ঢাকা : সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • জাতীয় নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর          নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি          আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার বুধবার থেকে নেবেন প্রধানমন্ত্রী          দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:৫৬:৫৭আপডেট : ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:৫৩:৪০
উখিয়ায় ইয়াবা কারবারিরা বেপরোয়া, অভিযান জরুরি
উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা


 


সরকারের মাদকবিরোধী চিরুনি অভিযানের মধ্যেও কক্সবাজারের উখিয়ায় চলছে বেপরোয়া ইয়াবা বাণিজ্য। বিশেষ করে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশল কাজে লাগাচ্ছে গডফাদাররা। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় পেয়ে ক্যাম্পগুলোকে ইয়াবার নিরাপদ টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে মিয়ানমারের গডফাদাররা। মিয়ানমার থেকে এসে ওই দেশের ইয়াবার আড়তদাররা ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। এখান থেকে উখিয়ার চিহ্নিত ইয়াবার গডফাদারদের সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা বাণিজ্য। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা ইয়াবাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উখিয়া সীমান্তের বালুখালী, শিয়াল্লাপাড়া, বেতবুনিয়া, দরগাবিল, ডেইলপাড়া ডিগিলিয়া, বরইতলী, রহমতের বিল, ধামনখালী সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ইয়াবার চালান এসে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জমা হয়। পরবর্তীতে সিন্ডিকেট সদস্যরা এসব ইয়াবা সড়ক পথে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বড় বড় পাইকারি ব্যবসায়ীদের হাতে পৌঁছে দেয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের আন্তর্জাতিক চোরাচালান সিন্ডিকেট এখন অস্ত্র ব্যবসার পরিবর্তে ইয়াবা ব্যবসার দিকে ঝুঁকেছে। এ সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের নিয়ন্ত্রণে গড়ে উঠেছে উখিয়ার প্রায় ১৫টি সিন্ডিকেট। চিহ্নিত ইয়াবা গডফাদারদের নিয়ে গড়া এসব সিন্ডিকেট সদস্য স্থানীয় প্রশাসনের গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজ সদস্যকে ম্যানেজ করে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনেকেই এখন নব্য কোটিপতি। দেশীয় সিন্ডিকেটের তরুণ সদস্যদের অধিকাংশই আবার দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে এ ব্যবসায় এসেছে। তারা রোহিঙ্গা নারী-পুরুষসহ স্থানীয় তরুণদের ইয়াবা পাচারে ব্যবহার করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। দেশীয় এসব চিহ্নিত সিন্ডিকেটের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে রয়েছে- জাহাঙ্গীর, এনামুল হক ও জয়নালের নেতৃত্ব বালুখালী সিন্ডিকেট; জিয়াবুল, জানে আলম, আব্দুর রহিম, আলী আকবর ও ভুলুর নেতৃত্বে কুতুপালং সিন্ডিকেট; সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে ঘুমধুম সিন্ডিকেট, ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে জলপাইতলী সিন্ডিকেট, নুরুল আলম পুতিয়া, আবদুর রহমান ও আবদুর রহিমের নেতৃত্বে বালুখালী ঘোনারপাড়া সিন্ডিকেট; বাবুল, উত্তম ও ইসলামের নেতৃত্বে ঘিলাতলী সিন্ডিকেট; রাশেল, কানা মইন্নার নেতৃত্বে পালংখালী সিন্ডিকেট; কলিম উল্লাহ, সোহেল, জয়নাল ও দাড়ি জামালের নেতৃত্বে থাইনখালী সিন্ডিকেট; আতা উল্লা ও জালালের নেতৃত্বে সদর সিন্ডিকেট; দেলোয়ারের নেতৃত্বে হিজলিয়া সিন্ডিকেট, আলী আহামদ, জাহাঙ্গীর আলম ও নুরুল আলমের নেতৃত্বে ভালুকিয়া সিন্ডিকেট; আকতারের নেতৃত্বে সিকদার বিল সিন্ডিকেট, শাহাজান খলিবা, আব্দুর রহিম, আবদুল্লা, হারুন, রহমান ও লালুর নেতৃত্বে ডিগিলিয়া সিন্ডিকেট অন্যতম। এর বাইরেও সোনারপাড়া, থাইংখালী, জাদিমুরা, হলদিয়া পাতাবাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এসব সিন্ডিকেট।
এ ব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়েরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইয়াবার বিরুদ্ধে প্রসাশন হার্ডলাইনে রয়েছে। প্রতিনিয়তই ইয়াবা নিয়ে আটকের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযান উখিয়ায় চলমান রয়েছে। চিহ্নিত ইয়াবা গডফাদাররা পার পাবে না।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd