ঢাকা : রোববার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে : সিইসি          নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি          দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ২২:৫৫:৩৮
ইজতেমার প্রথম দিনে লাখো মুসল্লীর বন্দেগী
দ্বিতীয় পর্বেও বৃহত্তম জুম্মার নামাজ অনুষ্ঠিত
টঙ্গী সংবাদদাতা


 


রাজধানীর অদূরে বিশ্ব তাবলীগ জামাত আয়োজিত টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুক্রবার বাদ ফজর থেকে শুরু হয়েছে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। আগামীকাল রোববার জোহরের নামাজের পূর্বে যে কোন সময় দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় আখেরী মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
তাবলীগ জামাতের জেষ্ঠ্য মুরুব্বীদের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমায় দেশের ১৪ জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরাও দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিয়েছেন। এ পর্বের জন্য ইজতেমা ময়দানকে জেলাওয়ারি ২৮টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনে ইজতেমা ময়দানে দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ মুসল্লি জুমার নামাজ আদায় করেছেন। জুমার নামাজে ইমামতি করেন ঢাকার কাকরাইল মসজিদের খতিব হাফেজ হযরত মাওলানা মোহাম্মদ যোবায়ের।
ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিন শুক্রবার জুমার নামাজে অংশ নিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয় ইজতেমা ময়দান। সাপ্তাহিক এ জুম্মার নামাজে অংশ নিতে গাজীপুর ও ঢাকাসহ আশপাশের জেলার মুসল্লিরা ভোর থেকে ময়দানে আসতে শুরু করেন। ইজতেমা ময়দান এবং ময়দানে স্থান না পেয়ে সড়ক-মহাসড়ক, অলিগলিসহ বিভিন্ন স্থানে পাটি, চটের বস্তা, খবরের কাগজ, চাদর ও পলিথিন বিছিয়ে মুসল্লিরা জুমার নামাজে শরিক হন।
ইজতেমার মুরুব্বি প্রকৌশলী মন্তাজ জানান, শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। বাদ ফজর আম বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা ফারুক। বাদ জোহর ঈমান ও আমলের উপর হেদায়েতী বয়ান করেন মাওলানা শেখ আহমদ মাসুদ ও বাদ আছর তাবলীগ জামাতের ৬ উছুলের ওপর বয়ান করেন মাওলানা ইউনুছ পালনপুরি।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে ৩৫টি দেশের ২ হাজার ৫শ’ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। এসময় তিনি আরো জানান, প্রথম পর্বের মতো র‌্যাব, পুলিশের ৮ স্তরের কড়া নিরাপত্তা অবস্থায় ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে। আশপাশ এলাকায় জেলা প্রশাসনের ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ভেজালবিরোধী অভিযান এবং উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ইজতেমা ময়দানের জিম্মাদার মুরুব্বী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন জানান, বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বেও মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে মুসল্লিরা জামাতবদ্ধ হয়ে বুধবার রাত থেকে ইজতেমাস্থলে আসতে শুরু করেন এবং ময়দানে জেলাওয়ারি খিত্তায় খিত্তায় অবস্থান নেন। কেউবা বাস, ট্রাক, পিকআপ, লেগুনা, কেউবা ট্রেনে, নৌকায় চড়ে এবং ট্রেনে করে ইজতেমাস্থলে আসছেন। যানবাহন থেকে নেমে তারা তাদের প্রয়োজনীয় মাল ছামানা নিয়ে নিজ নিজ জেলাওয়ারি খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন। মুসল্লিদের ইজতেমা ময়দানে আসার এ ঢল আখেরী মোনাজাতের আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
সড়ক থেকে ইজতেমা ময়দানে প্রবেশকালে ইজতেমা স্বেচ্ছাসেবী মুসল্লীগণ দিকনির্দেশনামূলকত সংকেত দিয়ে আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, যার যার ডানে চলি ভাই, যার যার ডানে চলি উচ্চারণ করে চারপাশ যেন আরো পবিত্র করে তুলছেন। ইজতেমা ময়দানের চারদিকে যতদূর চোখ যায় শুধু পাঞ্জাবি আর টুপি পড়া লাখো মুসল্লি আর মুসল্লি। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের পদচারণায় শিল্প নগরী টঙ্গী এখন যেন ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে।

ইজতেমা ময়দানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শুক্রবার টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান পরির্দশনে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, মাওলানা সা’দ ইস্যুতে কোনো প্রভাব এবারের বিশ্ব ইজতেমায় পড়েনি, ভবিষ্যতেও পড়বে না বলে তিনি জানান। শুক্রবার দুপুরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দান সংলগ্ন পুলিশ কন্ট্রোল রুমে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব একথা বলেন।
এ সময় মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেল, পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক, এডিশনাল আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারী, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর রশিদসহ পুলিশ ও র‌্যাবের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসময় আরো বলেন, ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের সদস্যদের মধ্যে মতভেদ আছে। তারই একটি ধারবাহিকতা বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সরকার এ মতভেদ দূর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। ফলে ইজতেমার প্রথম পর্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, দ্বিতীয় পর্বও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, ইজতেমার প্রথম পর্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৪ হাজারের বেশি বিদেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় পর্বেও অনেক বিদেশি এসেছেন। এ পর্ব শেষেও শান্তিপূর্ণভাবে মুসল্লিরা বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন। সরকারি ভাবে মুসল্লীদের ইবাদত বন্দেগী নির্বিঘœ করতে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
আসাদুজ্জামান খান জানান, ইজতেমায় নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করেছে। গোয়েন্দা নজরদারিসহ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে মুসল্লিদের স্বাস্থ্য সেবা, পয়ঃনিষ্কাশনসহ বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক ব্যবস্থা প্রথম পর্বের মতোই এবার রাখা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নারায়গঞ্জের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পুলিশের কাছে আছে। যারা অস্ত্র দেখিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের ধরার চেষ্টা চলছে।’

ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে ৩৫ দেশের মুসল্লি:
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহমুদ হাসান বলেন, দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ৩৫টি দেশের ২ হাজার ৫শ’ বিদেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। বিদেশি মেহমানদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, বিদেশি মেহমানদের জন্য পৃথক পাঁচটি ব্লক, পৃথক থাকার ব্যবস্থাসহ তাদের নিরাপত্তার জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিদেশি মেহমানরা যাতে সহি-সালামতে বাংলাদেশের আতিথেয়তা এবং শুদ্ধ ইসলামের চর্চা করে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন সেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিদেশি মেহমানদের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ইজতেমা সফল করতে ৭৫টি দফতরের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে। অবকাঠামো, ইউটিলিটি ও নিরাপত্তাসহ সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইজতেমা ময়দানে অবস্থানরত মুসল্লিদের ২৮টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। এসব খিত্তার মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, পয়ঃনিষ্কাসন ব্যবস্থাসহ সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে, মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জল, স্থল ও আকাশ পথে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রাহাতুল ইসলাম জানান, বিদেশি মেহমানদের রান্নার কাজের জন্য ১৩৬টি গ্যাসের চুলা স্থাপন করা হয়েছে।
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে ঢাকা জেলার খিত্তা নং-১  হইতে ১০ এবং ১৮ ও ১৯), জামালপুর জেলা খিত্তা নং-১১ ও ১২, ফরিদপুর জেলা খিত্তা নং-১৩, ফরিদপুর জেলা খিত্তা নং-১৪, ঝিনাইদহ  জেলা খিত্তা নং-১৫, ফেনী জেলা খিত্তা নং-১৬, সুনামগঞ্জ  জেলা খিত্তা নং-১৭, চুয়াডাঙ্গা  জেলা খিত্তা নং-২০, কুমিল্লা জেলা খিত্তা নং-২১ ও ২২, রাজশাহী জেলা  খিত্তা নং-২৩ ও ২৪, খুলনা জেলা খিত্তা নং-২৫ ও ২৭, ঠাকুরগাঁও  জেলা খিত্তা নং-২৬ ও পিরোজপুর  জেলা খিত্তা নং-২৮ এ অংশ নিবেন। তবে ঢাকা জেলার মুসল্ল¬ীরা ইজতেমার দুই পর্বেই অংশ নিচ্ছেন। মুসল্লীদের সুবিধার্থে ময়দানের উত্তর দিক থেকে ক্রমানুসারে দক্ষিণ দিকে খিত্তার নম্বর বসানো হয়েছে।
ইজতেমা আয়োজক শীর্ষ মুরব্বী সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমায় তাবলিগ জামাতের দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বুজুর্গ আলেমগণ ঈমান, আমল, আখলাক ও কালেমা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করবেন। মূল বয়ান উর্দূতে হলেও বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেয়া বিভিন্ন ভায়াভাষি মুসল্লিদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ওই বয়ান বাংলা, ইংরেজী, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
এদিকে গতকাল শুক্রবার হওয়ায় বরাবরের মতো ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের বৃহত্তম জুম্মার নামাজ। জুম্মার নামেজে অংশ নিতে ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লি ছাড়াও অনেক মুসল্লি ইজতেমা মাঠে জুম্মার নামাজ আদায় করতে এসেছেন। কাপাসিয়া এলাকার মুসল্লী মাহফুজুর রহমান জানান, বৃহত্তম জুম্মার নামাজ আদায় করতে বৃহস্পতিবার রাতেই ইজতেমাস্থলে এসেছেন তিনি। শুক্রবার সকাল থেকেও আশে-পাশের এলাকার মুসল্লিরা ইজতেমাস্থলে এসে জুম্মার নামাজে শরীক হয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা যায়, প্রথম পর্বের ইজতেমায় মুসল্লীদের সরকারি-বেসরকারি যেসকল সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছিল সেসব সেবা কার্যক্রম দ্বিতীয় পর্বেও চালু রয়েছে। মুসল্লীদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিতে ইজতেমা ময়দানের উত্তর পার্শ্বে মন্নু টেক্সটাইল মিলের গেইটের অভ্যন্তরে অর্ধশতাধিক বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারি ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প চালু রয়েছে। এসব সেবাকেন্দ্রে বিনামূল্যে মুসল্লীদের চিকিৎসা সেবা ও ঔষধপত্র দেয়া হচ্ছে।
প্রতি বছরই তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ১৬৫ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ইজতেমা মাঠের প্রস্তুতির প্রায় সব কাজই করা হয় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এবং আলাদা আলাদা গ্র“পের মাধ্যমে। বিশ্বের প্রায় সব মুসলিম দেশ থেকেই তাবলিগ জামাতের অনুসারি ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইজতেমায় অংশ নেন। এখানে তারা তাবলিগ জামাতের শীর্ষ আলেমদের বয়ান শুনেন এবং ইসলামের দাওয়াতী কাজ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেয়ার জন্য জামাতবদ্ধ হয়ে বেরিয়ে যান।
উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারী তিনদিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয়ে ১৪ জানুয়ারী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। মাঝে ৪দিন বিরতি দিয়ে গতকাল শুক্রবার থেকে ৩দিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০১৮ সালের ৫৩ তম বিশ্ব ইজতেমা।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
ধর্মতত্ত্ব পাতার আরো খবর

Developed by orangebd