ঢাকা : বুধবার, ২২ মে ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৫:৪৮:৪৭আপডেট : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২০:২২:৩৯
পাহাড় কন্যা ভুটান
রুপম আক্তার

 

আকর্ষণীয় এবং নান্দনিক সৌন্দর্যের দেশ ভুটান। সুন্দর পাহাড় আর পরিপাটি শহর দেখে আপনার মন ভরে যাবে। তাই কোনো এক ঝলমলে রোদে আপনি সড়কপথে বেরিয়ে পড়তে পারেন ভুটানের উদ্দেশ্যে। অপরুপ সৌন্দর্য্যরে দেশ ভুটান যেদিকে তাকাবেন, জুড়িয়ে যাবে দু’চোখ। ক্লান্তি আসবে না একবারের জন্যও। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনুন্নত এ দেশটি ভারতীয় উপমহাদেশে হিমালয় পর্বতমালার পূর্বাংশে অবস্থিত। দেশটির নামের পেছনেও রয়েছে বেশ মজাদার একটি ইতিহাস। ‘ভুটান’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ ‘ভূ-উত্থান’ থেকে। যার অর্থ ‘উঁচু ভূমি’। পুরো দেশটিই উঁচু পাহাড়ের উপরের গড়ে উঠেছে। তাই এ নাম দেয়া হয়েছে বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়। মাত্র সাড়ে সাত লাখ লোকের এ দেশটির প্রতিটি মানুষই বেশ কর্মঠ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাদের মুখে সব সময়ই আপনি হাসি দেখতে পাবেন। তারা গরিব হলেও অতিথিদের সাথে (পর্যটক) কখনোই খারাপ আচরই তারা করেন না। পর্যটকদের ‘ভগবানের’ মতোই শ্রদ্ধা করেন ভুটানিরা। কারই পর্যটনই দেশটির মূল চালিকাশক্তি। যে কোন ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন ‘বজ্র ড্রাগন’ খ্যাত দেশটি থেকে। তবে আগস্ট থেকে অক্টোবর এই তিন মাস ভুটানে ঘুরবার উৎকৃষ্ট সময়। বর্ষাকালে ভুটানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় বলে বর্ষা মৌসুমে দেশটিতে বেড়ানো কঠিন।
ভুটান যেতে যেভাবে পাবেন ভারতের ট্রানজিট ভিসা:
সড়কপথে নেপাল অথবা ভুটান যেতে চাইলে আপনার প্রয়োজন হবে ভারতের ট্রানজিট ভিসা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে কোনও ধরনের ঝক্কি ছাড়াই মিলবে এই ভিসা। আবেদন ফরম পূরণ থেকে কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময়ে তাই সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। সাধারণত ১৫ দিনের ট্রানজিট ভিসা দেয় ভারত। এ সময়ের মধ্যে ভারতের সড়ক ব্যবহার করে নেপাল অথবা ভুটান যাওয়া আসা করতে পারবেন। জেনে নিন ভারতের ট্রানজিট ভিসা নেবেন কীভাবে-   
