে আমি কানাডায় চলে যাই। কানাডায় আত্ম-নির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করি। পাশাপাশি আমি যেহেতু ঐতিহাসিক পরিবাওে জন্ম গ্রহণ করেছি; তাই আমি আমার পরিবারের ঐতিহ্য রক্ষা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করি। আমি জীবিকার তাগিদে কানাডায় অবস্থান করলেও বঙ্গবন্ধু এবং আমার পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা ও জনগণের সঙ্গে প্রতিনিয়তই যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের লালদীঘির মাঠে বঙ্গবন্ধু ৬ দফা ঘোষণা করেন। আমার বাবা এই আন্দোলনের সভাপতিত্ব করেন। তখন এই কাজটি করা খুবই দূরুহ ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আমাদের বাড়ি থেকে হয়েছে। যে বিশ্বাস ও চেতনাকে ধারণ করে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু আমার বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং যে চেতনায় জাগ্রত হয়ে আমার বড় ভাই শহীদ সাঈফুদ্দিন খালেদ স্বাধীন দেশের স্বপ্নে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হয়েছেন তা (বাংলাদেশের স্বাধীনতা) বাস্তবায়নই আমার কাছে বড় পাওয়া । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে এই দেশের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশের ধারপ্রান্তে। মরহুম জহুর আহামদ চৌধুরী’র পরিবারের সদস্য হিসেবে যা আমার চাওয়া ছিল। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। তবে মাঝে মাঝে দুঃখ হয় একজন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বিভিন্নভাবে অনেক সহযোগিতা পেলেও আমার বাবা লিবারেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিল অথচ আমাদের পরিবার কিছুই পায়নি। যুদ্ধের সময় অনেক পাকিস্তানিদের পরিত্যাক্ত সম্পদ উদ্ধার করার দায়িত্ব ছিলেন, অথচ আমার বাবা আমাদের বর্তমান বাড়িটি ছাড়া আর কোনো সম্পদ রেখে যাননি। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে আমার বাবা প্রতি মাসে ৩০ লাখ টাকা আমার পরিবারের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখাই আমার মূল লক্ষ্য : জসীম উদ্দিন চৌধুরী
শ্রমিকদের কাছ থেকে রাজনীতির জন্য সহযোগীতা পেতেন, তথাপিও আমার বাবা মারা যাওয়ার ৩ দিন পর আমাদের বাড়িতে চা পানের জন্য দুধ কেনার সামর্থ্য ছিল না। আওয়ামীলীগ সরকার আমার বাবার নামে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করেছেন; এই জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট কৃতজ্ঞ। আমার বাবা ক্ষদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি মার্কেট নির্র্মাণ করেছেন; যা জহুর হকার মার্কেট নামে পরিচিত। তবে ওখানে আমাদের এক ফুটও জায়গা নেই। তাই আমিও আমার বাবার মতো নিজের পাওয়ার বিষয়টি ভাবি না; আমি আমার এলাকার জনগণের প্রাপ্তিতে যাতে কোনো ঘাটতি না হয় তার জন্য আজীবন লড়াই করে যেতে প্রস্তুত আছি।
জনাব চৌধুরী জানান, আমাদের বাড়িটি বাংলাদেশের মুক্তির ইতিহাসে বহু লড়াই সংগ্রামের স্মৃতি বিজড়িত। ১৯৪৭ সাল থেকে এই দেশের নিপিড়িত মানুষের মুক্তির আন্দোলনের স্বাক্ষী এই বাড়িটি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানীসহ অনেক মুক্তিকামী প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতার পদচারণা ছিল আমাদের এই বাড়িতে। এই বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ‘উবপষধৎধঃরড়হ ধিৎ ড়ভ ওহফবঢ়বহফবহপব’ স্বাধীনতা ঘোষণা প্রথম আমাদের বাড়ির ‘৮০৭৮৫’ এই টেলিফোনের মাধ্যমে আমার বাবা প্রাপ্ত হন। বঙ্গবন্ধুর এই বার্তাটি আমার বাবা যথাযথ দায়িত্বের সঙ্গে এম এ হান্নান ও মেজর জিয়া’র মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করেছিলেন। পাকহানাদার বাহিনীরা বুঝতে পেরে আমাদের বাড়িটিতে আক্রমন চালায়, গুলি এবং আগুনে পুড়িয়ে দেয়। শুধু তাই নয় স্বাধীনতা পরবর্তীতেও চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগের যাবতীয় কার্যক্রম এই বাড়ি থেকেই পরিচালিত হতো। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি রক্ষা করা এই দেশের সকল সরকারের দায়িত্ব ছিল। আমরা আমাদের দারিদ্রতার কারণে এই বাড়িটি রক্ষা করতে পারিনি। পরিবারের সদস্য সংখা বেশি হওয়ার কারণে ডেভলাপারের মাধ্যমে আবাসনের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, এটিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়িটি রক্ষনাবেক্ষণের জন্য কোনো সরকারের কাছে থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি। চট্টগ্রাম ৯ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চাইবেন কী-না এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই চাইবো। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, আমার বাবা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আমৃত্যু আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন হিসেবে ৫৪’র যুক্ত ফ্রন্ট নির্বাচন থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচনসহ সকল জাতীয় নির্বাচনে আমার বাবা আওয়ামীলীগের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এবং জনগণের গভীর ভালোবাসার কারণে বারবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমার বাবা মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরী এই এলাকার মানুষের জন্য যে ভালোবাসার বীজ বপন করে গিয়েছেন তার ফলশ্রুতিতে এই এলাকার মানুষের পাশে থাকাটা এখন আমার নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের জন্য না হলেও এলাকার মানুষ তথা দেশের স্বার্থে আমাকে নির্বাচন করতে হবে। এলাকার ছাত্র, জনতা, শ্রমিক, ব্যবসায়ী অনেকেই আমাকে বলছেনÑ বঙ্গবন্ধুর সহকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও কামরুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের যেভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল্যায়ন করেছেন; আমরা আশা করছিÑ জহুর আহামদ চৌধুরী’র পরিবারের সদস্য হিসেবে আপনার সততা ও দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম বিবেচনা করে আপনাকেও সঠিক মূল্যায়ন করবেন। তিনি বলেন, আমি ১৯৮৩ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে খালেদা সরকারের পতন পর্যন্ত রাজপথে সাহসিকতার সঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছি। আমি দায়িত্ব পালন করেছি-আমার পরিবারের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখাই আমার মূল লক্ষ্য : জসীম উদ্দিন চৌধুরী
কোতোয়ালী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি (১৯৮৮-১৯৯১) এবং চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির ১নং সদস্যও ছিলাম (১৯৯৫-১৯৯৭)। আর্থিক স্বচ্ছলতার কারণে (১৯৯৭ সালে আওয়মীলীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর) দেশ ত্যাগ করি। সেখানে গিয়েও দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছি কানাডাতে প্রতিষ্ঠা করেছি কানাডা যুবলীগ। প্রতিষ্ঠাতা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সুনামের সঙ্গে পালন করেছি ২০১৬ সাল পর্যন্ত। ২০১৭ সাল থেকে আবার দেশে ফিরে এসে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি জনগণের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করেছি। ১৯৮৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সকল আন্দোলনে আমার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সবশেষে তিনি বলেন, দারিদ্র্যতার কারণে আমরা আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য রক্ষা করতে পারিনি। আমাদের ঐতিহাসিক পৈত্রিক ভিটা অর্থের অভাবে ডেভেলপ্টমেন্ট কোম্পানিকে দিতে বাধ্য হয়েছি। তারপরও আমি আমার ঐতিহাসিক পরিবারের ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রাখাই আমার মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে আমি আমার পিতার মতোই নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে আমি যদি সম্পৃক্ত হতে পারি; তাহলে নিজেকে ধন্য মনে করবো। আর এই লক্ষ্যেই আমি কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এলাকার হত-দরিদ্র জনগণকে নিয়ে আমার প্রয়াত পিতা জননেতা জহুর আহমদ চৌধুরী যেভাবে কাজ করেছেন আমিও তাঁর মতো আজীবন কাজ করতে চাই। আর কাজের মাধ্যমেই আমি আমার পিতার মতো এই দেশে চির স্মরণীয় ব্যক্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখি। আমি জানি যে, অনেক ধন সম্পদ নয়, কর্মের মাধ্যমেই মানুষ বেঁচে থাকে। তাই আমি কর্মের মাধ্যমে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই।
তথ্য সহায়তা : ইতিহাসের খসড়া

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd