ঢাকা : বুধবার, ২০ জুন ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • গণতন্ত্র এখন সুরক্ষিত : প্রধানমন্ত্রী          ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পেশ          নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সকলকে সহযোগিতার আহবান স্পিকারের          প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠানে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী          তিন হাজার বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে
printer
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৪:৫৯:৩২
২০২১ সালে কর জিডিপি রেশিও হবে ২০% : অর্থমন্ত্রী
ফেরদৌস হোসেন বাবু


 


উন্নত দেশ ও প্রতিবেশীদের তুলনায় বাংলাদেশে কর জিডিপি অনুপাত অনেক কম উল্লে¬খ করে আগামী ২০২১ সালে তা ২০ শতাংশে উন্নীত করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে মানুষকে কষ্ট না দিয়ে রাজস্ব বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও করজাল বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো হবে জানিয়েছেন তিনি।
২৬ জানুয়ারি শুক্রবার আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনসহ এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা কাস্টমস হাউজের কমিশনার প্রকাশ দেওয়ান। স্বাগত বক্তৃতা রাখেন এনবিআর সদস্য খন্দকার আমিনুর রহমান।  

রাজস্ব আহরণে অবদান ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার জন্য অনুষ্ঠানে ১৪ জনকে কাস্টমস্ কর্মকর্তা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ ৬টি সংস্থাকে ডবি¬উসিও সার্টিফিকেট অফ মেরিট প্রদাণ করা হয় ।

প্রধান অতিথীর বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে সরকারকে রাজস্ব আহরণ করতে হয়। ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে রাজস্ব বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। প্রতিবেশ ভারতসহ উন্নত সব দেশে কর জিডিপির অনুপাত ২০ শতাংশের বেশি হলেও বাংলাদেশে তা মাত্র ১১ শতাংশ। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের কর জিডিপি অনুপাত ২০ শতাংশে নিয়ে আসা। এজন্য এনবিআরকে আরো বেশি গতিশীল হতে হবে। রাজস্ব বান্ধব সংস্কৃতি তৈরির মাধ্যমেই আহরণ বাড়াতে হবে। গত দুই বছরে আয়কর দাতার হার দ্বিগুণে উন্নীত হয়েছে, এটিকে আরো বাড়াতে হবে।

কাস্টমস দিবস নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত নিরাপদ রাখা ও আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজতর করতে কাস্টমস কাজ করে। কাস্টমসের কাজকে মানুষের সামনে উপস্থাপনের জন্য ওয়ার্ল্ড কাস্টমম অর্গানাইজেশনের সঙ্গে আমরা এ দিবসটি পালন করছি। একটা সময় কাস্টমসই আমাদের রাজস্ব আহরণের মূল উৎস হলেও আন্তর্জাতিক মুক্ত বাণিজ্যের কারণে তা থেকে সরে আসতে হয়েছে। এখন আয়কর ও ভ্যাট থেকে রাজস্বের বড় অংশ আহরণ হয়। ভবিষ্যতে শুল্ক থেকে রাজস্ব আহরণের নির্ভরতা কমিয়ে কাস্টমসকে অনাকাঙ্খিত দ্রব্য আমদানি রোধে ব্যবহার করতে হবে। অর্থপাচার রোধ ও অনাকাক্সিক্ষত পণ্য আমদানি বন্ধই হবে কাস্টমসের মূল কাজ। এছাড়া কাস্টমসকে সীমান্ত সুরক্ষাসহ নতুন নতুন কাজে যুক্ত করা হবে।

অনুষ্ঠানে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২০২১ সালে ডিজিটাল মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে চায় সরকার। এজন্য ব্যক্তিখাত ও ব্যবসায়ীদের সহায়তা প্রয়োজন। এনবিআরকে ব্যবসায়ীদের নিয়ে চলতে হবে। তাদের সহযোগিতায় পদক্ষেপ নিতে হবে।

ড. মশিউর রহমান বলেন, অর্থপাচার, সঠিক হিসাবে আমদানি-রপ্তানি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কাস্টমসকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। যেখানে প্রণোদনা প্রয়োজন সেখানে দিতে হবে।  কাস্টমস কর্মকর্তাদের আচার-আচারণ, দৃষ্টিভঙ্গি শিল্পায়নের পক্ষে থাকা অত্যন্ত জরুরী। তাদের ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার করতে হবে। আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে পদক্ষেপ নিতে হবে। উৎপাদন বন্ধ করে নয় বরং উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ায় পক্ষে ব্যবস্থা নিতে হবে। উৎপাদন ও কারখানা বন্ধ করে আইন প্রয়োগ করা যাবে না।

ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থপাচার হচ্ছে। গুলশান বনানীতে অনেক বড় বড় বাড়ির মালিকরাই বিদেশে অর্থপাচার করছে। আমরা এখনো কেন সোনা চোরাচালান কেন বন্ধ করতে পারি না? এসব বিষয়ে কাস্টমসকে কাজ করতে হবে। এমন নীতি (পলিসি) গ্রহণ করতে হবে যার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্যে অবদান রাখতে পারে।   

 
ব্যবসার ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দুর করা জরুরি উলে¬খ করে তিনি আরো বলেন, নন ট্যারিফ বেরিয়ারের কারণে প্রতিবেশি অনেক দেশ ব্যবসা বাণিজ্যে সুবিধা করতে পারলেও বাংলাদেশ সমস্যায় পড়ছে। কাস্টমসের নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয় চিন্তা করতে হবে।

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড শক্তিশালীকরণ ও ডিজিটালাইজেশনসহ আমদানি-রফতানি সহজতর এনবিআরকে আরো বেশি সক্রিয় হতে হবে। ব্যবসায়ীরা যেনো ব্যবসা পরিচালনা করে কর দিতে পারেন সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কাস্টমসহ ব্যবসার শুরুর ক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সার্ভিস পেলে করের পরিমাণ অনেক বাড়বে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ-বাণিজ্য পাতার আরো খবর

Developed by orangebd