ঢাকা : বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডেঙ্গু এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে : কাদের          ঈদে হাসপাতালের হেল্প ডেস্ক খোলা রাখার নির্দেশ          নবম ওয়েজ বোর্ডের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা           বন্দরসমূহের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর, ২০১৮ ১৪:৩৭:২৫
রূপসা রেল সেতু দৃশ্যমান, ২০ ভাগ কাজ শেষ
খুলনা সংবাদদাতা


 


খুলনা-মংলা রেল প্রকল্পের রূপসা রেল সেতুর কাজ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে কাজ। একের পর এক পিলার (খুঁটি) উঠছে। দুটি স্প্যান বসানো হয়েছে। প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে ২০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২০ সালের মার্চে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) খুলনা-মংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন করে। পরে ২০১২ সালের নভেম্বর প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পায় ভারতের সিইজি নিপ্পন কোয়ি জেভি প্রতিষ্ঠান। ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর রূপসা রেল সেতুর পাইলিংয়ের কাজের উদ্বোধন করেন রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন।
খুলনা-মংলা রেলপথ প্রকল্পটির কাজ ৩টি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। একটি রেল সেতু, অপরটি রেল লাইন এবং অন্যটি টেলিকমিউনিকেশন ও সিগন্যালিং। খুলনার ফুলতলা থেকে মোংলা পর্যন্ত ৮টি স্টেশন হচ্ছে। স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুলতলা, আড়ংঘাটা, মোহাম্মদ নগর, কাটাখালী, চুলকাঠি, ভাগা, দিগরাজ ও মোংলা। খুলনা-মংলা রেল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে রেললাইনের জন্য ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৮৯ লাখ এবং সেতুর জন্য ১ হাজার ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বাকি টাকা জমি অধিগ্রহণে ব্যয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) ও ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় এই রেলপথটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টার্ব রূপসা নদীর ওপর মূল রেল সেতুর কাজ সম্পন্ন করছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে মোংলা বন্দরের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। নির্মাণ কাজ শেষে ২০২০ সালের মধ্যে খুলনা ও মংলা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে সারা দেশের রেল যোগাযোগ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে মংলা বন্দরে আরও গতি সঞ্চার হবে। এটি মংলা বন্দরের সাথে খুলনা তথা সমগ্র বাংলাদেশের রেল সংযোগ তৈরি করবে। কম খরচে ভারত, নেপাল ও ভুটানে মালামাল পরিবহন সহজ হবে। বিভিন্ন স্থান থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সহজে সুন্দরবন ভ্রমণ করতে পারবেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর পশ্চিম পাড় বটিয়াঘাটা উপজেলার পুটিমারী ও পূর্ব পাড় খারাবাদ এলাকায় চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। পাইল স্থাপনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ভারী সব যন্ত্রপাতি। পুরোদমে পাইল স্থাপন ও পিলার তৈরির কাজ নিয়ে কর্মযজ্ঞ চলছে বহুল প্রত্যাশিত রূপসা রেল সেতু নির্মাণে।
রূপসা রেল সেতুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশন ম্যানেজার সুব্রত জানা বলেন, বাংলাদেশে প্রথম সুপার স্ট্রাকচারের রেল সেতু এটি। সিঙ্গেল ব্রডগেজের এ সেতুর দৈর্ঘ্য ৫ কিলোমিটার। ৮৩৬ টি পাইলের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে ৫৩০টির। পিয়ার ক্যাপ ১৩২টির মধ্যে ৮টির কাজ শেষ হয়েছে। ১৪২টি স্প্যানের মধ্যে দু’টি বসানো হয়েছে। ৫৫০ জন শ্রমিক সেতু নির্মাণে কাজ করছে। সেতুর মোট ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। পুরো কাজ ২০২০ সালের মার্চে  শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd