ঢাকা : রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • রোববার থেকে সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়          বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর          প্রস্তাবিত বাজেট সর্বোচ্চ জনকল্যাণমুখী : পরিকল্পনামন্ত্রী
printer
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৮ ১০:৩১:২৮আপডেট : ২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:৪৯:১৮
হারিয়ে যাওয়ার ২০ বছর পরে ফিরে এসেছে মা-বাবার কাছে
নওগাঁ সংবাদদাতা


 

নওগাঁর মহাদেবপুরে বায়েজিদ বোস্তামী (৩৮) হারিয়ে যাওয়ার ২০ বছর পরে আর্মি কর্মকর্তা মোতালেবের সহযোগিতায় ২০ এপ্রিল ফিরে এসেছে বাবা-মায়ের কাছে। উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের  কৃষ্ণগোপালপুর গ্রামের ইউনুছ আলীর একমাত্র ছেলে বায়েজিদ। ৩ মেয়ে ১ ছেলের মধ্যে বায়েজিদ প্রথম সন্তান। আজ থেকে ২০ বছর পূর্বে হারিয়ে যাওয়ার পর আর কখনও বাবা-মায়ের কাছে ফিরে না আসায় তার বাবা-মা একমাত্র সন্তানকে না পাওয়ার বেদনা বুকে নিয়ে প্রতিনিয়ত চোখের পানি ঝরিয়েছেন। দীর্ঘ ২০ টি বছর যাবৎ দেশের মধ্যে পথে প্রান্তরে সন্তানকে খুঁজে পাওয়ার আসায় বেরিয়েছেন তার বাবা-মা। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি হয়। কেননা ১৮ বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া সন্তান বায়েজিদের কোন ছবি ছিলনা তার বাবা-মায়ের কাছে। আর সে কারনে অনেক খোঁজাখোঁজি করেও তাকে ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়ে উঠেনি। হারানোর পর হতে ফিরে পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত থানায় কোন সাধারণ ডায়েরিও করেননি বলে জানান তার বাবা ইউনুছ আলী। এমতাবস্থায় দীর্ঘ ২০ বছর পরে হঠাৎ করেই তার সন্ধান মিলে কক্সবাজারের উখিয়ায়। অত্র এলাকার কচুকুড়ি গ্রামের কক্সবাজারের উখিয়ায় কর্মরত আর্মি কর্মকর্তা মোতালেব বায়েজিদের সন্ধান পেয়ে গোপালকৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুর রব চৌধুরী বাবুল এবং বিন্দারামপুর গ্রামের ময়নুল ইসলাম মালামকে মোবাইল ফোনে জানায়। পরবর্তীতে তাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে এবং মোতালেব এর সার্বিক সহযোগিতায় কক্সবাজারের উখিয়া থেকে বায়েজিদকে ফিরে পান তার বাবা-মা।  জানাগেছে, সংসারে অভাব-অনটনের কারনে এবং বাবা বাড়িতে না থাকায় ১৯৯৮ সালের জুন মাসের দিকে মান্দা উপজেলার সতিহাট বাজারে রথযাত্রা মেলায় “দি নিউ সোনার বাংলা সার্কাসে” অন্যের প্রলোভনে শ্রমিকের কাজ করার কথা বলে ওই সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় বায়েজিদ। সেখান থেকে সার্কাসের লোকজনের সাথে পাবনা জেলায় একটি আনন্দ মেলায় যায় বায়েজিদ। পাবনা গিয়ে দেখা হয় চট্রগ্রাম জেলার এক অপরিচিত লোকের সাথে। বড় ভাই সম্বোধনে পরিচয় হয় তার সাথে।  আর সে পরিচয় থেকেই ফিরে যায় চট্রগ্রামে। চট্রগ্রামে কিছুদিন থাকার পরে জাহাজের এবং ট্রলারের কাজ করা শুরু করেন বায়েজিদ। সেখানে ৭-৮ মাস কাজ করার পর সর্বশেষ কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়ায় ডিব টিবওয়েলের কাজ করা অবস্থায় ওখানেই স্থানীয় একটি মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তিনি ২  মেয়ে এবং  ১ ছেলের পিতা। আজ হারানো সন্তানকে ফিরে পেয়ে বায়েজিদের বাবা-মা সহ সকল আত্মীয় স্বজন খুশিতে আত্মহারা। এতদিন পর ফিরে আসায় বায়েজিদকে এক নজর দেখার জন্য তাদের বাড়িতে অত্র এলাকার স্থানীয় লোকজন ভিড় জমাচ্ছে। বায়েজিদ সুস্থ অবস্থায় দীর্ঘদিন পর এলাকায় ফিরে এসেও স্থানীয়দের নাম ঠিকানা বলতে এবং চিনতে পারছে। এটি তার জন্যও ভালো লাগার বিষয়।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd