ঢাকা : রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • রোববার থেকে সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়          বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর          প্রস্তাবিত বাজেট সর্বোচ্চ জনকল্যাণমুখী : পরিকল্পনামন্ত্রী
printer
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১১:০৫:২৫
দেড় বর্গকিলোমিটার এলাকায় বৈশাখী মেলা
ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলা আজ
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা


 


চট্টগ্রামের লালদীঘির ময়দানে ঐতিহাসিক আবদুল জব্বারের ১০৯তম বলীখেলার (কুস্তি প্রতিযোগিতা) আসর বসছে আজ বুধবার। এ বলি  খেলাকে ঘিরে  সোমবার শুরু হয়েছে ৩দিনের বৈশাখী মেলা।  লালদিঘীর মাঠে এরই মধ্যে বলিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশাল রিং। গতকাল দুপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছে মেলা আয়োজক কমিটি।
অন্যদিকে জব্বারের বলি খেলাকে ঘিরেই প্রতিবছরের মত এবারও লালদিঘী মাঠের আশে পাশের দেড় বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসেছে গ্রামীণ লোকজ উৎসব। যার পরিসর ছড়িয়ে পড়েছে আন্দরকিল্লা, কেসিদে রোড,  কোতোয়ালী মোড় পর্যন্ত। গত শনিবার থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা পণ্যের পসরা নিয়ে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠের আশে পাশে তাদের জায়গা নির্ধারণ করে নিয়েছেন।
মঞ্চে বলীদের শক্তি আর কৌশলের লড়াই। চারপাশে হাজারো দর্শকের উল্লাস। এই চিরচেনা ছবি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলি খেলার। এবারও প্রস্তুত লালদীঘি ময়দান। যেখানে বসবে, প্রতিযোগিতার ১০৯তম আসর। ইতিমধ্যে ৭০ থেকে ৮০ জন খেলায় অংশগ্রহণের জন্য নাম লিপিবদ্ধ করেছেন প্রতিযোগগিতায় অংশগ্রহণ করতে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, শতাধিক বলি এবরাও অংশগ্রহণ করবে। গত বছরও ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলায় ১০৮তম আসরে কক্সবাজার, টেকনাফ, রামু, চকরিয়া এবং পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার শতাধিক খেলোয়াড় অংশ নেন। ১০৮তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন রামুর দিদার বলী। প্রায় ১৭ মিনিট লড়াই করে শামছু বলীকে পরাজিত করে শিরোপা জিতেন তিনি। অবশ্য এর আগের বছর ১০৭তম আসরে জব্বারের বলী খেলার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে দিদার বলী ও টেকনাফের শামছু বলী কেউ কাউকে নির্ধারিত সময়ে হারাতে না পারায় সিলেকশন পদ্ধতিতে হেরে গিয়েছিলেন দিদার। চট্টগ্রামের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলায় ১৫ বার অংশ নিয়ে ১৩ বারই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন দিদার।
দেশপ্রেমের চেতনায় যুবকদের উদ্বুব্ধ করতে উনিশ শতকের গোড়ায় এ খেলার সূচনা করেন বনেদী ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সওদাগর। সেই থেকে এটা লোক সংস্কৃতিরও অংশ। বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ ও বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি শক্তিমত্তার লড়াইয়ে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে ১৯০৯ সালে লালদিঘী মাঠে বলি খেলার আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল জাব্বার এ বলি খেলার আয়োজন করায় তাঁর নামেই এই বলিখেলার নামকরণ হয়ে যায়। প্রতিবছর বাংলা বছরের ১২ বৈশাখে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলি খেলা।
নানা প্রতিকূলতার মাঝেও চট্টগ্রামের মানুষ লোকজ এ সংস্কৃতি ধরে রাখায় ব্রিটিশ ফিল্ম বিভাগ ডকুমেন্টারি ফিল্ম হিসেবে জব্বারের বলীখেলার ছবি ধারণ করে সযতেœ সংরক্ষিত রেখেছে লন্ডনের ফিল্ম আর্কাইভে।
বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন বলেন, বাঙালি সংস্কৃতি লালনের পাশাপাশি বাঙালি যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলা এবং শক্তিমত্তা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের মনোবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এ প্রতিযোগিতার সূচনা করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর এ প্রতিযোগিতা জব্বারের বলীখেলা নামে পরিচিতি লাভ করে। ব্রিটিশ ও পাকিস্থান আমলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছাড়াও বার্মার আরাকান অঞ্চল থেকেও নামিদামি বলীরা এ খেলায় অংশ নিতেন। দেশ বিভাগের পূর্বে একবার এক ইংরেজ গভর্নর স্ত্রীক আবদুল জব্বারের বলীখেলা দেখতে এসেছিলেন বলে জানা যায়। আবার ১৯৬২ সালে দু’জন ফরাসি মল্লবীর আবদুল জব্বারের বলীখেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এখন বিদেশ থেকে কোনো বলী না এলেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শতাধিক বলী এতে অংশগ্রহণ করে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd