ঢাকা : শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে : সিইসি          নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি          দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ০৪ মার্চ, ২০১৮ ১০:৪৮:৩১
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ চালুর ১শ ৩ বছর পূর্তি আজ
কলিট তালুকদার, পাবনা


 


পাবনায় পদ্মা নদীর ওপর স্থাপিত ব্রিটিশ স্থাপত্যকলার এক অনন্য উদাহরণ ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে সেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ চালুর ১শ ৩ বছর পূর্তি আজ (৪ মার্চ)  রোববার। নয়ন নন্দন ছন্দ সৃষ্টি করা পাবনার পাকশীতে থাকা এশিয়ার অন্যতম এই রেলওয়ে সেতু চালুর ১শ’ ৩ বছর পূর্তিতে রেলওয়ে বিভাগসহ দেশের সবার জন্যই এক গৌরবের বিষয় মনে করেন সবাই।

জানা যায়, ব্রিটিশ সরকার ভারত এবং বার্মার মধ্যে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই ব্রিজ স্থাপন করে। যার গুরুত্ব এখনও ম্লান হয়নি। ঈশ্বরদী থেকে ৫ মাইল দক্ষিণে এবং সাঁড়াঘাট স্টেশন থেকে ৩-৪ মাইল পূর্ব-দক্ষিণে পাকশী নামক স্থানে তৎকালীন পাবনা ও নদীয়া জেলার মধ্যে বিস্তৃত পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত ১ দশমিক ৮১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নির্মাণ শুরু হয় ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে। ২৪ হাজার লোকবল দিয়ে নির্মাণ শেষ হয় ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে। নির্মাণ ব্যয় হয় চার কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার ভারতীয় রুপী। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী রেল চালুর মাধ্যমে এ সেতু উদ্বোধন করেন তৎকালীন ভারতের গভর্নর জেনারেল ভাইসরয় লর্ড চার্লস হার্ডিঞ্জ। তার নামেই এ সেতুর নামকরণ করা হয়। সেতুটি নির্মাণের প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন ব্রিটিশ প্রকৌশলী মি. রবার্ট গেইলস। উদ্বোধনের দুই মাস আগে জানুয়ারির প্রথম দিন পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ট্রেনটি খুলনা অভিমুখে সেতু অতিক্রম করে। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ট্রেন পরীক্ষামূলকভাবে পাবর্তীপুরের দিকে চালানো হয়। এই রেলব্রিজের ভারবহন ক্ষমতা ১ হাজার ৯২৭ টন। সেতুটি খুলনা থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথকে সংযুক্ত করেছে। ব্রিটিশ স্থাপত্য কলার এক ঐতিহ্যময় হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পর্যটকদের কাছে এখনো মুখ্য আকর্ষণ। যাকে ঘিরে এখানে চলছে পর্যটকদের আনাগোনা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সেতুটির ১২ নম্বর স্প্যানটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ১১ মাস ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে সংস্কারের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হয়। ১ দশমিক ৮১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে রেলসেতুটির অর্ধেক অংশ পাবনার পাকশী অংশে এবং বাকি অংশ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা অংশের মধ্যে অবস্থিত।

ব্রিজ এলাকায় ঘুরতে আসা, ব্যবসায়ী মমিন শেখ জানান, এই ব্রিজ আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ, আমাদের গৌরব। ছোটবেলায় এই ব্রিজের ইতিহাস পড়েছি। সেই ব্রিজের ১শ ৩ বছর পূর্তি হচ্ছে ভীষণ ভালো লাগছে। ব্রিজের স্থায়িত্ব আরো কিভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ ভাববে বলে তিনি মনে করেন।

বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক পাকশি অসিম কুমার তালুকদার জানান, রেলওয়ের সেতু বিভাগ থেকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য করণীয় সবকিছুই নিয়মিত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে পাশ দিয়ে আরো একটি রেল সেতু নির্মাণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া চলছে।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ আজও কালের সাক্ষী হয়ে আছে সবার মাঝে। একে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে রেল যোগাযোগসহ দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কল্যাণের ধারা অব্যাহত থাকবে যুগ যুগ ধরে-এমনটি প্রত্যাশা সবার।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd