ঢাকা : সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • জাতীয় নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর          নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি          আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার বুধবার থেকে নেবেন প্রধানমন্ত্রী          দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর, ২০১৮ ২২:১৩:৩৩
সীতাকুণ্ডে সাগরে চর, হুমকির মুখে জাহাজ ভাঙা শিল্প
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা


 

কর্ণফুলী মোহনার সন্দ্বীপ চ্যানেলের সীতাকুণ্ডে অংশে সাগরে প্রায় ১০ কিমি পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে হঠাৎ করে চর জেগে উঠেছে। ফলে সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডগুলোয় স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি আবারো হুমকির মুখে পড়েছে। 
জানা গেছে, বাংলাদেশে লোহার কোনো খনি না থাকায় শুরু থেকেই লোহার চাহিদা পূরণে জাহাজ ভাঙা শিল্প ব্যাপক ভূমিকা রাখতে শুরু করে। ফলে দেশবাসীর কাছে এটি ভাসমান লৌহ খনি হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। এর পর এ শিল্প থেকে প্রাপ্ত লোহার ওপর নির্ভর করে চলতে থাকে দেশের নির্মাণ শিল্প। গত শতকের ৮০ দশক ছিল শিপব্রেকিংয়ের স্বর্ণযুগ। এসময় ইয়ার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ২০০০ সালে ইয়ার্ড সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৫টির মতো। পরে আস্তে আস্তে তা বৃদ্ধি পেয়ে ইয়ার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫০টিতে। 
শিপব্রেকিং অ্যাসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ ও জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ড মালিকরা জানালেন, বিভিন্ন রকম চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে গত অর্ধ শতাব্দীতে এ শিল্প ক্রম বিকাশ লাভ করে দেশে-বিদেশে নিজেদের অবস্থান ও গুরুত্ব তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। এরপর ২০১১ সালে সরকার জাহাজ ভাঙা কার্যক্রমকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। এই শিল্প থেকে সরকার বার্ষিক ১ হাজার ২শ’ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় হয়। কিন্তু সাম্প্র্রতিক সময়ে উপজেলার ফৌজদারহাট থেকে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুর ১০ কিমি পর্যন্ত বিভিন্ন স্পটে সাগরে আঁকা-বাঁকা হয়ে চর জেগে উঠেছে। এটি দিনদিন আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
এ অবস্থায় সীতাকু- শিপব্রেকিং ইয়ার্ড মালিকরা নতুন করে জাহাজ আমদানি করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানালেন আরেফিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিক কামাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এবিষয়ে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত দ্য সিমনি রেস্টুরেন্টে সম্প্রতি বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) প্রেসিডেন্ট মো. আবু তাহেরের সভাপতিত্বে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সাগরে চর জেগে ওঠার বিষয়টি ও জাহাজ আমদানি সংক্রান্ত বিভিন্ন আলোচনা করা হয়। 
সীতাকু-ে বর্তমানে বিশাল এলাকা জুড়ে আঁকাবাঁকা হয়ে যে চর জেগে উঠেছে তা জাহাজ ভাঙা শিল্পের জন্য বড় রকমের হুমকি বলা চলে। এভাবে চর জাগতে শুরু করলে সামনে জাহাজ আমদানি করে বীচিং করা যাবে না। ফলে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি আবারো অনিশ্চতায়। 
অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট শিল্পপতি শওকত আলী চৌধুরী, ম্যাক করপোরেশনের মালিক মাস্টার আবুল কাসেমসহ উপস্থিত সকল ইয়ার্ড মালিক এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে মোকাবিলা করা না গেলে আগামীতে আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। 
এদিকে ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে আনা স্ক্রাপ জাহাজগুলো সীতাকু-ে বিভিন্ন ইয়ার্র্ডে নিয়ে আসতে হয়। কিন্তু সম্প্রতি উপজেলার ফৌজদারহাট থেকে শীতলপুর পর্যন্ত বিশাল এলাকা জুড়ে হঠাৎ করে চর জেগে ওঠায় কয়েকটি জাহাজ সাগরে আটকা পড়েছে। বীচিং করা যাচ্ছে না এবং জাহাজ আমদানি হুমকির মুখে পড়েছে। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে মোকাবিলা করা না গেলে সামনে আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। ফলে ১২শ’ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে সরকার। শুধু তাই নয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হবে দেশের অর্ধলক্ষ শ্রমিক। অন্যদিকে লৌহ এবং নির্মাণ শিল্পে চরম অস্থিরতা দেখা দিবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ-বাণিজ্য পাতার আরো খবর

Developed by orangebd