ঢাকা : সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পাস          বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর          মুম্বাইয়ে বিমান বিধ্বস্তে নিহত ৫          প্রস্তাবিত বাজেট সর্বোচ্চ জনকল্যাণমুখী : পরিকল্পনামন্ত্রী          গণতন্ত্র এখন সুরক্ষিত : প্রধানমন্ত্রী          নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সকলকে সহযোগিতার আহবান স্পিকারের
printer
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ১২:৪৪:৩৮
বাহারি পণ্যের সমাহার এসএমই প্যাভিলিয়নে
ফেরদৌস হোসেন বাবু


 

আস্তে আস্তে জমে উঠছে বাণিজ্য মেলা। মেলার দিন বাড়ার সাথে সাথে ক্রেতা সমাগতও বাড়ছে প্রতিদিন। তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে ক্রেতারা মেলায় যাচ্ছেন। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এসএমই প্যাভিলিয়নে বাহারি পণ্যের পসরা সাজিয়েছে।
 
হাতের তৈরি আকর্ষণীয় বিভিন্ন পোশাক, হ্যান্ডিক্রাফট, লেদার পণ্য, জুট পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, রংপুরের ঐতিহ্যবাহী শতরঞ্জী, জামদানি ও মসলিন শাড়ি, মাটির গহনা, জামদানি গহনা, বিয়ের শাড়ি, বুটিক পণ্য, নারিকেল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী স্থান পেয়েছে এসএমই প্যাভিলিয়নে। এছাড়া খাবার, বিভিন্ন আচার, খাঁটি মধু ও ঘিসহ বাহারি অনেক পণ্যেও আছে এই প্যাভিলিয়নে।এসব পণ্য সবই দেশি উদ্দ্যোক্তাদের তৈরি ও নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের বলে এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এসব পণ্যের গুণগত মান ভালো ও টেকসই হয় বলে জানিয়েছেন এমএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফাহিম বিন আসমাত।
 
বাণিজ্যমেলার এমএমই ফাউন্ডেশনের প্যাভিলিয়ন- আর পি ১। অনেক পণ্যের সমাহার দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন মেলায় আসা লোকজন। জারমাটজ লিমিটেডের স্টল থেকে চাদর ও মাফলার কিনেছেন হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, চাদরগুলোর নতুনত্ব আছে। এটি অনেকটা জামদানি স্টাইলের। এমন ধরনের চাদর প্রথম চোখে পড়ায় আমি তিনটি চাদর কিনলাম।
 
একই স্টল থেকে জামদানি গহনা কিনছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী মাছুমা। তিনি বলেন, জামদানি আমাদের ঐতিহ্য। আর এটা দিয়ে তৈরি গহনা দেখতে খুব সুন্দর ও হালকা হওয়া কিনলাম।
 
নারীদের বিভিন্ন অলঙ্কারও পাওয়া যাচ্ছে এসএমই ফাউন্ডেশনের প্যাভিলিয়নে। এই প্যাভিলিয়নে ২২টি ছোট ছোট স্টল রয়েছে। যেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা তাদের পণ্যের প্রদর্শন করছেন। এখানে রয়েছে গলার হার, চুড়ি, কানের গহনা, নাকের গহনা, পার্স, বিভিন্ন শো-পিস, টিস্যু বক্স, ফুলদানি, ওয়ালমেট, ফটোফ্রেমসহ নানা ধরনের পণ্য সামগ্রী। আছে সিকা, ঝুলানো ফুলদানি, ফুলের টব, পুতুলসহ বাচ্চাদের বাহারি খেলনা সামগ্রী। এছাড়াও আছে চামড়ার তৈরি বিভিন্ন ব্যাগ, পার্স, বিস্কিট, চানাচুরসহ বিভিন্ন খাবারের পণ্য।
 
দেশীয় শিল্প, সংস্কৃতির ও ঐতিহ্যের নিপুণ কারুকাজ ফুটে উঠেছে বাহারি রঙ ও নকশার মসলিন, সুতি, তাঁত কাপড়ের প্রতিটি পোশাকে। বিভিন্ন প্রিন্ট, সুই-সুতার কাজ, অ্যামব্রয়ডারি, লেসসহ বিভিন্ন হাতের কাজে নতুনত্ব পেয়েছে প্রতিটি পোশাকে। শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার কামিজ, কুর্তি, শার্ট, ছোটদের পোশাক, ওড়না, কাপ্তানসহ উদ্যোক্তাদের সরাসরি নিজস্ব কারখানা থেকে তৈরি এ পোশাক পাওয়া যাবে এসএমই প্যাভিলিয়নে।
 
এই প্যাভিলিয়নে পণ্যের স্টলগুলো সাজানো হয়েছে খুবই সুশৃঙ্খলভাবে। এখানে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্য দুটি গেট রয়েছে।
 
পাঠকদের জন্য স্টলগুলোর নানা তথ্য তুলে ধরা হলো:-
 
২০ নম্বর স্টল হলো জারমাটজ লিমিটেডের। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাত জেরিন খান বলেন, আমরা নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করি। জার্মানি ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে আমাদের পণ্য রপ্তানি করা হয়। কয়েকদিন পর আমরা জার্মানির মেসে ফ্র্যাঙ্কফুর্ট মেলায় অংশ নেব। আমাদের সব পণ্যই এক্সপোর্ট কোয়ালিটির। তাই ক্রেতারা ভালো মানে পণ্য পাবে। আমরা আসলে বড় অর্ডার নেই। তবে মেলায় খুচরা পণ্য বিক্রিও করি।
 
জামদানি শাড়ির দাম তিন হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত আছে। এছাড়া মাফলার ২০০-৩০০ টাকা, বাস্কেট ৬০ টাকা থেকে ৮০০ টাকার, ব্যাগ ১০০ থেকে ৪০০ টাকার, ক্যাপ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, পার্স ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, শাল ৩০০ থেকে ১০০০ টাকা, ওড়না ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ইসমাত জেরিন।
 
ইসমাত জেরিন আরও জানান, আমাদের পাটের তৈরি পণ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যাগ, শপিং ব্যাগ, লেডিস ব্যাগ, কম্ব ব্যাগসহ বাহারি ডিজাইনের ২০ রকমের ব্যাগ। তিনি বলেন, ‘আমরা পাটের বহুমুখী পণ্য তৈরি করি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে পাট দিয়ে তৈরি ওড়না, টেবিল ম্যাট, বাস্কেট, জুতাও তৈরি হয়। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের প্যাভিলিয়নটি একটু আড়ালে পড়ে যাওয়ায় এখানে যে এমন বাহারি পণ্যে পাওয়া যায় তা অনেক ক্রেতা দর্শনার্থীই জানেনই না।
 
ইসমাত জেরিন বলেন, আমাদের দেশীয় পণ্যর প্রসার বেশি করতে হবে। কারণ বাণিজ্য মেলার অন্যতম উদ্দেশ্যই হল দেশি পণ্যেকে দেশে- বিদেশে পরিচিতি করে তোলা।
 
একই প্যাভিলিয়নের আরেকটি স্টল কজি লেদার। প্যাভিলিয়নের এক নম্বর এই স্টলটি সাজানো হয়েছে চামড়ার বিভিন্ন পণ্য দিয়ে। এখানে রাখা সব পণ্যই শতভাগ চামড়ার তৈরি বলে জানান স্টলটির বিক্রয় কর্মীরা। ১০০ থেকে ৩৬৭০ টাকা দামের পণ্য আছে এখানে। এর মধ্যে লেডিস পার্স ৩৭০ থেকে ৩৬৭০ টাকা, বেল্ট ৮০০ থেকে ১০৮০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
 
 
 
স্টলের বিক্রয় কর্মী সাখাওয়াত হোসেন  জানান, সব পণ্যই নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে তৈরি, যার শতভাগ চামড়া আছে।
 
এই প্যাভিলিয়নের দুই নম্বর স্টলটি বাউন্টি ফুড অ্যান্ড বেভারেজের। এখানে বিভিন্ন ধরণের আচার, জেলি, মাসকলাই, ডাল ও চালের গুড়া দিয়ে বানানো চিপসএর মতো ‘পাপাডাম’ ইত্যাদি পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাওলাদার বলেন, তাদের পণ্যগুলো মৌলভীবাজারের বিসিক শিল্পনগরীতে বানানো।
 
এই স্টলে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাতকড়া আচার, রসুনের আচার, চালতা আচার, আমের আচার, জলপাই আচার, জেলি, পাপাডাম, ইসপগুলের ভূষিসহ আরও খাবারের পণ্য রয়েছে।
 
কাজল বুটিকসের তিন নম্বরে স্টলটি সাজানো হয়েছে বিভিন্ন পোশাক দিয়ে। কথা হয় উদ্যোক্তা ইসরাত কিবরিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, সব পোশাকই তাদের প্রতিষ্ঠানের তৈরি। প্রতিটি পোশাকে হাতের কাজে ভিন্নতা আছে। থ্রি পিস দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা, শাড়ি ১৮০০ থেকে ১৫০০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া এখানে রয়েছে রাজশাহীর সিল্ক, কুশনের কভার, টেবিল ম্যাটসহ বিভিন্ন পণ্য।
 
এসএমই প্যাভিলিয়নের ২২টি স্টলের মধ্যে চার নম্বর স্টলটি সুলতান বিডি ওয়ার্ল্ডের। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা উদ্যোক্তাদের পণ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে স্টলটি। স্টলের বিক্রয় কর্মী তিথি  বলেন, এখানে বিয়ের শাড়ি থেকে শুরু করে ঘরসাজানো বিভিন্ন পণ্য আছে। ৬০০ থেকে ১২ হাজার টাকা মধ্যে বিয়ের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। আরও আছে জামদানি শাড়ি, সিল্কের শাড়ি টাকা, লাল-সবুজের টি শার্ট, লাল সবুজের পাঞ্জাবি। আছে ক্যান্ডেল, জিনসের ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্য।
 
পাঁচ নম্বর স্টলে হাজারিবাগের ফ্যাক্টরিতে তৈরি বিভিন্ন লেদারের পণ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে। পণ্যের মধ্যে আছে চামড়ার লেডিস ব্যাগ, বেল্ট, মানিব্যাগ, বিভিন্ন ধরণের চামড়ার ব্যাগ।
 
স্টল ২৩ নং নিয়েছে নুরজাহান এগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি প্রাইভেট লিমিটেড। এখানে নারিকেল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার ও নারিকেলের খোসা দিয়ে তৈরি গহনা পাওয়া যায়। স্টলটিতে রয়েছে নাড়িকেলে দিয়ে বানানো নাড়ু, নারিকেলের দুধের তৈরি ‘কাকিগোড়ি’।
 
২২ নম্বর স্টল সাজিয়েছে শতরঞ্জি পল্লি রংপুর লিমিটেড। এখানে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী শতরঞ্জি পাওয়া যায় বলে জানান স্টলের মালিক মারুফা খাতুন। তিনি বলেন, আমরা শুধু শতরঞ্জিই বিক্রি করি। এখানে কার্পেট, টেবিল ম্যাট, পাপোস, ছাগা কার্পেট (ঘাসের মতো) পাওয়া যাচ্ছে। পানি দিয়ে পরিষ্কার করলেও এখনো ১০ বছরে আগে কিছু হবে না।
 
প্যাভিলিয়নটির ২১ নম্বর স্টল হলো সিঁড়ি হস্তশিল্পের। এখানে বেডসিট, থ্রি পিস, ওয়ান পিস, ব্যাগসহ নারীদের বিভিন্ন পোশাক রয়েছে।
 
ওয়ানটাইম প্লাস্টিক এফএম প্রাইভেট লিমিটেড ইন্ডাস্ট্রি ৮ নম্বর স্টল সাজিয়েছে বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্য দিয়ে। এগুলো একবার ব্যবহারের জন্য পণ্য। এখানে পাওয়া যাবে টিফিন বক্স, বার্গার বক্স, কফি মগ, প্লেট ইত্যাদি।
 
৭ নম্বর স্টলটি রওয়া পিওর ফুডের। এখানে বিভিন্ন ফুলের মধু, তেল, ঘি, মসলা, মুড়ি, বিট লবন, ত্রিফলা, শিমুল চূর্ন, আতপ চালসহ বিভিন্ন ভেষজ পণ্য স্থান পেয়েছে।
 
স্টল ৯ সাজানো হয়েছে এস এন ফ্যাশন। রাজশাহীতে তাদের প্রতিষ্ঠান। এখানে নারীদের বিভিন্ন পোশাক রয়েছে। ১২ নম্বর স্টলটি রংপুর ক্রাফটের। এখানে শতরঞ্জি রয়েছে।
 
এনজেল ফ্যাসন হাউজ নিয়েছে ১০ নম্বর স্টল। নারায়ণগঞ্জের এই প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে শাড়ি, থ্রি-পিস, গ্রামীণ চেক পোশাকসহ নারীদের বিভিন্ন পোশাক।
 
ওম্যান ইন্টারপ্রাইনার নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন নিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশনের ১৩ নম্বর স্টল। আটটি সংগঠনের পণ্য দিয়ে সাজানো এ স্টলটিতে শাড়ি, বাঁশের ঝুড়ি, থ্রি পিস, ওয়ান পিস, টু পিস রয়েছে।
 
ফারহানা ফ্যাশনের স্টল ১৪ নম্বর। প্রতিষ্ঠানে মালিক রাসেল আজম  বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানটি মিরপুরের মাজাররোডে অবস্থিত। তারা মূলত দেশের শীর্ষ ১০ ব্যান্ডকে পণ্য সরবরাহ করে। এখানে বাচ্চাদের পোশাক থেকে শুরু করে সবার পণ্যই আছে।
 
তবে ১৯ নম্বর স্টলটি দেখলে চোখ আটকে যাবে দর্শনার্থীদের। নান্দনিক কারুকার্যের বিভিন্ন হাতে তৈরি পণ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে ‘নতুনত্ব বুটিকস ও হস্তশিল্প’ স্টলটি। প্রতিষ্ঠানটি মালিক হাসিনা মুক্তি বলেন, এখানে বিভিন্ন ধরণের ঘর সাজানো উপকরণ আছে। ফলের বাটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ফুল। যেগুলো ‘থাই ক্লে’ দিয়ে বানানো। থাই ক্লে দিয়ে বানানো শোপিসের মধ্যে রয়েছে কাঁঠাল গাছ, কলা গাছ, কানের দুল, চাবির রিং, চুড়ি, অর্কিট ফুল ইত্যাদি। ফ্যাশনেবল বোরকাও রয়েছে স্টলটিতে।
 
শাওন ক্রাফটের স্টল ১৭ নম্বর। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারা শিউলি বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানটি মিরপুরে অবস্থিত। রয়েছে শাড়ি, থ্রিপিস, টু পিস, ওয়ান পিস, সিল্কের শাড়ি, সুতি শাড়ি, গাউনসহ নারীদের বিভিন্ন পোশাক।
 
স্টল ১৫ নম্বর হলো রাজশাহী নকশী ঘরের, এখানে বিভিন্ন আকারের নকশিকাঁথা আছে। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী পারভিন আক্তার সরকারিভাবে বর্ষসেরা নারী উদ্যোক্তা-২০১৭ পুরস্কার পেয়েছেন। তাদের প্রতিষ্ঠান চাঁপাইনবাবগঞ্জে।
 
১৬ নম্বর স্টলটিতে আচার পাওয়া। আচার খেতে এই স্টলের সামনে সবসময় ভিড় থাকে আচার প্রেমিকদের। লাইন ধরে আচার অনেককে আচার খেতে দেখা যায়। ‘কাশ্মিরি আচার এন্ড ফুড প্রডাক্টসের স্টলে কথা হয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্দ্ধতন ব্যবস্থাপক শাহিনুর ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কাশ্মিরের আচারের সুনাম আছে। সেই অনুসারেই আমরা এই নাম রেখেছি। আমরা এ সুনাম ধরে রেখেছি। আমরা আমের কাশ্মিরি আচার বানিয়েছি। এছাড়া আমের আচার, রসুনের আচার, বোম্বাই মরিচের আচার, আলু বোখরা, জলপাই আচার, চালতার আচার, আমের টক, আমচুর, বড়ই, তেঁতুলের আচার, এক কোয়ার রসুনের আচারসহ বিভিন্ন আচার রয়েছে আমাদের।’
 
শাহিনুর ইসলাম আরও জানান, সরকার তাদের ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলনে স্টল নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। দেশে আচার শিল্পকে বিকশিত করার জন্য ২০১৭ সালে সরকার তাদের পুরস্কৃত করেছে বলে জানান তিনি।
 
বেসরকারি চাকরিজীবী জাহানারা বেগম বলেন, এসএমই উদ্যোক্তাদের পণ্য খুবই নিখুঁত এবং সুন্দর। দামেও বেশ সাশ্রয়ী। এখানে পণ্য কিনে কেউ ঠকবেন বলে আমার মনে হয় না।
 
এসএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফাহিম বিন আসমাত জানান, উৎপাদনকারীরাই তাদের স্টলে পণ্য নিয়ে এসেছেন। এসব পণ্যর গুণগত মান অনেক ভালো। দেশি পণ্য কিনে এসব উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে দর্শনার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ফাহিম বলেন, এক প্যাভিলিয়নে এত পণ্যের সমাহার থাকায় এক ছাদের নিচেই অনেক পণ্য পাবে ক্রেতারা।
 
ফাহিম জানান, এসএমই ফাউন্ডেশনের মোট ২৪টি স্টলের মধ্যে ২২টিতে তাদের পণ্যে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে থেকে আটটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। যারা এখানে অংশ নিয়েছে তারা সবাই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। হাতের নিপূণ কারুকাজে তারা ফুটিয়ে তুলছে পণ্যগুলো। যেগুলো ধারণ করছে দেশিয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ-বাণিজ্য পাতার আরো খবর

Developed by orangebd