ঢাকা : সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পাস          বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর          মুম্বাইয়ে বিমান বিধ্বস্তে নিহত ৫          প্রস্তাবিত বাজেট সর্বোচ্চ জনকল্যাণমুখী : পরিকল্পনামন্ত্রী          গণতন্ত্র এখন সুরক্ষিত : প্রধানমন্ত্রী          নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সকলকে সহযোগিতার আহবান স্পিকারের
printer
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৬:৩১:১০
তুরাগ তীরে ইজতেমা ময়দানের প্রস্তুতি চলছে
টঙ্গী সংবাদদাতা


 


বার জানুয়ারি শুক্রবার থেকে ঢাকার নিকট প্রতিবেশী টঙ্গীর কহর দরিয়াখ্যাত এককালের খরস্রোতা তুরাগ নদের তীরে শুরু হচ্ছে এবারের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা। প্রতি বছর বিশ্ব তাবলীগ জামায়াত এ ইজতেমার আয়োজন করে থাকে। তাবলীগ জামাত অনুসারি সারা বিশ্বের লাখো লাখো মুসল্লী এখন টঙ্গী মুখী।
পৌষের তৃতীয় সপ্তাহে এসে সারাদেশে জেঁকে বসেছে শীত। দু’দিনে সারাদেশের তাপমাত্রা অনেক নেমে গেছে। এই হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে তাবলীগ জামাতবদ্ধ মুসল্লীরা টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে এসে জমায়েত হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সামিয়ানার নিচে সবুজ মাঠে বিশাল এক জুম্মার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধুনালুপ্ত সোনাভানের টঙ্গী শহর হালে শিল্পনগরী টঙগী ও আশপাশ এলাকা সেজেছে নতুন রূপে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মুসল্লীরা প্রয়োজনীয় মাল-সামানা নিয়ে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের এক বর্গ কিলোমিটার জুড়ে চটের সুবিশাল সামিয়ানার নিচে জড়ো হতে শুরু করেছেন। আসতে শুরু করেছেন বিদেশী মুসল্লীরাও। আরমাত্র এক সপ্তাহ বাদে ১২ জানুয়ারি শুক্রবার বাদ ফজর থেকে শুরু হবে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এতে অংশ নেবেন দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩২ জেলার মুসল্লীরা। ১৪ জানুয়ারি রোববার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে প্রথম পর্ব। চারদিন বিরতি দিয়ে ১৯ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। এতে অংশ নেবেন বাকী ৩২ জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লীরাও দু’ভাগে ভাগ হয়ে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেবেন। একই ভাবে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ২১ জানুয়ারি রোববার শেষ হবে দ্বিতীয় পর্ব এবং সমাপ্তি ঘটবে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার।
উল্লেখ্য, দিন দিন বিশ্ব ইজতেমায় শরীক হওয়া মুসল্লী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং স্থান সংকুলনা না হওয়ায় গত ক’বছর থেকে বিশ্ব তাবলীগ জামাতের সুরার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
এরই মধ্যে তুরাগ তীরের ১৬৫ একর বিশাল ময়দান জুড়ে সুবিশাল সামিয়ানা তৈরীর কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। জামাতবন্দী মুসল্লীরা ছাড়াও টঙ্গীর আশপাশ এলাকার মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার এবং সব বয়সী ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে শুধুমাত্র মহান রাব্বুল আল-আমিনের নৈকট্য লাভের আশায় এ বিশাল ময়দান সাজিয়ে তুলেছেন। প্রয়োজনীয় মাল-সামানও স্বেচ্ছা প্রদত্ত। এত এত মাল-সামানা দিয়ে যারা সাহায্য-সহযোগিতা করছেন তাঁরা নিজেদের নাম প্রকাশ করেন না। তাঁরা শুধু দ্বীনের কাজে সহযোগিতা করেই খুশী। আগত লাখো লাখো মুসল্লীদের সুষ্ঠুভাবে বয়ান শুনার জন্য পুরো ময়দানে শব্দ প্রতিরোধক ৩০০ বিশেষ ছাতা মাইক স্থাপন করা হয়েছে। হাজার হাজার মুসল্লীদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদের ওপর ৯টি ভাসমান পল্টুন সেতু নির্মাণ করেছেন। ঢাকা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসন নতুন রাস্তা নির্মাণসহ ময়দানের প্রবেশের পুরোনো রাস্তাগুলো মেরামত, সংস্কার, সুপেয় পানিসহ ওজু, গোসলের প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, টয়লেট ইত্যাদি সকল কাজ সম্পন্ন করেছেন। প্রশাসন ইতোমধ্যেই মুসল্লীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু সুশৃঙ্খল নিরাপদে বিশ্ব ইজতেমা সম্পন্ন হওয়ার জন্য ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশ এলাকায় ৫ স্তর নিরাপত্তা বলয়ে আবদ্ধ করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। ওয়াচ টাওয়ারসহ স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। থাকবে পোষাকি এবং সাদা পোষাকি কয়েক হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। আরো থাকবে আকাশ পথে র‌্যাবের হেলিকপ্টার মহড়া।
গতকাল শুক্রবার সকালে ইজতেমা ময়দানে গিয়ে দেখা গেছে হাজার হাজার মুসল্লী কোয়াশা বেধ করে জুবুথুবু হয়ে সামিয়ানা টানানোসহ লাখো মুসল্লীর জন্য মাঠ তৈরির কাজে জড়িয়ে আছেন। কয়েকজন মুসল্লীর সঙ্গে আলাপ  করলে তারা বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের নৈকট্য পাওয়ার জন্য এসমস্ত শীত কোয়াশা একইবারে তুচ্ছ। পরকালের আজাবের চেয়ে এই কষ্ট কোন কষ্টই নয়।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd