ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা           কারও মুখের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী          ২২তম অধিবেশন চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ০৯ মার্চ, ২০১৮ ২৩:৫১:১৯আপডেট : ১০ মার্চ, ২০১৮ ০০:০৩:১৩
বেনাপোল ও ভারত সীমান্তে ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ উদ্বোধন
এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর)


 


বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের আট দশমিক তিন কিলোমিটার এলাকা এই প্রথমবারের মতো ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ বা অপরাধমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। সীমান্তে অপরাধ দমনে ড্রোন ব্যবহার করা হবে। যৌথভাবেই এই সীমান্তে স্পীট বোড ব্যবহার করে, সিসি টিভি ক্যামেরা ও ডিভাইজ ব্যবহার করে যে কোন মূল্যে সীমান্তে অপরাধ দমন করা হবে বলে জানান বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক। পাইলট এই প্রকল্প সফল হলে আগামীতে সীমান্তের ৪ হাজার৯৬ কিলোমিটার এলাকা এ ধরনের জোনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তারা-।
শুক্রবার দুপুর ১টায় যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্তে ৬৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কালিয়ানি বিওপি এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় দু-দশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালকদ্বয় ও অতিথিরা ইছামতি নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ উদ্বোধন করেন।  
এর আগে দুই বিজিবি‘র মহাপরিচালক বেনাপোল চেকপোস্টে এসে পৌছালে বিএসএফের মহাপরিচালক তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে বাংলাদেশী অতিথিদের নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের কালিয়ানি সীমান্তে। সেখানে নামফলক উম্মোচন করা হয়।
 
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী কে কে শর্মা, বিজিবি ও বিএসএফ এর উর্ধতন কর্মকর্তা, যশোর জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন,বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন,একুশে টেলিভিশনের সিইও জনাব মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বাংলাদেশ প্রতিদিন এর সম্পাদক ও নিউজ২৪ এর সিইও জনাব নঈম নিজাম,দক্ষিনপশ্চিমাঞ্চল যশোর বিজিবি রিজিয়ন্যাল কমান্ডার খালিদ আলমামানু,৪৯ বিজিবি সিও আরিফুল হক,২৩ বিজিবি সিও তারিকুল হাকিম-সহ বিজিবি ও বিএসএফের উর্ধতন কর্মকর্তারা।
সীমান্ত ফ্রি জোন এলাকার নিরাপত্বা সহ মাদক অস্ত্র  ও চোরাচালান রোধে ব্যাপক কাজে আসবে-দু দেশের সীমান্ত থাকবে সুরক্ষা এমটাই আশা করেন দু দেশের সীমান্ত এলাকার নাগরিকেরা।
 
দু-দেশের মহাপচিালকদ্বয় বক্তব্যে বলেন, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের কৌশল হিসেবে সীমান্তের অপরাধ প্রবণ এলাকা ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ ঘোষণার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী কে কে শর্মা ওই প্রস্তাবের প্রশংসা করেন এবং ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় উভয় দেশের সম্মতিতে বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্তের পুটখালী ও দৌলতপুর বিওপি ও বিপরীত দিকে ভারতের কালিয়ানি ও ঘোনারমাঠ বিওপি এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার মোট ৮.৩ কিলোমিটার সীমান্ত পরীক্ষামূলকভাবে ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ ঘোষণার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহন করা হয়। বিজিবি ও বিএসএফ এর সর্বাতœক প্রচেষ্টা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও উদ্যোগের ফলে ওই সীমান্ত এলাকা ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা সম্ভব হয়েছে।
     
উল্লেখ্য-উদ্বোধন শেষে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক সাংবাদিকদের জানান, সীমান্তে অপরাধ দমনে ড্রোন ব্যবহার করা হবে। যৌথভাবেই এই সীমান্তে স্পীট বোড ব্যবহার করে, সিসি টিভি ক্যামেরা ও ডিভাইজ ব্যবহার করে যে কোন মূল্যে সীমান্তে অপরাধ দমন করা হবে।  জেলা প্রশাসন, এনজিও এবং সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সহায়তায় বিজিবি ও বিএসএফ তা নিশ্চিত করবেন। পাইলট এই প্রকল্প সফল হলে আগামীতে সীমান্তের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার এলাকা এ ধরনের জোনের আওতায় আনা হবে।
 তারা বলেন, ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ এর মধ্যে আন্ত:সীমান্ত অপরাধ যেমন চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার, মানব পাচার, মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড যাতে সংঘটিত না হয় সে লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বলবৎ রাখবে এবং অপরাধ দমনে ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার (ঋড়ৎপব গঁষঃরঢ়ষরবৎ) অর্থ্যাৎ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া নিজ নিজ দেশের স্থানীয় প্রশাসন এবং সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণের সহযোগিতায় সীমান্ত অপরাধে জড়িতদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের যথাসাধ্য ব্যবস্থা করা হবে। পর্যায়ক্রমে সীমান্তের অন্যান্য এলাকায় ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ ঘোষণার লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ সমন্বিত ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
 পর্যায়ক্রমে সীমান্তের অন্যান্য এলাকায় ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ ঘোষণার লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ সমন্বিত ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তারা।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd