ঢাকা : মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • গণতন্ত্র এখন সুরক্ষিত : প্রধানমন্ত্রী          ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পেশ          নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সকলকে সহযোগিতার আহবান স্পিকারের          প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠানে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী          তিন হাজার বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে
printer
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৩:৫৪:১৭
এই শীতে ঘুরে আসুন পাথরের স্বর্গ জাফলং
টাইমওয়াচ ডেস্ক


 

শীতকাল। ভ্রমণের জন্য সময়টি বেশ উপযুক্ত। কর্মব্যস্ত জীবনে একটু অবসর পেলেই ঘুরে আসতে পারেন আপনার কাঙ্ক্ষিত স্থান। এ ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন পাথরের স্বর্গ খ্যাত জাফলংকে।
 
সিলেটের জাফলং সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির অপরূপ মহিমা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। ওপারে খাসিয়া  জৈন্তা পাহাড়, এপারে নদী। পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে চলছে ঝরনা, আর নদীর বুকে স্তরে স্তরে সাজানো নানা রঙের নুড়ি পাথর। দূর থেকে তাকালে মনে হবে আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়। পাহাড়ের গায়ে নরম তুলার মতো ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘরাশি। প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য জাফলং। এখানেই শেষ নয় সমতল চা-বাগান, খাসিয়া পল্লী, পানের বরজ-কী নেই জাফলংয়ে! সিলেটের জাফলংকে তাই বলা হয়ে থাকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। প্রকৃতিকন্যা নামেও রয়েছে আলাদা পরিচিতি। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে ভারতের সীমান্তঘেঁষা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই জনপদকে। জাফলংয়ের সৌন্দর্য দেখতে তাই প্রতি বছরই প্রচুরসংখ্যক পর্যটক ভিড় করেন এখানে। জানা যায়, ঋতু- বৈচিত্র্যের সঙ্গে জাফলংও তার রূপ বদলায়। সৌন্দর্যে আসে  বৈচিত্র্যতা। বর্ষায় গেলে এখানে দেখা যাবে ওপারের পাহাড় থেকে নেমে আসা অগণিত ঝরনা। সবুজের বুকে নেমে আসা ঝরনাধারায় সূর্যের আলোর ঝিলিক ও পাহাড়ে ভেসে বেড়ানো মেঘমালা মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে পর্যটকদের। আবার শীতে অন্য রূপে হাজির হয় জাফলং। চারদিকে তখন সবুজের সমারোহ, পাহাড় চূড়ায় গহিন অরণ্য। ফলে শীত এবং বর্ষা সব সময়ই বেড়ানোর জন্য উপযুক্ত স্থান হতে পারে জাফলং। জাফলংয়ের বুক চিড়ে বয়ে গেছে দুই নদী। ধলাই ও পিয়াইন। এ নদী দুটি অনন্যতা এনে দিয়েছে জাফলংকে। ধলাই ও পিয়াইনের স্বচ্ছ জলে দল এই শীতে ঘুরে আসুন পাথরের স্বর্গ জাফলং
বেঁধে ঘুরে বেড়ায় নানা জাতের ছোট মাছ। দুই নদীর পানির নিচ থেকে ডুব দিয়ে হাজার হাজার শ্রমিকের পাথর উত্তোলনের দৃশ্যও মুগ্ধ করে পর্যটকদের। নদীর পানিতে নারী-পুরুষের এই 'ডুবোখেলা' দেখা যায় ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি। সীমান্তের ওপারে ডাউকি নদীর ওপরে দুই পাহাড়ের মাঝখানে ঝুলন্ত সেতু বাড়িয়ে তুলেছে জাফলংয়ের সৌন্দর্য।পাহাড়, পানি, পান, পাথর, ঝরনা সব মিলিয়ে জাফলং যেন এক রূপকথার রাজ্য। নাগরিক জঞ্জাল আর কোলাহল ছেড়ে  শান্তি খুঁজে নিতে তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, এমনকি দেশের বাইরে থেকেও দল বেঁধে জাফলংয়ে বেড়াতে আসেন পর্যটকরা।ভাড়া নৌকায় পিয়াইন ও ধলাইর বুকে ভেসে বেড়ান তারা।পাহাড় আর নদীতে সীমাবদ্ধ নয় জাফলংয়ের সৌন্দর্য।জাফলংয়ের সৌন্দর্যে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে সেখানকার আদিবাসীদের জীবনধারা।নদী পার হলেই খাসিয়াপুঞ্জি।খাসিয়াদের গ্রামকে বলা হয় পুঞ্জি।এই পুঞ্জিগুলোতে গেলে দেখা যাবে ৩-৪ ফুট উঁচুতে বিশেষভাবে  তৈরি খাসিয়াদের ঘর। 
প্রতিটি বাড়িতে সৃজিত পানবরজ।মাতৃতান্ত্রিক খাসিয়া সম্প্রদায়ের পুরুষরা গাছ বেয়ে বরজ থেকে পান পাতা সংগ্রহ করেন।আর বাড়ির উঠোনে বসে নারী সদস্যরা পান পাতা ভাঁজ করে খাঁচা ভর্তি করেন বিক্রির জন্য।পান পাতা সংগ্রহ ও খাঁচা ভর্তি করার অভিনব দৃশ্য পর্যটকদের নজরকাড়ে।পানবরজ ছাড়াও খাসিয়া পল্লীতে দেখা যাবে কমলা বাগান।কাঁচা-পাকা কমলায় নুয়ে আছে বাগানের গাছ।সংগ্রামপুঞ্জির রাস্তা ধরে আরেকটু এগুলো দেখা যাবে দেশের প্রথম সমতল চা বাগান।
এই শীতে ঘুরে আসুন পাথরের স্বর্গ জাফলং
অবস্থান
সিলেট শহর হতে ৫৬ কিলোমিটার দূরে পাথরের স্বর্গ জাফলং অবস্থিত।
 
কী দেখবেন
এখানে গেলে কাফনা নদী ও সারি নদীর ডান পাশে অরণ্যঘেঁরা টিলা দেখা যায়। নদীর স্বচ্ছ পাথরের পানি আপনাদের হৃদয় কেড়ে নেবে। এছাড়া তামাবিলের জিরোপয়েন্ট থেকে পাহাড়ের মধ্যে ওপারের একটি সেতু আপনাদের আকৃষ্ট করবে। জাফলং নদী থেকে ওপারের ঢাউকী বাজারের দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। তবে নদী পেরিয়ে আদিবাসী ‘খাসিয়া পুঞ্জি’তে গেলে আনন্দে নেচে উঠবে মন।
 
পাথরের স্বর্গ
জাফলংয়ের চার পাশ পাথরে ভরপুর। তাই স্থানীয়রা জাফলংকে ‘পাথরের স্বর্গ’ বলে থাকেন। হয়তো শীতকালে এখানে ভ্রমণ করার আলাদা একটা মজা পেতে পারেন। কারণ এর প্রাকৃতিক দৃশ্য মন ভোলানোর মতো।
এই শীতে ঘুরে আসুন পাথরের স্বর্গ জাফলং
কোথায় থাকবেন
সিলেট শহরে বিভিন্ন মানের অসংখ্য হোটেল বা রেস্টুরেন্ট রয়েছে।
 
কীভাবে যাবেন
বিমান, ট্রেন অথবা বাসে প্রথমে সিলেট পৌঁছতে হবে। এরপর সিলেট শহর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে সিলেট তামাবিল সড়ক ধরে জাফলং পৌঁছবেন। সিলেট শহর থেকে লোকাল বাস অথবা মাইক্রোবাস ভাড়া করেও যাওয়া যায়।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
পর্যটন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd