ঢাকা : মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা           কারও মুখের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী          ২২তম অধিবেশন চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ১৩ মার্চ, ২০১৮ ১৮:৫১:৩৬
মাস্টারকার্ড ও ওয়্যারবী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ঘোষণা


 


মাস্টারকার্ড ওয়্যারবী (ডঅজইঊ) ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সাথে পার্টনারশীপের মাধ্যমে তৃণমূল জনগোষ্ঠির রেমিট্যান্স ব্যবহার, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী অভিবাসী শ্রমিকদের পাঠানো অর্থের ওপর নির্ভরশীল ৩৫ হাজার ব্যক্তি তথা পরিবারের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।  
বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখন বিদেশে কর্মরত আছেন। তাঁদের বেশিরভাগেরই পরিবার-পরিজন গ্রামে থাকে। এসব পরিবার আর্থিকভাবে তাঁদের বিদেশ থাকা স্বজনের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। কিšতু অভিবাসী শ্রমিকদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্য কিংবা স্বজনদের রেমিট্যান্স পাঠানো ও এটির যথোপযুক্ত ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন নন। সে জন্য তাঁদের বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স এর লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি এটির সঠিক ব্যবহার, অর্থাৎ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ সম্পর্কে সচেতন ও প্রশিক্ষিত করে তুলতে মাস্টারকার্ড তার এই সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মাস্টারকার্ড এর আগে ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এর সহযোগিতায় কর্মসূচিটির প্রথম পর্যায়ে সফলতার সাথে অভিবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স এর ওপর নির্ভরশীল ১৫ হাজার ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে মাস্টারকার্ড এবার আরো ৩৫ হাজার ব্যক্তিকে এই প্রশিক্ষণ দেবে। এভাবে মাস্টারকার্ড রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনার ওপর দেশে মোট ৫০ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দিতে যাচ্ছে।
মাস্টারকার্ডের রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এই কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থ এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জনাব মোহাম্মদ আবদুল মান্নান এমপি। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় ককাসের চেয়ার জনাব মো. ইসরাফিল আলম এমপি। এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া এমপি; সংসদের অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সদস্য জেবুন্নেসা আফরোজ এমপি এবং সংসদের অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সদস্য মেহজাবীন খালেদ এমপি। এছাড়াও মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এবং ওয়্যারবী (ডঅজইঊ) ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হকসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ তথা পরিবার জীবিকা নির্বাহের জন্য বিদেশ থেকে তাদের স্বজনদের পাঠানো অর্থের ওপর নির্ভরশীল। ওয়্যারবী (ডঅজইঊ) ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আমরা বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনার ওপর ইতিমধ্যে সফলতার সাথে ১৫ হাজার লোককে প্রশিক্ষণ দিতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত। এই কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে আমরা আরো ৩৫ হাজার মানুষকে রেমিট্যান্স এর ব্যবহার এবং সঞ্চয় ও বিনিয়োগের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে যাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি যে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ফলে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর সদস্যরা বিদেশ থেকে আসা অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে এবং তাঁদের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদেরও কোনো না কোনো কাজের সুযোগ তৈরি এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নে উজ্জ্বীবিত করবে। এটি দীর্ঘ মেয়াদে শুধু তাঁদের জন্যই নয়, বরং তাঁদের পরিবার এবং সমাজকেও দারুণভাবে উপকৃত করবে।
ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক বলেন, আমি মনে করি, প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠালেও দেশে তাঁদের স্বজনেরা কষ্টার্জিত ওই অর্থের সঠিক ব্যবহার করতে পারেন না। রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কোনো সঠিক ধারণা বা জ্ঞানের অভাবেই এমনটি হয়ে থাকে। তাই আমি বিশ্বাস করি, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সাফল্যের সাথে গ্রামের জনগণকে বিদেশ থেকে আসা অর্থ তথা রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা এবং এটির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করে তুলবে। এর ফলে রেমিট্যান্সের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সাথে সরকারকেও কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে, যাতে অভিবাসী শ্রমিকদের ও তাঁদের স্বজন তথা পরিবারের সদস্যদের সামনে কোনো নতুন উদ্যোগ শুরু বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পথ সুগম হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd