ঢাকা : শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে : সিইসি          নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি          দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১৩:৪৫:৪২
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে দুই না বহুপক্ষ
করীম রেজা


 


গণমাধ্যমের ভাষ্য এবং সরকারি কর্তা ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী এ মাসের মাঝামাঝি অর্থাৎ ১৫ নভেম্বর থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিদিন ১৫০ জন করে প্রাথমিক পর্যায়ে ২০০০ রোহিঙ্গা সদস্য মিয়ানমারে ফেরত যাবে। মিয়ানমার সরকারি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুসারে ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন। বিভিন্ন সময়ে তারা বলতে চেয়েছে বিলম্বের কারণ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে না পারা। গত বছরের ২৩ নভেম্বর প্রত্যাবর্তন চুক্তি হলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফেরত যায়নি।
জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রের রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। তার উপরে রয়েছে সময়ে সময়ে মিয়ানমার সরকারের নানা রকম ছলচাতুরিপূর্ণ আচরণ ও খবর প্রকাশ। যেমনÑ মানচিত্রে বাংলাদেশের ভূখন্ড মিয়ানমারের বলে দাবি করা, গণমাধ্যমে বাংলাদেশের একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন পুরনো ছবি রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের ছবি হিসেবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশ ও প্রচার। অং সান সুচি কর্তৃক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সর্বতোভাবে বিলম্বের দায় বাংলাদেশের ওপর চাপানো। অতিসম্প্রতি রোহিঙ্গা কিশোরকে সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীর গুলি করে আহত এবং বরাবরের মতোই তা অস্বীকার করা। সব কিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি সার্বিক বিবেচনায় প্রত্যাবর্তনের অনুকূল সন্দেহাতীতভাবেই নয়।
গত রবিবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে প্রত্যাবাসন তদারকি কমিটির একটি সভা এবং পরে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। মিয়ানমার টাইমস পত্রিকার শিরোনামে শরণার্থী বা রিফিউজি অভিহিত করা হয়েছে। আবার বিস্তারিত সংবাদে তাদেরকে রিটার্নি বা প্রত্যাবর্তনকারী হিসেবে উল্লে¬খ করা হয়েছে। ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা ফেরত দেওয়ার সফলতা স¤পূর্ণভাবে নির্ভর করছে বাংলাদেশের ওপর।
এদিকে জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বিদেশি রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা স্থায়ী, স্বেচ্ছা, নিরাপদ বসবাসের পরিবেশের ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফেরত যাচ্ছে কিনা, যেতে ইচ্ছুক কিনা, এসব বিষয় এখন পর্যন্ত খুব পরিষ্কার নয়।
সমস্যার শুরু থেকেই বাংলাদেশ সরকার দ্বিপক্ষীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি বিবেচনা এবং সমাধানের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে। মিয়ানমার বাংলাদেশের অপরিবর্তনীয় প্রতিবেশী দেশ যার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামাজিক কূটনৈতিক সাংস্কৃতিক কমবেশি সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের ঘটনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত  বাংলাদেশে সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অনুপ্রবেশ করেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫৪ জন। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ছয় লাখ ৩৩ হাজার ২২৩ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। এরও আগে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা চার লাখ তিন হাজার ৪৩১ জন।
উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পে নির্ধারিত তিন হাজার একর জায়গায় সাড়ে চার লাখের অধিক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। কক্সবাজার জেলা সদরসহ অন্যান্য উপজেলা এবং বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় আরও দুই লাখ রোহিঙ্গা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ রোহিঙ্গা শিশুও রয়েছে। ইতিমধ্যে ৬০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হয়েছে। ৫০ হাজারের বেশি গর্ভবতী মা রয়েছেন তার মানে এ বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা নতুন-পুরনো মিলিয়ে ১৩ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘটনার শুরু থেকেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সমাজের জোরালো সহযোগিতা না নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছে। প্রথম বৈঠকে মিয়ানমার এই জনগোষ্ঠীকে রোহিঙ্গা হিসেবে উল্লেখ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বাংলাদেশ তাদের দাবি মেনে নিয়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী চিহ্নিত করে আলাপ-আলোচনা চালিয়েছে। মিয়ানমারের কৌশলের কাছে বাংলাদেশের কূটনীতি দুর্বলতর বলেই এ পর্যন্ত প্রতীয়মান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী চুক্তির পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে  আঙ্গিক ও  বাচিক ভঙ্গিতে প্রকাশ করেছেন মিয়ানমারের দাবিই অধিকাংশ মেনে নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।
মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে না এমন কথা কখনোই বলেনি। যদিও বাস্তবে কোনো প্রকার উদ্যোগ গ্রহণে আগ্রহ দেখায়নি। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা এমনকি জাতিসংঘের কোনো প্রতিনিধিদলকে রাখাইন এলাকা পরিদর্শনে অনুমোদন দেয়নি মিয়ানমার সরকার। সংবাদ মাধ্যম, টিভি চ্যানেল, উপগ্রহ চিত্র প্রভৃতির মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া গেছে রোহিঙ্গা নিধনে পরিকল্পিত নির্যাতনের। বিস্তারিত বিবরণ অতি সম্প্রতি জাতিসংঘের তিন সদস্যবিশিষ্ট ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংস গ্রুপের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মিয়ানমার সরকার এই রিপোর্ট জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
কিছুদিন আগে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল মিয়ানমারের উপদ্রুত রাখাইন এলাকা পরিদর্শন করে এসে যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তা প্রত্যাবাসনের কোনো অগ্রগতি নির্দেশ করে না বা আশাব্যঞ্জক নয়। এছাড়া রাখাইন অঞ্চলে বাংলাদেশ কিংবা জাতিসংঘ প্রতিনিধি দলের পরিদর্শন ছিল সম্পূর্ণ মিয়ানমার সরকার তথা সেনাবাহিনীর দ্বারা কঠোর নিয়ন্ত্রিত। তারা দেখেছেন জনশূন্য গ্রাম ফসলের মাঠ ধ্বংসাবশেষের অবশিষ্ট। ভারত ও চীনের সহযোগিতায় তথাকথিত প্রত্যাবাসনের নিমিত্তে কিছু স্থাপনা তৈরির কাজ চলছে। কবে নাগাদ শেষ হতে পারে তা অনিশ্চিত। এমতাবস্থায় অদূর ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা বাংলাদেশ থেকে তাদের নিজের দেশে ফিরে যাবে এমন সম্ভাবনা দেখা যায় না।
বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যাটি দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধানের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সীমান্ত অতিক্রম করে তাদেরকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশগত হুমকি সত্ত্বেও, এমনকি নিরাপত্তার সংকট হতে পারে জেনেও বাংলাদেশ তাদেরকে থাকা-খাওয়ার ন্যূনতম সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যত সম্ভব উপায় প্রচার ও প্রকাশের ব্যবস্থা করা দরকার ছিল গণমাধ্যমে তার প্রতিফলন তেমন একটা লক্ষ্যযোগ্য নয় শুরু থেকে।
একদিকে দলে দলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকায় টহল দিচ্ছে, স্থলমাইন ব্যবহার করছে, হেলিকপ্টার নিয়ে বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে, স্থলপথে, সমুদ্রপথে রাখাইনদের রোহিঙ্গাদের রাখাইন এলাকা ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বাধ্য কিংবা সহযোগিতা করছে। ঘটনার প্রথম দিকে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর সদিচ্ছা প্রকাশ করলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে ২৪ হাজার ৩৪২ জন রোহিঙ্গার তালিকা দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক রোহিঙ্গাই জানাচ্ছে তারা ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানান, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে। বুধবার মিয়ানমার কর্মকর্তারা দাবি করেন, তারা ৫ হাজার রোহিঙ্গাদের তালিকা পর্যালোচনা করেছে। চলতি মাসেই ২ হাজার জনের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, এই প্রত্যাবাসন পরিকল্পনায় খুবই অবাক হয়েছে শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার। তিনি বলেন, শরণার্থী ইস্যু নিয়ে কাজ করা ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি এমনকি এখনো সেখান থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে বলে জানা যায়। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) দেওয়া তথ্য মতে, গত সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে নাফ নদী পেরিয়ে ৫৩১ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আগস্টে ২৫৬ জন ও জুলাইয়ে ৪১৩ জন এসেছে।
বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করা জাতিসংঘ শরণার্থী কমিশনের কর্মকর্তা ক্রিস মেলজার বলেন, প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা নিয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, আমরা হয়তো ফিরে যাওয়া ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কোনো ধরাবাঁধা সময় ও নির্দিষ্ট সংখ্যক রোহিঙ্গাকে যুক্ত করার বিরোধিতা করতাম। আমরা জানি না যাদের নাম পাঠানো হয়েছে তারা নিজেও জানেন কি না।
প্রত্যাবাসন শুরুর আগে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নেওয়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পরিকল্পনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে একটি ‘যথাযথ পরিকল্পনা’ নেওয়ার কথা জানায় মিয়ানমার ও বাংলাদেশ। জাতিসংঘ অভিযোগ তুলেছে, এই পরিকল্পনায় শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-কে যুক্ত করা হয়নি। তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এমন সময় ওই প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়, যার এক সপ্তাহ আগে জাতিসংঘের অনুসন্ধানে রাখাইনে গণহত্যা চলমান থাকার কথা জানা গেছে।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পাশাপাশি মিয়ানমারও সফর করবেন। মিয়ানমার সফরে তার সঙ্গে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও থাকতে পারেন। দুই মন্ত্রী আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় আসিয়ান সম্মেলনে তাদের মতামত তুলে ধরবেন।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালা কৃষ্ণণ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে চলে যাবে কিনা জানতে চাইলে তারা কয়েকটি দাবি-দাওয়া দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। ফেলে আসা বসতভিটা ফেরত দিতে হবে, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং নাগরিক অধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করছে আসিয়ান। তাই রোহিঙ্গাদের এসব দাবির বিষয়ে আসিয়ান মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে বলে আশ্বস্ত করে রোহিঙ্গাদের। সেখান থেকে ভিভিয়ান বালা কৃষ্ণণ উখিয়ার থাইংখালী হাকিমপাড়া, ময়নারঘোনা এবং লম্বাশিয়া ক্যা¤প ঘুরে বিকালে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন।
বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন দেখতে চায় ভারত।
কোনো পক্ষ, প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও বুঝতে অসুবিধা নেই তৃতীয় পক্ষের প্রবল অনুপস্থিতি বাধ্য করে তড়িঘড়ি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চুক্তি কার্যকর করার উদ্যোগ নিতে। রাখাইনে সার্বিক পরিস্থিতি নিরাপদ বসবাসের উপযোগী না হলেও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সমস্যার প্রকৃত সমাধান নয়। জাতিসংঘের আপত্তির পরে পররাষ্ট্র সচিব পরবর্তীকালে জানিয়েছেন জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে কোনো মূল্যে  জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিনিধিকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রাখা বাংলাদেশের জন্য অতি জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে ভবিষ্যতে আবার একই রকম  সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।  আরও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই দেশের মধ্যে যতরকম রোহিঙ্গা বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে সবকটিতেই গ্যারান্টি ক্লজরূপে  মিয়ানমারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কাজেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সাদাচোখে সহজ মনে হলেও মূলত অত্যন্ত কঠিন। ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্ট বিচিত্র  সমস্যা প্রলম্বিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকবে। কাজেই প্রভাবশালী বিদেশি রাষ্ট্র, সরকার এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সহযোগিতা ছাড়া মিয়ানমারের মতো একটি সুচতুর রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমাধানই দ্বিপক্ষীয়ভাবে সম্ভব নয়।  অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত।
লেখক : কবি, শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট

printer
সর্বশেষ সংবাদ
মুক্ত কলম পাতার আরো খবর

Developed by orangebd