ঢাকা : বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা           কারও মুখের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী          ২২তম অধিবেশন চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট, ২০১৮ ১৫:৪৬:৩০
রাউজানে টার্কির খামারে দিন বদলের স্বপ্ন
এম বেলাল উদ্দিন, রাউজান (চট্টগ্রাম)


 


টার্কির খামারে সাবলম্বি হয়েছেন রাউজানের টিপু সুলতান। টিপু সুলতান ছাড়াও লাভবান হওয়ায় অনেক বেকার যুবক টার্কি চাষ শুরু করেছেন। এতে আর্থিক সাফল্যের পাশাপাশি মাংসের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে বলে জানা গেছে। টার্কি এক ধরনের বড় আকৃতির পাখি বিশেষ। এগুলো দেখতে মুরগির বাচ্চার মতো হলেও তুলনামূলকভাবে অনেক বড়। এরা পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। এরা প্রতিদিন মোট খাদ্যের ৫০-৬০ ভাগ নরম ঘাস খায়। তাই খাবার খরচ কম। বার্ড ফ্লু, গুটি বসন্ত, ঠান্ডাজনিত রোগ ছাড়া এখন পর্যন্ত এদের অন্য কোনো রোগ পরিলক্ষিত হয়নি। এ জন্যে চিকিৎসা খরচ কম। মাংস উৎপাদনের দিক থেকে খুবই ভালো। মাত্র ৬ মাস বয়সে ৫-৬ কেজি মাংস পাওয়া যায়। পাখির মাংসের মতো এটা মজাদার এবং কম চর্বিযুক্ত। তাই গরু বা খাসির মাংসের বিকল্প হতে পারে। একটি মেয়ে টার্কির ৫-৬ কেজি এবং পুরুষ টাকির্র ৮-১০ কেজি ওজন হয়। আমেরিকায় এদের উৎপত্তি হলেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও আমাদের দেশে এখনও এটি কম পরিচিত। তবে লাভবান হওয়ায় অনেকেই টার্কি পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। জানা যায়, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে রাউজানের টিপু সুলতান ১৯৮৮ সালে গিয়েছিলে সৌদি আরবে। তিনি সেখানে কাজ করতেন নির্দিষ্ট বেতনে। ওই বেতনে খাওয়া পড়া মোটামুটি সম্ভব হলেও সব সময় ভাবতেন বাড়তি আয়ের জন্য কিছু করা নিয়ে। এই নিয়ে তিনি ইন্টারনেটে প্রবেশ করে বিভিন্নমুখি অত্মকর্মসংস্থান বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করতেন। এক সময় তিনি রপ্ত করেন বিদেশি জাতের মুরগি ও টার্কি পালনের বিষয়ের উপর জ্ঞান।  বিষয়টি তিনি শেয়ার করেন দেশের বাড়ীতে অবস্থান করা স্ত্রী পরভিন আকতারের সাথে। প্রবাসী স্বামীর প্রস্তাব পেয়ে তিনি রাজি হন বাড়ীতে খামার প্রতিষ্ঠা করতে। স্বামীকে অশ্বস্থ করেন খামার পরিচালনায় মাঝে মধ্যে ফোনে দিক নির্দেশনা দিলে  তিনি সফল হতে পারবেন। প্রবাসী স্ত্রীর আগ্রহ দেখে অনলাইনে যোগাযোগ করে প্রথমে কিনে দেন ৪ জোড়া টার্কি। ওসব টার্কি তার বাড়ীতে এসে সরবরাহ দিয়ে যায় ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান। প্রথমে টার্কি পালনে ওই গৃহীনীর কিছুটা অসুবিধা হলেও পরবর্তীতে ওসব টার্কি পরিবারের সদস্য করে নেয় পারভিন। তিনি সন্তানের মত করে লালন পালন করে এসব টার্কি বড় করেন। তিনি পর্যায়ক্রমে খামারের টার্কির সংখ্যা বাড়ায়। এরমধ্যে সৌদি আরবের শ্রম বাজারে মন্দাভাব বিরাজমান থাকায় গত বছর দেশে ফিরে আসেন টিপু সুলতান। দেশে এসে তিনিও মনোযোগ দেন বড় পরিসরে টার্কির খামার প্রতিষ্ঠার দিকে। পুরানো টার্কির সাথে সংযুক্ত করেন নতুন টার্কির বাচ্চা। খামার যোগ করেছেন উন্নত জাতের দেশি বিদেশি মুরগি। খামারটিকে সম্প্রসারণে তৈরী করছে নতুন ঘর। দেখা গেছে টিপু সুলতানের খামারে এখন শতাধিক টার্কিসহ বিভিন্ন জাতের মুরগির রয়েছে। তিনি এই খামার থেকে  বিক্রির পাশাপাশি আগ্রহীদের কাছে বাচ্চা সরবরাহ করে আসছে।  প্রবাস ফেরত খামারী টিপু সুলতানের সাথে কথা বলে জানা যায়, কাঙ্কিত পুঁজির অভাবে তিনি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকে যেতে পারছেন না। সহজ শর্তে ঋন পাওয়া গেলে তিনি টার্কি, উট পাখি পালনে দেশের মধ্যে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd