ঢাকা : সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • জাতীয় নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর          নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি          আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার বুধবার থেকে নেবেন প্রধানমন্ত্রী          দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৫:০৬:৪৮
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সুন্দরবন ভ্রমণে সতর্ক পদক্ষেপ
খুলনা সংবাদদাতা


 


জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগ সুন্দরবন ভ্রমণের ক্ষেত্রে শক্ত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। যার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে পর্যটকদের জন্য বনে প্রবেশে অধিক সতর্কতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। অভয়ারণ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সঙ্গত কারণেই সংকুচিত হয়ে আসছে বনে ভ্রমণের পথও। অপরদিকে সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য পর্যটকের সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে রাজস্বও। এর গুরুত্ব অনুধাবন করে নতুন পর্যটন কেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। তবে সুন্দরবনের বন্য প্রাণী সংরক্ষণে ঢালাওভাবে নৌযান চলাচল ও যত্রতত্র পর্যটন স্পটের অনুমতির ক্ষেত্রে সতর্ক পদক্ষেপ নিয়ে এগোচ্ছে সুন্দরবন বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম’ উল্লেখ করে জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের পর্যটন নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বন বিভাগ কাজ শুরু করেছে। এ সুপারিশ সিদ্ধান্ত আকারে বাস্তবায়ন করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
এই সূত্র জানায়, শুধু পর্যটনের গুরুত্বের দিকটা না দেখে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং বনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল অক্ষুণœ রাখার দিকেই বেশি করে নজর দিতে হবে। সুন্দরবনে এখন ৩ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার অভয়ারণ্য। এসব অঞ্চলে বাঘের আবাসস্থল রয়েছে। সুন্দরবনের শিবসা ও পশুরের দুই তীরে এখন বাঘের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আড়–য়া শিবসা, দোবেকী, কচিকাটা ও শেওলা নদীতে বাঘের বিচরণ হচ্ছে না। এখানে অভ্যন্তরীণ নৌ রুটে দিনে রাতে শত শত নৌযান চলাচল করছে যা বাঘের অবাধ বিচরণের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ অঞ্চলের নদ-নদীতে চর ও ভোলা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় লোকালয়ে এখন বাঘ আসছে। বাঘের লোকালয়ে ঢোকার ঘটনায় গ্রামবাসীরা পিটিয়ে বাঘ হত্যা করছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশিরুল আল-মামুন জানান, সুন্দরবন ইকো ট্যুরিজম সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি যাচাই-বাছাইয়ে একনেকে পাস হলে তা বাস্তবায়নে বন বিভাগ পদক্ষেপ নেবে। তিনি বন বিভাগের এক পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সুন্দরবনে প্রতি এক স্কয়ার কিলোমিটারে একটি বাঘ আছে। অন্যস্থানে দুটিরও বেশি বাঘের মুভমেন্ট দেখা গেছে। তাই পর্যটকদের জন্য সুন্দরবনে যত্রতত্র অনুমতি দিলে বনেরই ক্ষতি হবে বেশি। বন সম্পদ যা আছে তা রক্ষার পদক্ষেপ নেওয়াটাই জরুরি। তাই শত অনুরোধেও সাতক্ষীরা অঞ্চলে গত বছর পর্যটকদের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এদিকে বন বিভাগের এই সিদ্ধান্ত কতটুকু বাস্তবসম্মত সে বিষয়ে সুন্দরবন একাডেমির পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, আমাদের বোঝা দরকার সুন্দরবনের প্রকৃত অভিভাবক কে? কারণ, বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুমের উল্লেখ করে বন বিভাগ পর্যটন বন্ধ করতে চাইছে, আবার সুন্দরবনে যখন নৌ-দুর্ঘটনায় তেল-কয়লা-সার ছড়িয়ে পড়ে সকল বন্য প্রাণীর প্রজননকে হুমকির মুখে ফেলে দেয় তখন কথা বলে নৌ-মন্ত্রণালয়, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কথায় তখন কাজ হয় না।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম বলেন, বন্যপ্রাণীর প্রজনন একটি স্পর্শকাতর বিষয়। কাজেই সঠিক তথ্য-উপাত্য ছাড়া এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ঠিক হবে না। প্রজনন মৌসুমে শব্দ দূষণ প্রজননের জন্য ক্ষতিকর বলে বন বিভাগ পর্যটন বন্ধের সুপারিশ করেছে; কিন্তু একই সময় সকল প্রাণীর প্রজননকাল এটা ঠিক নয়। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রাণীর প্রজননকালে নিরাপদ প্রজননের ব্যবস্থা গ্রহণে কি পর্যটন বন্ধ থাকবে! শুধু ধারণার প্রেক্ষিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বন বিভাগের হটকারিতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. নাজমুস সাদাত বলেন, সুন্দরবনের প্রধান সম্পদ আহরণ হলো পর্যটন। তিনি বলেন, শব্দ দূষণের কারণে পর্যটন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, অথচ সারা বছর সুন্দববনের মধ্য দিয়ে নানা পণ্যের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করলেও সে বিষয়ে বন বিভাগের কোনো কথা নেই। এ অবস্থায় পর্যটন সম্পূর্ণ বন্ধ না করে বিকল্প ব্যবস্থা ভাবা উচিত।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. সালমা বেগম বলেন, সুন্দরবনের অস্তিত্ত্বের জন্য শামুক-ঝিনুক- কাঁকড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো তার ইকো সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর কাঁকড়া হলো ইকো সিস্টেম সমৃদ্ধ করার ইঞ্জিনিয়ার। কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম হ’ল শীতকাল, অথচ বন বিভাগ শীতকালেই কাঁকড়া শিকারের পারমিট দেয় সবচেয়ে বেশি।
ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়ার্স)-এর সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি সুন্দরবন বন বিভাগের মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আগামী বছরের জুন থেকে আগস্ট তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক আসা বন্ধের চিঠি দিয়েছে। ফলে সুন্দরবনে পর্যটক আসার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বন বিভাগকে এ সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd