ঢাকা : শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা           কারও মুখের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী          ২২তম অধিবেশন চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ২৫ জুন, ২০১৮ ১১:১৮:২৭
সর্তা খালের বাঁধ ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
এম বেলাল উদ্দিন, রাউজান (চট্টগ্রাম)


 


রাউজানে সর্তা খালের বাধঁ ভেঙ্গে বাড়ী ঘর,রাস্তা ঘাট,পুল কালভার্ট,ইউপি ভবন,স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা অবকাঠামো সহ শাক সবজি মৎস্য চাষের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রবল বর্ষণে সর্তাখাল-ডাবুয়া খালের বেড়িবাধ ভেঙ্গে পাহাড়ী ঢলে রাউজানের ৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। এতে রাস্তাঘাট সহ চলাচলের গস্খামীণ পথগুলো নষ্ট হয়ে যায়। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার কামাল উদ্দিন জানান, গত বছরের ১৩ জুন বন্যার চেয়েও এবারের বন্যায় ক্ষতির পরিমান বেশি। তিনি জানান, গতবার রাউজানে ১৫০ কোটি টাকার ক্ষতি পরিমান ধরা হলেও এবারের ক্ষতির পরিমান ২শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তিনি জানান, হলদিয়া,ডাবুয়া, চিকদাইর,গহিরা ও বিনাজুরী ইউনিয়নে ব্যাপক রাস্তা ঘাটের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এছাড়া নোয়াজিষপুর,গহিরা,বিনাজুরি,উরকিরচর ও পৌর এলাকার বিভিন্ন জাগায় কম বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযুদ্ধা শফিকুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নে সর্তা খালের ১৩টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ইউনিয়নের বিভিন্ন গস্খাম পানির ¯্রােতে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। তিনি আরো জানান, তার ইউপি ভবনের সিমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের নিচে বড় গর্ত হয়ে যায়। এছাড়াও  উত্তর হলদিয়ার মাইজপাড়া হতে বড়–য়া পাড়া ও ইউছুফের বাড়ী পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সর্তা খালের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এর পাশাপাশি গর্জনীয়া এলাকায় ৩টি,গনিপাড়া ২টি,আমিরহাট ব্রীজের দক্ষিণ পাশে অলির বাপের বাড়ী ৩টি,ছমদ বস্তির বাড়ীর পাশে একটি ও চান কাজীর বাড়ী সহ মোট ১৩ জায়গায় সর্তা খালের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এছাড়া হলদিয়া ভিলেজ সড়ক,আলীখিল সড়ক ও উত্তর সর্তা দূর্গচারন সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ দূর্ভোগে পড়েছে। এ সড়ক গুলোতে কার্পেটিং এবং ইটের সলিন পানির ¯্রােতে ভেসে নিয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, হলদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব সীমান্তে ডাবুয়া খালের উপর কৃষি নির্ভর জনপদের আলীখিল ব্রীজ ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও  হলদিয়ার সমাজ সেবক মফিজুল ইসলাম সিকদার ও ব্যবসায়ী শিক্ষানুরাগী জাফর সিকদার জানান, আমাদের এলাকায় সর্তা খালে বড় আকারের বেড়িবাঁধ ও ব্লক না দিলে আমরা এলাকাবাসী বাড়ী ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেথে হবে। জাফর সিকদার বলেন, অবৈধ ভাবে ফটিকছড়ি এলাকার বালু ব্যবসায়ীরা মেশিন দিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের হলদিয়া থেকে বালি তোলায় খালের আজ এ অবস্থা। ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, গত এক বছর আগেও পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মকর্তারা মাইজপাড়া এলাকা পরিদর্শন করে গেলেও কাজের কাজ কিছু করেনি তারা। সর্তারকুল অলির বাপের বাড়ীর আবুল হাসেম জানান, তার বাড়ীর পাশে সর্তাখালের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।এখনো আমাদের গোটা বাড়ী হুমকির মুখে। তিনি জানান, তার ১৫০টি পেঁপে গাছের বাগান পেঁেপ সহ পানির ¯্রােতে ভেসে গেছে। একই বাড়ীর মোঃ আলমগীর জানান,আমার ঘরের পাশ দিয়ে সর্তা খালের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় এখনো আতংকে আছি। পত্রিকা হকার অজিৎ শীল জানান, সর্তার ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় আমরা পায়ে হেটে অনেক দুর গিয়ে হেটে হেটে পত্রিকা বিক্রি করতে হচ্ছে। যুবলীগ নেতা মুনসুর জানান, হলদিয়া ভিলেজ সড়কটি তীব্র পানির ¯্রােতে বিভিন্ন জায়গায় ভেঙ্গে গিয়ে দূর্ভোগ বেড়েছে। হলদিয়া ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার শামসুল আলম চৌধুরী জানান, তার ওয়ার্ডে ৫০টি ঘর ভেঙ্গে গেছে। তিনি আরো জানান, গর্জনীয়া সর্তার পূর্বকুল পশ্চিম কুল, চান কাজীর বাড়ী,দইল্ল্যা টিলা,ভট্ট পাড়া,আমিরহাট,আলী হোসেন শাহ ব্রীজের পশ্চিম পাশে সড়ক,খেজুর তল,শুক্রর মিস্ত্রির বাড়ী,ইদ্রিছ মাস্টারের বাড়ী,মওলানা রমজান আলীর বাড়ী,হাজী ফোররক আহমদ চৌধুরীর বাড়ী,ছমদ বস্তির বাড়ী,বহরম বাড়ী,বাদশা তালুকদার বাড়ী,গর্জনীয়া সৈয়দ বাড়ী,মাঝের টিলা,মোমেন চেয়ারম্যানের বাড়ী,সেকান্দরের বাগান বাড়ী,সিকদার বাড়ী সহ বহু এলাকা সর্তার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পত্রিকা হকার পরিতোষ দে ও রতন দে জানান, সর্তার ভাঙ্গনে আমাদের ঘরবাড়ীতে পানি ঢুকে ঘরের মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। এমনকি ৩/৪দিন রান্না বান্না হয়নি ঘরে।  এদিকে চিকদাইর ইউনিয়নে প্রায় ২১টি পিচ ও সলিনের রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরী। ডাবুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ডাবুয়ায় বাড়ী ঘর ও রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয় বলে জানান তরুণ রাজনীতিবীধ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন চৌধুরী। এছাড়াও নোয়াজিষপুরে নদিমপুর তেতুল তল এলাকা সহ গহিরা,বিনাজুরী,উরকিরচর ও রাউজান পৌর এলাকায় রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। অনেক পরিবারে বসত ঘর ভেঙ্গে যাওয়ায় ঐসব পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে সওজ,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ,ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ,এলজিইডি,পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকৌশলী,উপজেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠক করে দ্রুততার সহিত রাস্তাঘাটের মেরামতের নির্দেশ প্রদান করেন। এদিকে রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দার চৌ. বাবুল জানান, রাউজানে ব্যপক রাস্তাঘাটের ক্ষতি হওয়ায় অনেকেই দূর্ভোগে পড়েছেন,তবে আমরা দ্রুততার সহিত  মানুষ চলাচল করার জন্য অস্থায়ী রাস্তার সংস্কার করে দিচ্ছি। গত মঙ্গলবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলো ড্রোন দিয়ে সার্ভে করেছেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd