ঢাকা : বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • রোববার থেকে সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়          বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর          প্রস্তাবিত বাজেট সর্বোচ্চ জনকল্যাণমুখী : পরিকল্পনামন্ত্রী
printer
প্রকাশ : ০৭ মার্চ, ২০১৮ ০৯:৪৫:১৬
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ আজ
বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় দিন
এ কে নাহিদ


 


‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম...’
আজ সেই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে সমবেত জনসমুদ্রে সাড়ে সাত কোটি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বহু শতাব্দীর পরাধীনতার গ্লানি মোচনে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান। প্রকৃতপক্ষে সেই দিনটি থেকেই বঙ্গবন্ধুর ওই আহ্বানে গোটা বাঙালি জাতি জেগে ওঠে মুক্তি সংগ্রামে, স্বাধীনতার আন্দোলনে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু মুজিব ঘোষণা করেন মুক্তিপাগল বাঙালি জাতির বহু আকাক্সিক্ষত স্বাধীনতা।   
ভাষাশহীদের স্মরণে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বস্বীকৃতির পর বাঙালি জাতির ললাটে আরেকটি বিজয়ের পালক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ-এর ভাষণÑ সবচেয়ে অনন্য ভাষণ হিসেবে বিশ্বস্বীকৃতি অর্জন। আর তাই বাঙালি জাতির জীবনে এবারের ৭ই মার্চ পালিত হবে বিশ্বস্বীকৃতির অর্জন হিসেবে, অনন্য-অনবদ্য দিবস হিসেবে।
১৯৪৭ সালের তথাকথিত ধর্মভিত্তিক ভ্রান্ত দ্বি-জাতিতত্ত্বের বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিসত্তা ও জাতিগত চেতনার উন্মেষ ঘটিয়েছিলেন। এ দিনে তিনি পাকিস্তানিদের শাসন-শোষণ-নিপীড়ন থেকে নিজেদের মুক্ত করে স্বাধীনতা অর্জনের দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি টিভি এবং জাতীয় সংবাদপত্র বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ ও দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ  করবে। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আজ আয়োজন করেছে মহাসমাবেশের। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা।
পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ২৩ বছরের নিরবচ্ছিন্ন বাঙালি জাতির রক্তঝরা সংগ্রামে প্রাণপুরুষ ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ দিনে তিনি স্বাধীনতা লাভের অদম্য স্পৃহায় মুক্তিকামী জনতার আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বজ্র কণ্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন, ‘... তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে... প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্ল¬ায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক। মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবÑ এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্ল¬াহ।’
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১ মার্চ থেকে সূচিত অসহযোগ আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাক হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়লে তিনি পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সমগ্র বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে ৯ মাসের বীরত্বপূর্ণ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মাহুতি ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে বিজয় ছিনিয়ে আনে।
স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী নরঘাতকদের দোসর অশুভ অপশক্তির দেশ বিরোধী চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, পেট্রলবোমা, চোরাগুপ্তা বোমা হামলা, জঙ্গি নাশকতা, ধ্বংসাত্মক কর্মকা-, দানবীয় হত্যাসহ সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে জাতীয় গণজাগরণ সৃষ্টি করা এবং গণতান্ত্রিক সরকারের সকল উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে জাতির সামনে তুলে ধরা এটাই হোক এবারের ৭ই মার্চের অঙ্গীকার।
সমগ্র জাতির সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ দিনটিকে শ্রদ্ধাবনচিত্তে স্মরণ ও পালন করবে।
দিনটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত ও ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ৭ মার্চ  বুধবার ভোর সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।
সকাল ৮টায় দেশের সকল ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা, উপজেলা, মহানগর ও জেলাসমূহের প্রতি পাড়া, মহল্লায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচারের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সভা-সমাবেশের আয়োজন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতিবিজড়িত ৭ই মার্চ পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ যুগে যুগে বাঙালি জাতিকে শক্তি ও সাহস যোগাবে। আমাদের মহান নেতার এই ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতির ইতিহাসে চিরন্তন ও সর্বজনীন হয়ে থাকবে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণটি একটি ধ্রুপদি শিল্প হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাঙালি জাতির নিরন্তর লড়াই ও মুক্তির সংগ্রামে ৭ই মার্চের ভাষণ অবিনাশী চেতনা নিয়ে বারবার ফিরে আসে।
বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ৭ই মার্চের দিন দেশের প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা, উপজেলা, মহানগর ও জেলাসমূহের প্রতিটি পাড়া, মহল্লায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি যথাযথ গুরুত্বের সাথে সম্প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।
ওবায়দুল কাদের বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটি গুরুত্বের সাথে প্রচারের লক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd