ঢাকা : বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • দ্বীপ ও চরাঞ্চলে পৌঁছাচ্ছে ইন্টারনেট          দুদকের মামলায় সম্রাটের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর          এয়ার শো’তে যোগ দিতে দুবাইয়ে প্রধানমন্ত্রী           সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে : স্পিকার          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:০৩:০৬
বর্ষায় ততটা ঝুঁকিতে নেই রোহিঙ্গারা
কক্সবাজার সংবাদদাতা


 


কালবৈশাখীসহ নানা দুর্যোগ সাথে নিয়ে অত্যাসন্ন বর্ষা মৌসুমে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়ে অবস্থানরত প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মহল। তবে যতটা ফলাও করে বলা হচ্ছে বর্ষায় ততটা ঝুঁকিতে নেই রোহিঙ্গারা বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে যেসব রোহিঙ্গা পাহাড়ের চূড়ায় ও ঢালু বা নিম্মাঞ্চলে বসবাস করছেন, ভারী বর্ষণে তাদের ভূমিধস ও বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।

 

কুতুপালং-৩ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্র্যাকের একটি ইনফরমেশন সেন্টারে ইনফরমেশন সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করছেন মিশকাত জাহান। তিনি জানালেন, বর্ষায় যে শুধু পাহাড় ধস আর বন্যার সমস্যা আছে তা নয়। ঘোর বর্ষায় পুরো পাহাড়ি এলাকায় যেহেতু মাটি কেটে ঘর বানানো হয়েছে, সে কারণে কাদামাটিতে চরম পিচ্ছিল হয়ে পড়বে চলাচলের পথ। আর প্রবল পাহাড়ি ঢলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার আশঙ্কা করছেন তিনি।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার কমিউনিকেশন অফিসার অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ সরকার গত ফেব্রুয়ারিতে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছিল। অথচ চলতি এপ্রিলেও ঝুঁকিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনতে পারেনি। এদিকে মে মাসে তিন মাত্রার ঘূর্ণিঝড় হবার পূর্বাভাস রয়েছে। তেমন কিছু হলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রীতিমত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে তিনি শংকা প্রকাশ করেন।

 

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি ও এনজিও সমন্বয়কারী আবু মোর্শেদ খোকা অবশ্য আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারি উদ্যোগে সস্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত সরকারকে পরিস্থিতির আপডেট জানাচ্ছি। তাই ভয়ংকর কিছু ঘটার আশংকা নেই।
এশিয়ান ডিজাস্টার প্রিপায়ারনেস সেন্টার একটা সমীক্ষা চালিয়ে জানিয়েছে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রায় দু’লাখ রোহিঙ্গা ঝুঁকিতে থাকবে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৯ হাজার রোহিঙ্গা ভূমি ধসের ঝুঁকিতে আছে। বাকিরা বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ হবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

 

আসলেই কি এতো রোহিঙ্গা ঝুঁকি নিয়ে অবস্থান করছে? এর উত্তরে শরণার্থী কক্সবাজারের শরণার্থী, এাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা আবুল কালাম (এনডিসি) বললেন, যতোটা ফলাও করে বলা হচ্ছে, বর্ষায় ততোটা ঝুঁকিতে নেই রোহিঙ্গারা। তিনি বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষণে তেইশ হাজারের মতো রোহিঙ্গা যুক্তিসংগতভাবেই পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে আছে। এদের সরিয়ে আনার জন্য পশ্চিম দিকে পাহাড় কেটে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাধ্য হয়েই করা হচ্ছে। ৫০ হাজার রোহিঙ্গাকে সরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। ইতিমধ্যে প্রায় ১২ হাজারকে রোহিঙ্গাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে ফেলেছি। আগামী মে মাসের মধ্যে ভূমি ধ্বসের ঝুঁকিতে থাকা সব রোহিঙ্গাকে সরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

 

এছাড়া রোহিঙ্গারা অবস্থান করছে এমন দুর্বল শেডগুলোকে আপগ্রেডেশন কিট দেয়া হচ্ছে। একটি বা দুটি তেরপল, ৮টি বাঁশ, কিছু দড়ি দেয়া হচ্ছে; যাতে ৮০/১০০ কিলোমিটার গতির দমকা বাতাসেও টিকে থাকতে পারে। বর্ষায় প্রবল পাহাড়ি ঢলের স্রোত বিপদ ডেকে আনতে পারে। এছাড়া স্বল্পমেয়াদি বন্যাও হতে পারে। তাই পানি সরে যাবার জন্যে পাহাড়ি খালগুলো কেটে গভীর করা হচ্ছে। কাটা পাহাড়গুলোর নিচে স্যান্ড ব্যাগ বা বস্তা দিয়ে ভূমি ধস রোধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা আবুল কালাম (এনডিসি) বলেন, রোহিঙ্গাদের আমরা যতো দুর্বল মনে করে থাকি না কেন- আসলে তারা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথেষ্ট পারদর্শী।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd