ঢাকা : বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • জাতীয় নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর          নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি          আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার বুধবার থেকে নেবেন প্রধানমন্ত্রী          দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ২৩ জুন, ২০১৮ ১৭:০০:৪৪
৮ দিনে ৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয়
এম এ রহিম, বেনাপোল


 


ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা-আর নতুন করে ছুটিতে ভারত বেড়াতে, ডাক্তার দেখাতে ও আত্বীয় স্বজনের বাড়ীতে আবার কেউ আসছে নাড়ীর টানে বাংলাদেশের মাটিতে। অনেকে যাচ্ছে পরিবার পরিজন নিয়ে। ঈদ পরবর্তীতে বেনাপোল চেকপোষ্টে নামছে যাত্রীদের ঢল। গত ৮দিনে গেছে ৫১হাজার৪শ যাত্রী। বাড়ছে রাজস্ব আয়। তবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রানি ও দুর্ভোগের স্বিকার হচ্ছেন তারা। রোগী ও শিশুরা পড়ছে মহাবিপাকে। অনৈতিক কারবারের কারনে ল্ইান বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। তবে ইমিগ্রেশন ও কাষ্টম কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টির কারনে যাত্রীসেবায় দ্রুত গতিতে কাজ হচ্ছে বলে জানান বন্দর ও কাষ্টম কর্তৃপক্ষ। হয়রানি ও দুর্ভোগ কমানোর দাবী জানান ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
ঢাকা থেকে এসেছেন নিজ স্ত্রী সন্তান মা ও পরিবার পরিজন নিয়ে যাচ্ছেন ভারতে-সীমান্ত এলাকায় এসে দীর্ঘ লাইনে পড়ছেন আটকা। হয়রানি সহ বিভিন্ন ভাবে নাজে হাল হচেছন তারা-একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের। হয়রানির স্বিকার যাত্রীরা জানান,কতিপয় অসাধু প্রশাসনের সদস্যরা এনওসি সহ বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে হয়রানি করছে। ল্যাগেজ চেকের নামেও হয়রানি হচ্ছেন তারা।  
 
আন্তর্জাতিক চেকপোষ্ট বেনাপোল দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে ৩থেকে ৪হাজার পাসপোর্ট যাত্রী। এবার ঈদের ছুটিতে যাতায়াত বেড়েছে প্র্রায় দ্বিগুন। ঈদের আগে গত ৫দিনে যাতায়াত করেছে২৭১২২জন যাত্রী। যা ঈদপরবর্তী গত তিনদিনে গেছে২৪২৯৪জন যাত্রী। প্রতিদিন ৭হাজারথেকে সাড়ে ৮হাজার যাত্রী গমনাগমনে বাড়ছে হয়রানি ও দুর্ভোগ।   একজন পাসপোর্ট যাত্রীকে নো-ম্যান্স ল্যান্ড পেরিয়ে গন্তব্যে পৌছাতে ১০টি স্পটে দীর্ঘ লাইনে দাড়াতে হচ্ছে। হাপিয়ে উঠছে যাত্রীরা।  ভারতীয় গেটে ধীরগতিতে পাসপোর্ট চেকিং সহ বিভিন্ন অভিযোগ স্থানীয় সহ প্রশাসনের।
বেনাপোল-পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মনিরুজামান ঘেনা ও সিএন্ডএফ ব্যবসায়ি আলী কদর সাগর বলেন,কতিপয় প্রশাসনের সদস্যের অসহযোগিতা,অনৈতিকতা,ভারতের এসবি সহ কাষ্টম ও ইমিগ্রেশন পুলিশের ধীর গতির কারনেও শুন্যরেখা ও পেট্টাপোল অভ্যান্তরে যাত্রী হয়রানি ও দুর্ভোগ বাড়ছে বলে জানান তারা। সরকারের রাজস্ব দিয়ে বৈধপথে ভারতে গমনে নানানবিধ সমস্যার কারনে অনেকে বাগান পথে যাতায়াত করছে বলে জানান সীমান্ত এলাকার মানুষ।
তবে ভিন্ন কথা বলছেন ইমিগ্রেশন ও কাষ্টম কর্তৃপক্ষ-ঈদ উপলক্ষে যাত্রী সংখ্যা বাড়ায়,বেড়েছে রাজস্ব আয়। কড়া নজরদারী ও যাত্রীদের সহযোগিতায় দুর্ভোগ কমাতে বাড়িয়েছেন সেবার মান। সকালে মাত্র ৩ঘন্টায় সাড়ে ৩হাজার যাত্রীর সেবা দিয়েছেন বলে জানায় ইমিগ্রেশন পুুিলশ।
ওসি-ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট,বেনাপোল তরিকুল ইসলাম বলেন,আগের চেয়ে ইমিগ্রেশন দালাল ও বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ মুক্ত হয়েছে। ডেক্স জনবল ও সেবা বাড়ানো হয়েছে। এপারে তেমন জট না থাকলেও ওপারে অধিকাংশ সময় যাত্রীজট বাড়ছে বলে জানান তিনি।
বেনাপোল কাষ্টম কমিশনার মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান,যাত্রী সেবা বাড়াতে কাজ করছে কাষ্টম কর্তৃপক্ষ। বৈধ পথে যাত্রী যাতায়াত বাড়ায় সরকারের বাড়ছে রাজস্ব আয়। সিসি ক্যামেরায় গতিবিধি লক্ষ সহ যাত্রীদের ল্যাগেজ ও ব্যাগ পরীক্ষায় স্কানার ম্যাশিন দিয়ে চেক করা হচ্ছে। হয়রানি রোধে সবোর্চ্চ সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কাষ্টম কমিশনারের নির্দেশে তারা সবসময় চেকপোষ্ট কাষ্টমসে যাত্রীসেবায় গুরুত্ব দিচ্ছেন। অচিরেই সেবার মান আরো বাড়বে বলে জানান তিনি।
যা গত ৯দিনে  প্রায় ৩কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে বলে জানান কাষ্টম কর্তৃপক্ষ। সেবা বাড়ায় যাত্রী যাতায়াত বাড়ছে বলে জানান তারা।  
ঘন্টার পর ঘন্টা খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে রোদ বৃষ্টি আর ব্যপসা গরমে অতিষ্ট হয়ে উঠছে যাত্রীরা। এ থেকে পরিত্রান চান তারা। দুর্নীতির সাথে জড়িত কতিপয় সংস্থার সদস্যারা।স্ব-স্ব সংস্থার কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে কড়া নজরদারীর দাবী জানান যাত্রীরা।
 
অনেক যাত্রীরা অভিযোগ করে বলছেন,বেনাপেলে ইমিগ্রেশনে বহিরাগতদের দ্বারা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তাছাড়া ভারতীয় প্রবেশ গেটে পাসপোর্ট চেকিং ধীরগতিতে হচ্ছে। এর মধ্যে আবার ভারতীয় লেবাররা অর্থের বিনিময়ে লাইন ছাড়া যাত্রীদের ভারতে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ায় আরো বিপাকে পড়ছে সাধারন যাত্রীরা।  
ঈদের পর বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে ভারতে যাওয়ার যাত্রী ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোগান্তির কথা  শি^কার করে একজন প্রশাসনের কর্তা বলেন এখানে দুর্নীতিতে কতিপয় সংস্থার সদস্যারা জড়িয়ে পড়ায় স্ব-স্ব সংস্থার কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে কড়া নজরদারী করা একান্ত জরুরী।
এদিকে বন্দর প্যাসেজ্ঞার টার্মিনাল চার্জ নিলেও নেই ট্রলি, পর্যাপ্ত বসার স্থান শিতাতপ রুম, বিশ্রামাগার। এসবের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাত্রীরা।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ-বাণিজ্য পাতার আরো খবর

Developed by orangebd