ঢাকা : শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে : সিইসি          নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি          দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৬:১৩:১১
আত্রাই নদীর বুকে ফসলের হাতছানি
নওগাঁ সংবাদদাতা


 


নওগাঁর মান্দা উপজেলায় এবারে বর্ষা মৌসুমে বুড়িদহ বাজারের পার্শ্বে সুজন সখি নামক ঘাটসহ একাধিক জায়গায় নদীর বাধ ভাঙ্গনের ফলে মান্দা বাসীকে ভয়ানক বিপদের সম্মুখীন হতে হয়ে ছিলো। নদী ভাঙ্গনে মান্দার তৃণমূলের কৃষকের অপুরণীয় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেকেই নদীর বুকে ফসলের চাষ শুরু করেছে।
উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে চলা ছোট আত্রাই নদীর বুক চিরে এক সময় বজরা ও পালতোলা বড় বড় নৌকা চলত। কালের পরিক্রমায় সেই নদী এখন আপন স্বকীয়তা হারিয়ে ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। নদীর চারিদিকে তাকালে শুধুই সবুজের হাতছানি।
দিনের পর দিন পলি জমে নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় অতি দ্রুত নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। শুকনো নদীতে চাষ হচ্ছে গম, ভুট্টা, সরিষা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন ও মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন ধরনের শাক সবজি। ক্ষীণধারায় বয়ে যাওয়া নদীর দু ধারে এখন কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা সতেজ ফসল বাতাসে দোল খাচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার ছোট আত্রাই নদীর পাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর যে সকল স্থান আগেই শুকিয়ে গেছে সে সকল স্থানে ফসলের চাষ হচ্ছে পুরোদমে। কয়েক বছর আগে নদীতে প্রচুর পরিমাণে বালি ছিল কিন্তু এখন পলি পরে কিছু কিছু স্থানে বালি না থাকায় নদীর মাঝে ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হচ্ছে।
তবে ফসল বাঁচানো নিয়ে শংকায় আছেন তারা। নদীর আশে পাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৫-৬ বছর আগে নদীর পানি দিয়ে ফসল ফলানো হতো কিন্তু এখন নদীতে পানি না থাকায় পানির অভাবে এই সব জমিতে ধানের চাষ সম্ভব হচ্ছে না।
মান্দা উপজেলার জোতবাজার  নুরুল্যাবাদ গ্রামের আব্দুল মজিদ সম্রাট বলেন, আমরা নদীর পানি দিয়ে ধানের চাষ করতাম কিন্তু এখন সম্ভব হচ্ছে না। কারন ধান তোলার আগেই নদীর পানি একেবারে শুকিয়ে যাচ্ছে শেষের দিকে আর পানি পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলার বুড়িদহ  গ্রামের কৃষক সঞ্জয়  জানান, এখন নদীর পানি না থাকায় স্যালো মেশিন দ্বারা ধান চাষ করতে হচ্ছে এতে খরচ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে কয়েক গুন। নদীতে পানি না থাকায় ধানক্ষেতের পানিও খুব তারাতারি শুকিয়ে যায় ও ক্ষেত্রে জমিতে বেশি পানি দিতে হয়। নদীর আশেপাশের গ্রামগুলোতে গ্রীষ্মকালে পানি সংকট দেখা দেয়। নদীর পানি তারাতারি শুকিয়ে যাওয়ায় পানির গভীরতা অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে এতে করে সকল নলকুপে পানি উঠা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
মান্দা উপজেলার আদর্শ কৃষক বি এন বি আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম রাব্বানী বলেন, নদী ভাঙ্গনে মান্দার তৃণমূলের কৃষকের অপুরণীয় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেকেই আজ নদীর বুকে ফসলের চাষ শুরু করেছে।
আত্রাই নদীর তীরবর্তী এলাকার সচেতন মহলের দাবী,  সরকারের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত নদী খনন করে এবং নদীর বাঁধ ও সুইচগেট খুলে দিয়ে নদীতে দীর্ঘমেয়াদী পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা না হলে অদুর ভবিষ্যতে পরিবেশের চরম বিপর্যয় ঘটবে। তাছাড়া এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী প্রজন্ম হয়তো জানতেই পারবে না এখানে একটি নদী ছিল।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd