ঢাকা : শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে : সিইসি          নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি          দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর, ২০১৮ ২১:৪৬:১১আপডেট : ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ১২:৩৭:১৯
দেশের চার কোটি মানুষের কর দেওয়া উচিত : মুহিত
রুপম আক্তার


 

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশের চার কোটি মানুষের কর দেওয়া উচিত। বর্তমানে দিচ্ছে ত্রিশ লাখের মতো।
১২ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
 
বাজেটের তুলনায় গড় সম্পদের আয় কম উল্লেখ করে মুহিত বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে দেশটাকে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে প্রতি বছর বার্ষিক আয় বৃদ্ধি ২ শতাংশ হারে বাড়াতে হবে। এটা খুব অসম্ভব নয়। এক দশমিক সাত শতাংশ পর্যন্ত করতে পেরেছি। আরেকটু চেষ্টা করলেই দুই শতাংশ করে বাড়াতে পারবো। তবে অর্জন খুব মন্দ নয়। গত ১০ বছরে বার্ষিক আয় বৃদ্ধি দ্বিগুণের বেশি বাড়াতে সম্ভব হয়েছি। ভবিষ্যতে এটা ভালো করতে পারবো।
 
দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচন খবুই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমাদের ভোটাররা সচেতন, তারা নির্বাচনে ভুল করবে না, নিজের পায়ে কুড়াল মারবে না; সে ব্যাপারে আমি খুবই নিশ্চিত।
 
তিনি বলেন, সরকার ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। এ সময়ে ১ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত আয় করতে পেরেছি। আরেকটু চেষ্টা করলেই ২ শতাংশ করে বাড়াতে পারবো। বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছি। এ সরকার দায়িত্বে থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।
 
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে বাজেটের আয়তন খুবই কম। যেখানে অন্যান্য দেশে বাজেটের আয়তন হয় প্রায় ২৪ থেকে ২৮ শতাংশ, তাদের দেশে যে গড় সম্পদ সে তুলনায়। আমাদের এখানে তা ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ। এর চেয়ে বেশি হয় না। অনেক চেষ্টা করার পরেও এখনো সেই অবস্থায় আছে।
 
গত ১০ বছরে বাজেটের আকার কয়েকগুণ বাড়লেও দেশের বাজেট সম্পর্কে মুহিত বলেন, খুব বেশি উন্নতি হয়েছে বলে আমি স্বীকার করতে চাই না। আয়তন হয়তো কিছুটা বড় হয়েছে কিন্তু সম্পদের তুলনায় এট কম। এর ফলে যে অসুবিধাটা হয় সেটা হলো সরকারের অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের অনেক দাবি-দাওয়া থাকলেও, সেগুলো পুরোপুরি পূরণ করা যায় না।
 
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, আমাদের যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আছে তার তুলনায় বাজেটের আকার ২৩ থেকে ২৪ শতাংশ করা গেলে বিরাট পরিবর্তন আসবে। এখনো চেষ্টা করছি। এটা করতেই থাকবো।
 
৩৬ ক্যাটাগরিতে কেন্দ্রীয়ভাবে সেরা ১৪১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে ট্যাক্স কার্ড তুলে দেয়া হয় এ অনুষ্ঠানে। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।
 
এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এনবিআর করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার তাকে স্বাগত জানায়। এতে করে কর প্রদান আরও সহজ ও গ্রহণযোগ্য হবে।
 
অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এনবিআর করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার এতে স্বাগত জানায়। এতে করে কর প্রদান আরও সহজ ও গ্রহণযোগ্য হবে।
 
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, আমরা আশা করবো, কর প্রদানে সবাই স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসবে। নানা ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটলেও বাংলাদেশ কর জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) অনুপাতে এখনো পিছিয়ে আছে। করের আওতা বাড়াতে কাজ চলছে। তবে একই ব্যক্তির ওপর যেন বারবার করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া না হয়।
 
তিনি আরও বলেন, আয়কর প্রদান পরিবারের জন্য আজকে অত্যন্ত গর্বের একটি দিন। এ ধরনের আয়োজন ও সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে ট্যাক্স নেট বৃদ্ধি পাবে, নতুন নতুন ট্যাক্স প্রদানকারী ও প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি পাবে।
 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ-বাণিজ্য পাতার আরো খবর

Developed by orangebd