ঢাকা : শনিবার, ২৬ মে ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • অটিজম আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে আহবান প্রধানমন্ত্রীর          নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সকলকে সহযোগিতার আহবান স্পিকারের          প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠানে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী          তিন হাজার বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে           সালেই বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে : মেনন
printer
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৮:১৫:২১আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৮:১৮:১৪
মোঃ সিরাজুল ইসলাম এফসিএর পাঁচটি কবিতা


 


দুঃখের স্বরূপ
তোমার পথে অগ্রসর হতে হতে
পেরিয়েছি কোটি কোটি বাধা।
আন্দিজ পর্বত শিখরের অভিযাত্রীরা
যেমন করে অতিক্রম করে বরফাচ্ছাদিত
দুর্গম পথ ইঞ্চি ইঞ্চি করে,
অ্যানটার্কটিকার তুহিন শীতল বরফ
অতিক্রম করেছি তোমার দিকে তাকিয়ে।
সাইমুম ঝড়ের ধূলি ধূসরিত ছোবল।
সত্তাকে করেছে প্রচ- উদ্বেল।
আর্কটিকের বৈরী পরিবেশ উপেক্ষা
করে জীবন্মৃত এসেছি তোমার দুয়ারে।
শুধু একটু ভালোবাসার জন্য।
শুধু একটি লাল গোলাপের জন্য।
তখন কি জানতাম, সাহারা-কালাহারির
ধু-ধু শূন্যতা অপেক্ষা করছে আমার জন্য!
বিষণœ লু হাওয়া তেড়ে আসবে
অস্তিত্বকে ভূলুণ্ঠিত করতে?
উপেক্ষার বিবর্ণ মেঘ ঝাঁজরা করবে!
দিনে দিনে অতিবাহিত হলো মাস-বছর
আমার কষ্টের কথা জানলে তুমি,
ততদিন বেদনার গাংচিল ওড়া
দুপুর, ব্যর্থতায় ভারাক্রান্ত প্রহর
ধীরে ধীরে লুপ্ত হয়েছে গ্রীস্মের
তাপ পাওয়া আর্কটিকের জমাট বরফ,
বুকে জমেছে দুগ্ধ ফেননিভ বিন্দু
বিন্দু শিশিরকণা।
ততদিনে তোমার আগমন
নব রূপায়িত এই মানুষের দুয়ারে
কি করে পাবে তুমি একটি গোলাপ!
কি করে পাবে এক টুকরো স্নিগ্ধতা,
তোমার তৈরি বৈরী বাতাসে জর্জরিত
হৃদয়ের খোলা জানালাগুলো
বন্ধ নিষ্ঠুরতার করাল গ্রাসে।
দুঃখই তো তোমার প্রাপ্য
উপেক্ষাই তো তোমার নিজের তৈরি উপহার
কষ্টে ভেঙে পড়লে চলবে না,
যন্ত্রণার চোরবালিতে আটকে গেলে চলবে না।
আত্ম অহংকারের চোরাবালিতে
ডুবে উপলদ্ধি করো দুঃখের স্বরূপ।
না, ভয় পেয়ে চলে যেয়ো না
তোমার মতো অতটা নিষ্ঠুর আমি নই!
তোমার কান্না যে আমার হৃদয়ের
অবদমিত কান্না।
 
উষ্ণতা
শীতার্ত ধরণীতে নাই বা হলাম গ্রহণযোগ্য।
ঝরা পাতার মর্মরে মুছলো আকুলতা
অশ্বত্থের পথের শীতলতা ভুবনের
দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়।
বটের দয়ালুতায় ছায়া দিয়ে পরিজনের
থেকে পাওয়া শুধুমাত্র অবজ্ঞা।
কখন যে কার প্রয়োজন ফুরায়
কখন যে কে প্রিয়জনের শ্রদ্ধা হারায়
পর হয় তাড়াতাড়ি আপন জানতাম
তার চেয়েও দ্রুত আপনজন হয় পর।
ভেজা কুয়াশার অস্পষ্টতা চারদিকে
তমসার চাদর জড়ানো, মেঘাচ্ছন্ন
আকাশ ভালোও লাগে মাঝে মাঝে;
পৃথিবীতে এখন বড় শীত
শীতের প্রকোপে কাঁপছি, আমি
তুমি, পৃথিবীর সব্বাইÑ
তবুও আমরা কেউই চাই না শীত কমাতে
চাই ধরণী আরও শীতার্ত হোক
ফায়দা লুটি জীবনের প্রয়োজনে
আমি চাই উষ্ণতায় ভরুক আমার বুক
কিন্তু হায়! উষ্ণতা দেবার কেউ নেই পৃথিবীতে
 

আগুন
শীতার্ত মানুষের আর্তচিৎকার ধরণীতে
পৃথিবী কাঁপছে দারুণ শীতে!
গাছপালা সব পাতা ঝরায়
শাল-শিরীষ আর শিমুলতলায়
সবাই কাঁপছে উত্তরের হাওয়ায়
পুড়ছি আমি বুকের ভিতর
প্রজ্বলিত তুষের আগুন
ভালোবাসার আগুন যার বক্ষে
পৃথিবীর সব শীত তার কাছে তুচ্ছ।

 

তোমার ভেবে
তোমার কথা ভেবে ভেবে
নিঃসঙ্গ রজনী কত হচ্ছে পার।
মনের আনাচে-কানাচে জমেছে
একরাশ বিষণœ ধুলোর আস্তর।
গ্রিনল্যান্ডের পেজা তুলার মতো
নরম বরফের হিমশীতল গহ্বরে
ক্রমাগত ডুবে যাচ্ছি আমি।
তোমাকে ভেবে তলিয়ে যাচ্ছি
আমি আফ্রিকার গহিন অরণ্যে।
ক্ষুর ধ্বনিময় বিস্তীর্ণ মরুভূমি প্রান্তরে।
শরীর মন হয়ে যাচ্ছে নিস্তব্ধ নিথর।
ও জীবন সাথী!
তোমায় ভেবে গভীর আটলান্টিকের
পানির রাশিতে রূপ নিচ্ছে নয়নযুগল।
তোমায় ভেবে সাহারা, কালাহারির
মতো নিবিড় শূন্যতায় ডুবে যাচ্ছি আমি...
পথ চেয়ে আছি

 

তোমার জন্য পথ চেয়ে ছিলাম
জীবনের একুশটি বসন্তে।
তোমার জন্য পার কয়েছি এলোমেলো
বিষণœ নিঃসঙ্গ প্রহরগুলো।
জীবনকে আন্দোলিত করে
অবশেষে তুমি এলে।
শরতের সুনীল আকাশের মতো।
ঈষৎ শীতের হিমেল হাওয়ার মতো।
বসন্তের বনফুল আর হাস্নাহেনা মেশানো
সৌরভ ছড়ানো পথ বেয়ে।
ফলে ফুলে সুশোভিত করলে আমার হৃদয়ভূমি।
সুখেই তো ছিলাম বেশ।
তবে কেন চলে গেলে আমার
অপরাধটুকুও জানতে না দিয়ে
অথচ তোমার জন্য কিই-না করেছি আমি
মৃত্যুকে পদদলিত করে
অথই সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে তুলে এনেছি
একঝাঁক ঝিনুক
তোমার খুশির জন্য হৃদয়ের মিনারে
তীব্র কষ্ট সয়েছি একবুক
তোমার পথ চেয়ে চেয়ে
একটা অশুভ কাঁটালতা বেড়ে উঠছে
আমার শরীর বেয়ে।
জীর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছি আমি।
মনের আনাচে-কানাচে জমেছে
একরাশ বিষণ্ন ধুলোর আস্তরণ।
গ্রিনল্যান্ডের পেজা তুলার মতো
নরম বরফের হিমশীতল গহ্বরে
ক্রমাগত নিমজ্জিত হচ্ছি আমি।
তোমার পথ চেয়ে হারিয়ে যাচ্ছি আমি
বিশাল সাহারার বিস্তীর্ণ
‘লু’ হাওয়ার বুকে
তোমার বিচ্ছেদের তীব্র লেলিহান
শিখায় ঝলসে গেছে অন্তরাত্মা।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাহিত্য-সংস্কৃতি পাতার আরো খবর

Developed by orangebd