ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা           কারও মুখের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী          ২২তম অধিবেশন চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ১৩ মার্চ, ২০১৮ ১৮:০৮:৫০আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০১৮ ১৮:১৮:২০
নেপালে বিমান দূর্ঘটনায় রানার হারাল তিন দক্ষকর্মী
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 


গত বছরের ২১ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল নেপালে রপ্তানির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করে রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড। দেশটির প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের নিজস্ব এ ব্র্যান্ডটির জায়গা করে নেওয়া ছিল খুবই চ্যালেঞ্জ। আর দেশটিতে রানারের মোটরসাইকেল ভালোই সাড়া পাচ্ছে। সেখানে রানার অটোমোবাইলসের ডিস্ট্রিবিউটর রমন মোটর্স রানারের বিক্রয় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে কাজ করছে। নেপালে রমন মোটরর্সের কর্মীদের বিক্রয়োত্তর সেবার প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের দূর্ঘটনায় সোমবার নিহত হয়েছেন রানার অটোমোবাইলসের হেড অফ সার্ভিস এসএম মাহমুদুর রহমানসহ আরো দুজন দক্ষকর্মী।

 

এই তিনকর্মী হারিয়ে রানার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত তিনকর্মী হলেন- রানার অটোমোবাইলস লিমিটেডের হেড অফ সার্ভিস ও সিনিয়র ম্যানেজার (কাস্টমার কেয়ার) এসএম মাহমুদুরর হমান, এসিসটেন্ট ম্যানেজার মো: মতিউর রহমান, জুনিয়র অ্যাসিটেন্ট ফোরম্যান নুরুজ্জামান বাবু। এই তিনকর্মী যথাক্রমে ফরিদপুর, ফেনী ও পাবনার সন্তান। তাদের ১৭ মার্চ ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্সের ফ্লাইটে দেশে ফেরার কথাছিল। কিন্তু সোমবার কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্সের বিমান বিধ্বস্ত হলে রানারের এই তিনকর্মী প্রাণ হারান। তাদের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে স্বজনসহ রানারের ২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইতিমধ্যেই নেপালে গিয়েছেন।

 

এ প্রসঙ্গে রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেন, এই দুর্ঘটনায় আমরা অত্যান্ত শোকাহতএবং আমাদের তিন সহকর্মীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাই। তারা রানার অটোমোবাইলসের অত্যান্ত দক্ষ কর্মী ছিলেন। বিশেষকরে বিক্রয়োত্তর সেবার ক্ষেত্রে তারা রানার গ্রুপের সম্পদে পরিণত হয়েছিলেন। একজনতো রানারের শুরু থেকেই আছেন। এই দূর্ঘটনায় আমি খুবই মর্মাহত। এই ক্ষতি অপূরণীয়। আমাদের কোম্পানির তরফ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর নেপালের বাজারে নতুনভাবে মোটরসাইকেল রপ্তানি শুরু করে রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস স্মরণীয় করে রাখতে আরো বর্ধিত পরিসরে নেপালে মোটরসাইকেল রপ্তানি শুরু করেছে দেশের শীর্ষ মোটরসাইকেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারকেএ প্রতিষ্ঠানটি। নেপালের সর্ববৃহৎ মোটরসাইকেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রমন মোটর্স পুরো নেপাল জুড়ে রানারের মোটরাইকেল বিক্রি করছে। এজন্য আগেই রানার অটোমোবাইলস রমন মোটর্সকে নেপালের ডিস্ট্রিবিউটর নিয়োগ করেছিল। নেপালের কাঠমান্ডুতে ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৮০ থেকে ১৫০ সিসির ৭টি মডেলের মোটরসাইকেল উদ্বোধন করেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসফি বিনতে সামস, রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, রানার অটোমোবাইলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকেশ শর্মা, রমন মোটরর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমন মেহতাসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

রমন মোটর্সের সিইও রমন মেহতা বলেন, আমরা এই অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনায় শোকাহত। নিহতরা আমাদের প্রশিক্ষণের জন্য কাঠমান্ডু এসেছিলেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি। মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোসহ রানারের কর্মীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে রমন মোটর্স। আমরা ইতিমধ্যেই নেপালে ১০টি ডিলার নিয়োগ দিয়েছি। আগামী ছয় মাসের মধ্যে নেপালে ২০টি শোরুম এবং সার্ভিস সেন্টার প্রতিষ্ঠা করার কাজ চলছিল। এই সব সার্ভিস সেন্টারে বিক্রয়োত্তর সেবায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রানার অটোমোবাইলস আমাদের সহযোগিতার জন্যই তিনজন মেধাবী কারিগরি প্রশিক্ষক পাঠিয়েছিলেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ-বাণিজ্য পাতার আরো খবর

Developed by orangebd