ঢাকা : শনিবার, ২৬ মে ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • অটিজম আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে আহবান প্রধানমন্ত্রীর          নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সকলকে সহযোগিতার আহবান স্পিকারের          প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠানে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী          তিন হাজার বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে           সালেই বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে : মেনন
printer
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৩:৫৪:৫১
সুশাসন শিকেয় উঠবে
মো. ফজলুল হক মাস্টার


 


সভ্যতা সমৃদ্ধির কাঙাল আমরা। চাই শান্তি। চাই স্বস্তি। উগ্রবাদী আর দুর্বৃত্তায়ন রাজনীতি আমাদের চাওয়ার পথে বাধা। প্রতিক্রিয়াশীলরা ক্ষমতা পাওয়ার জন্য মরিয়া। ষড়যন্ত্রের শেষ নেই। ২১ আগস্ট এবং পিলখানা ট্র্যাজেডি এসব বিষয়ের দালিলিক প্রমাণ। রাজনীতির জটিল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হলো- সবাই ভালো কথা বলবে; বলবে গণতন্ত্রের কথা। আদতে গণতন্ত্র নয় বরং ক্ষমতা পাওয়ার মোহে এসব তারা মুখে উচ্চারণ করে। আর সবচেয়ে করুণ দশা হলো তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের এসব সন্ত্রাসী এবং প্রতিক্রিয়াশীলদের সমর্থন জোগানোর বিষয়টি। ধর্মভিত্তিক চেতনা রাজনীতির অগ্রগতির প্রধান অন্তরায়। মানব সভ্যতা ধর্মীয় সংস্কারবাদীরা ধ্বংস করে চলছে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন এবং দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর এ বিষয়ে অস্পষ্ট কিছুই নেই। এদেশে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে কারাগারে থাকা জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে; কিন্তু যারা গণতন্ত্রের কথা মুখে বলে তারা এ বিষয়টিতে কথা বলতে নারাজ। যারা বলছে, রাষ্ট্রে গুম-হত্যা বাড়ছে; এখন দেশ ভালো নেই, তারা যদি এটা না দেখে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ছাত্রদের খুনিরূপে গড়ে তোলে টার্গেট দিয়ে মানুষ হত্যা করাচ্ছে তাহলে তো রাজনীতি-গণতন্ত্র দুটোই আমরা হারাবো। আর সুশাসন শিকেয় উঠবে।

 

দেশের উঁচু মাথাধারীরা যদি এসব এড়িয়ে গিয়ে কথা বলেন তা নির্ঘণ্টক দুঃখজনক। সমকালীন রাজনীতিতে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের এগিয়ে দিচ্ছে, যা রাষ্ট্রের জন্য অশুভ। এদেশ স্বাধীন হয়েছে সব ধর্মের লোকের সংঘবদ্ধ শক্তি প্রয়োগে। এখন ধর্মীয় বিভাজনে যদি সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় বিগ্রহ ভাঙা হয় তাহলে আমরা জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধÑ এটা বলি কী করে! আকর্ষণীয় বিষয় হলো দেশ সমৃদ্ধির পথে। এটা সম্ভব হতো না যদি প্রধানমন্ত্রী গণতান্ত্রিকমনা না হতেন। যারা এখন বলছেনÑ গণতন্ত্র কই? বলি, দেখুন মাথাপিছু আয় এখন কতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে?

 

ক্ষমতার জন্য ষড়যন্ত্র হবে। হওয়াটাই স্বাভাবিক; কিন্তু তাই বলে অশিক্ষিত আর মিথ্যাচারদের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে কেন? ২১ আগস্ট, পিলখানার ট্র্যাজেডি ষড়যন্ত্রের অপফসল। ২১ আগস্ট জঙ্গিদের রাষ্ট্রীয় মদদ দেয়া হয়েছিল আর পিলখানার ট্র্যাজেডিতে ‘বাংলা ভাই’ এই ভয়ংকর জঙ্গিদের অনুসারীরা জড়িত ছিল। প্রতিক্রিয়াশীলরাই যে ষড়যন্ত্রের মূল নায়ক এটা বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়।

 

আমি ২৭ মে ২০০৭ সালে প্রথম আলো পত্রিকায় লিখেছিলামÑ ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো’ অর্থাৎ গণতন্ত্রের জন্যে শেখ হাসিনা অন্যসব রাজনৈতিক দলের নেতাদের চেয়ে ভালো। যা শেখ হাসিনার শাসনে এগিয়ে যাওয়া দেশের ওপর চোখ রাখলে অস্বীকার করার পথ নেই।

 

শেখ হাসিনার শাসনকালে অশুভ শক্তি জঙ্গি দমনের দৃঢ়তা সত্যই অতুলনীয়। দিন বদলের প্রত্যয় ঘোষণা করে শেখ হাসিনার সরকার তা করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে নির্বাচনে জয়ী হয়ে তা বাস্তবায়নও করেছে।

 

জাতিকে সমৃদ্ধময় করতে হলে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। কিন্তু বিভাজন সর্বক্ষেত্রে। ১৬ ডিসেম্বর, ২১ ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে দলাদলি হয়। দুঃখজনক ঘটনা হলো, এক দলের দেওয়া ফুলকে অন্যদল পদদলিতও করে! তবুও এখন আমরা হতাশ নই এজন্য যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের আত্মশক্তি সামান্যতম হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। দুর্নীতি রোধে সরকার দলীয় লোকেরাও রেহাই পাচ্ছে না। এই যা ভরসার ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে তাতে যারা বলে গণতন্ত্র নেই তারা আদতে ক্ষমতার মোহে বিভোর। ষড়যন্ত্র সেখান থেকেই সৃষ্টি হয়।
লেখক : শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট

printer
সর্বশেষ সংবাদ
মুক্ত কলম পাতার আরো খবর

Developed by orangebd