প্রথমেই https://indianvisa-bangladesh.nic.in/visa/ এই লিংকে গিয়ে অনলাইনে পূরণ করে ফেলুন আবেদন ফর্ম। ফর্ম পূরণের দিন থেকে পরবর্তী ৫ দিন পর্যন্ত থাকবে এর মেয়াদ। এরপর আর এই ফর্ম জমা দেওয়া যাবে না। ট্রানজিট ভিসার ক্ষেত্রে ফর্ম পূরণ করার সঙ্গে সঙ্গে না গিয়ে একদিন পর যাওয়াই ভালো। এতে খুব বেশি সময় লাগে না। ভিসার ধরন হবে ট্রানজিট। ট্রানজিট ভিসা ব্যবহার করে নেপাল যেতে চাইলে।এন্ট্রি এবং এক্সিট পোর্ট হবে চ্যাংড়াবান্ধা/ রানিগঞ্জ। যদি ভুটান যেতে চান তবে চ্যাংড়াবান্ধা/ জয়গাঁও দেবেন। ফর্ম ঠিক মতো পূরণ করে প্রিন্ট করে নিন। ভিসা প্রসেসিং ফি হিসেবে ৬০০ টাকা জমা দিতে হবে আপনাকে। আগে টুরিস্ট ভিসা থাকলে সেটা বাতিল হয়ে যাবে আপনাআপনিই।
পাহাড় কন্যা ভুটান
ভিসা ফর্মের সঙ্গে আরও যেসব কাগজপত্র লাগবে:
মূল পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। ভিসার আবেদন দাখিল করার তারিখের আগ থেকে সর্বনিম্ন ৬ মাস মেয়াদী হতে হবে পাসপোর্ট।পাসপোর্টের ইনফরমেশন পেইজের ফটোকপি। আগের ভিসা থাকলে সেটার ফটোকপি। ভিসা ফর্মের জন্য এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি (২ বাই ২)। ছবি অবশ্যই ৩ মাসের বেশি পুরনো হওয়া যাবে না। জন্ম সনদ অথবা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। ব্যাংক স্টেটমেন্ট অথবা এন্ডোর্সমেন্টের মূল কপি এবং ফটোকপি। আবাসস্থলের প্রমাণস্বরূপ বৈদ্যুতিক বিলের ফটোকপি। বিল বেশি পুরনো হওয়া যাবে না। পেশার প্রমাণস্বরূপ চাকরিজীবী হলে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) এর মূল কপি এবং ফটোকপি। ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্সের কপি। শিক্ষার্থী হলে প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র। যাওয়া-আসার কনফার্ম টিকিটের অরিজিনাল কপি ও ফটোকপি।
সহজভাবে ভুটান যাওয়ার পথ:
ঢাকা থেকে রওয়ানা হওয়ার আগেই আপনাকে ভারতীয় ট্রানজিট ভিসা নিতে হবে। ভিসা নেয়ার আগে ভিসা ফর্মের সাথে অবশ্যই শ্যামলী পরিবহনের রিটার্ন টিকিট জমা দিতে হবে আপনাকে। নয়তো ভিসা পাবেন না। ভিসা হয়ে গেলে আপনি শ্যামলী পরিবহনের টিকিট ফেরতও দিয়ে অন্য বাসেও যেতেও পারেন। ঢাকা থেকে বাস ভুরমারি সীমেন্ত পৌঁছাবে সকাল সাড়ে ৬টায়। কিন্তু ইমিগ্রেশন খুলবে সকাল ৯টায়। এ সময়টা ভুরিমারি এলাকাটা ঘুরেও দেখতে পারেন। ঢাকা থেকে রওয়ানা হওয়ার আগেই ট্রাভেল টেক্সের ৫০০ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে যাবেন। ভুলে গেলেও সমস্যা নেই। কারণ বাস কাউন্টারেই ট্রাভল টেক্সের টাকা জমা দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে গুনতে হবে অতিরিক্ত আরো তিনশত টাকা। আর এখানকার পরিবহন ব্যবসায়ীরা সবাই একটি সিন্ডিকেটের মতো করে রেখেছে। টাকা দিতে না চাইলে আপনার পাসপোর্ট জমা নেবে না ইমিগ্রেশন অফিসের কর্মকর্তারাই! সবার পেছনে ফেলে দেবে আপনাকে। বাংলাদেশের সীমান্ত পাড় হয়ে ওপারে (চেংড়াবান্দা) যাওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশী দালালদের মতো ভারতীয় দালালরাও আপনার পাসপোর্ট জমা নিয়ে নেবে। তারা ইমিগ্রেশনের কাজটি দ্রুত করে দেবে, তবে সেক্ষেত্রে গুনতে হবে বাংলাদেশী একশ টাকা। এরপর সেখানেই পাহাড় কন্যা ভুটান
আপনি চাইলে টাকা এক্সচেঞ্জ করতে পারবেন। ভুটানে ইন্ডিয়ান রুপি ওদের নিজস্ব মুদ্রার মতোই চলে, একই মান। দুই ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করতে করতে আপনার প্রায় সাড়ে দশটা থেকে ১১টা বেজে যাবে। এরপর ভারতীয় সীমান্ত থেকেই জীপ বা সমু (স্থানীয় ভাষায়) ভাড়া করে নিতে পারেন জয়গাঁ পর্যন্ত। ভাড়া পড়বে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা। দরদাম করে নিতে পারলে ভালো। আর একসাথে যদি আটজনের টিম হলে খরচ একেবারেই কমে যাবে। সংখ্যায় কম হলেও সমস্যা নেই, কারণ এই সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই প্রচুর পর্যটক আসা-যাওয়া করে। রাতে বাসে ঘুমাতে না পারলেও জীপে বসে আপনার আর ঘুমানোর কোনো সুযোগ থাকবে না। রাস্তার দু’পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনার দু’চোখের পাতাকে এক করতে দেবে না। কুচবিহার জেলা থেকে শুরু করে জয়গাঁ পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে দেখবেন চা বাগানের ছড়াছড়ি। পাহাড়ি এলাকা নয়, তারপরও সমতল ভূমিতে বেশ বড় বড় চা বাগান করে রেখেছেন ভারতীয়রা। চারদিকে ধান ক্ষেত তার পাশেই চা বাগান! শহরের বুক চিড়ে তৈরি করা হয়েছে চা বাগানগুলো। জয়গাঁ যাওয়ার পথেই ভুটানের সু-উচ্চ পাহাড়গুলো আপনার চোখে পড়বে। দূর থেকে দেখে মনে হবে আকাশ ভেদ করে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়গুলো। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে শুয়ে আছে সাদা মেঘের ভেলা। এসব দৃশ্যে ভুলে যাবেন দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তি। ঘুম আসলেও দু’চোখের পাতা আপনি নিজেই বন্ধ হতে দেবেন না। সকাল ১১টায় চেংড়াবান্দা থেকে যাত্রা শুরু করলে জয়গাঁ পৌঁছতে আপনার সময় লাগবে চার ঘন্টা। বিকাল ৩টা বাজে জয়গাঁ ইমিগ্রেশনে শুধু মাত্র নাম আর পাসপোর্ট নম্বর এন্ট্রি করে পাসপোর্টে এক্সিট সিল নিয়ে নেবেন। সেটা করতে বড়জোড় পাঁচ মিনিট। কাজ শেষ হলে ঐ জীপে করেই আপনাকে পৌঁছে দেয়া হবে ভুটান ইমিগ্রেশনে (ফুলসলিং সীমান্তে)। ভুটানে প্রবেশের জন্য ভারতীয়দের কোন ধরনের পার্মিশন প্রয়োজন হয়না। ওরা যখন-তখনই প্রবেশ করতে পারে। ভুটানিদের জন্যও আছে একই সুবিধা। তাই জীপের ড্রাইভার সোজা ইমিগ্রেশনের সামনে নামিয়ে দিয়ে আবার চলে যাবে ভারতে। এখানকার ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা সবাই খুব হেল্পফুল। তারা নিজে থেকেই আপনার পাসপোর্টের ফরম ফিলাপ করার নিয়ম জানিয়ে দেবে। সু-শৃক্সক্ষলভাবে দ্রুততার সহিত ভুটানের অন অ্যারাইভেল ভিসা লাগিয়ে দেবে পাসপোর্টে। তবে সে জন্য পাসপোর্টের ফটোকপি ও এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি সাথে রাখবেন। ব্যাস আপনার কাজ শেষ। চলে গেলেন ভুটান। এবার সেখান থেকেই আপনার গন্তব্যস্থল রাজধানী থিম্পু অথবা পারোর জীপ নিতে পারেন। আছে টেক্সি ও পর্যটক বাসের সুবিধাও। ভুটানের পাহাড়ের পরতে পরতে রয়েছে সাদা মেঘের ভেলা। মেঘগুলো যেনো দল বেঁধে বসে থাকে পাহাড়ের ভাজে। আবার কিছু মেঘের খন্ড পাহাড়ের উঁচু স্থানে বাসা বেঁধে বসে থাকে। গাড়িতে বসেই আপনি দেখবেন মেঘের কতোটা কাছে আপনি। জীপ বা টেক্সিতে করে পাহাড়ের উঁচুতে উঠতে উঠতে একটা সময় দেখবেন মেঘ আপনার পায়ের নিচে। এমন দৃশ্য কেবল শিল্পীর তুলিতেই সম্ভব ছিল। কিন্তু এখন আপনার চোখের সামনে। থিম্পু কিংবা পারো আসার পথ পুরোটাই পাহাড়ের বুক চিড়ে গড়ে উঠা। ১৯৬০ সালে ভারত সরকারের কাছ থেকে আর্থিক অনুদান নিয়ে পাহাড়ি রাস্তা নির্মাণ করেছিল ভুটানের তৎকালীন রাজা। ফুলসলিং থেকে থিম্পু শহরে আসতে আসতে রাত ৯টা বেজে যাবে। ও এর মধ্যে দু’বার পুলিশ চেকপোষ্টের মুখোমুখি হতে হবে আপনাকে। এটা আপনার নিরাপত্তার জন্যই করে থাকে ভুটান সরকার। থিম্পুতে হোটেল ভাড়াও বেশ সস্তা। দু’জনের রুম (এসি) পাবেন এক হাজার রুপিতে। তবে একটু ভালো হোটেলে থাকতে হলে গুনতে হবে আরো পাঁচশত টাকা বেশী। আর সাবধান, ভুটানে ধুমপান নিষিদ্ধ। তাই ধুমপানের অভ্যাস থাকলে অবশ্যই হোটেল রুম অথবা পাহাড়ের আড়ালে গিয়ে পান করতে পারবেন। নয়তো আপনাকে গুনতে হবে জরিমানা।
ভুটানে থাকবেন কোথায়:
ভুটানে দামি, কম দামি সব ধরনেরই হোটেল আছে। কিন্তু হোটেলে অবশ্যই দামাদামি করে উঠবেন। যেমন ৭০০-৮০০ রুপি থাকে ১৫ হাজার ++ রুপি পর্যন্ত, আপনি সর্বমিম্ন ৮০০ রুপি আর সর্বোচ্চ ১৫৪০ রুপি দামের হোটেলে থাকতে পারেন। সবগুলো হোটেলই নিশ্চিন্ত নিরাপদ।পাহাড় কন্যা ভুটান
ভুটানে যা দেখবেন
থিম্পু:
সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি ৭টায় প্রস্তুত হয়ে হোটেল থেকে বের হতে পারেন ৮টার মধ্যে, তাড়াতাড়ি নাশতা করে পুরো থিম্পু ঘুরে দেখতে পারেন। কিন্তু মজার ব্যাপার কোনো রেস্টুরেন্টই সাড়ে ৯টা-১০টার আগে খোলে না। নাশতা তৈরি হতে হতে সাড়ে ১০টা। যা হোক, নাশতা করে আপনি বের হতে পারেন। এরপর ট্যাক্সি নিয়ে পুরো থিম্পু দেখতে পারেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো থিম্পুর আশপাশে ঘুরতে পারেন। থিম্পুতে সাইট সিইং-এর জন্য উল্লেখযোগ্য ও দর্শনীয় স্থানগুলো বুদ্ধ দর্দেনমা স্ট্যাচু, সীমতখা ডিজং, ন্যাশনাল তাকিন সংরক্ষিত চিড়িয়াখানা, কিংস মেমোরিয়াল চড়টেন, তাসিছ ডিজং, পার্লামেন্ট হাউস, রাজপ্রাসাদ, লোকাল মার্কেট, ন্যাশনাল স্কুল অব আর্টস, ন্যাশনাল লাইব্রেরি, বিবিএস টাওয়ার ছাড়া আরো অনেক কিছুই।
পুনাখা, পারো:
আপনার উদ্দেশ্য পুনাখা হতে পারে। মনে রাখা ভালো পুনাখা, হাভেলি, বুম্থাং এই জায়গাগুলোতে যেতে থিম্পু ইমিগ্রেশন অফিস থেকে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু কোনো কারণে যদি সরকারি ছুটির দিন হয়, ইমিগ্রেশন অফিস বন্ধ থাকে। তাই আপনি চলে যেতে পারেন পারোতে। মনে করে দেওয়া ভালো থিম্পু থেকে পারোর রাস্তা অসম্ভব রকমের সুন্দর। নিশ্চিত বলতে পারি আপনি এক মুহূর্তের জন্য আপনার চোখ বন্ধ রাখতে পারবেন না। পারো শহরে পৌঁছার পর হোটেল ঠিকঠাক করে ফ্রেশ হয়ে উদ্দেশ্য ঠিক করতে পারেন টাইগার নেস্ট-এ ওঠার। পারো শহর থেকে টাইগার নেস্ট-এর ট্যাক্সি স্ট্যান্ড/পার্কিং প্লেসে যেতে সময় লাগবে প্রায় ৩০-৪৫ মিনিটের মতো, আর ট্যাক্সি স্ট্যান্ড/পার্কিং প্লেসে থেকে টাইগার নেস্ট-এ পায়ে হেঁটে উঠতে সময় লাগবে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা (যেতে কষ্ট আছে, কিন্তু অনুভূতি সেই রকম, না গেলে বোঝানো যাবে না, পায়ে হেঁটে উঠতে কষ্ট হলে ঘোড়ার ব্যবস্থা আছে। টাইগার নেস্ট-এর বেজক্যাম্প পর্যন্ত ঘোড়ায় যাওয়া যাবে। খরচ পড়বে জনপ্রতি ৬০০ রুপি/ভুটানিজ গুল্ট্রুম), তারপর বিকেলটা কাটাতে পারেন অসম্ভব সুন্দর আর কাচের মতো স্বচ্ছ পানির পারো নদীর ধারে, এবং রাতে পারো শহরেই থাকতে পারেন। পরের দিন সকাল সকাল বের হয়ে পারোর আর বাকি অসাধারণ সুন্দর জায়গাগুলো দেখতে পারেন যেমন- কিচু মনাস্টেরি, এয়ারপোর্ট ভিউ পয়েন্ট, ন্যাশনাল মিওজিয়াম/তা-ডিজং, পারো ডিজং, চেলে-লা-পাস ইত্যাদি। প্ল্যান রাখুন বিকেলের মধ্যে থিম্পুতে পৌঁছে যেতে এবং ইমিগ্রেশন অফিস থাকে পুনাখা যাওয়ার জন্য অনুমতি নিয়ে রাখতে পারেন। তারপর রাতে থিম্পুতেই থাকতে পারেন। পরদিন খুব সকালে ঘুম থাকে উঠে রওনা দিতে পারেন পুনাখা উদ্দেশ্যে। নাশতা পাহাড় কন্যা ভুটান
করতে পারেন পথে, দুপুরের মধ্যে পৌঁছে যেতে পারেন পুনাখাতে। আবার বিকেলে রওনা দিতে পারেন থিম্পুর উদ্দেশ্যে এবং রাতে থিম্পুতে থাকতে পারেন। পুনাখার উল্লেখযাগ্য চমৎকার, যে জায়গাগুলো দেখলেই নিশ্চিত করে বলতে পারি মন ভরে যাবে। তা হলো দোচু-লা-পাস, পুনাখা ডিজহং, আর্চারি গ্রাউন্ড ইত্যাদি। সকালে ঘুম থেকে উঠে নাশতা করে আপনি রওনা দিতে পারেন। থিম্পুতে যে জায়গাগুলো বাকি ছিল, সেগুলো দেখতে পারেন। তারপর দুপুর ১২টার দিকে রওনা দিন ফুন্টশোলিংয়ে উদ্দেশ্যে, বিকেল চার-পাঁচটার মধ্যে ফুন্টশোলিং পৌঁছে যেতে পারেন, বিকেল, সন্ধ্যায় ফুন্টশোলিংয়েই ঘুরে দেখতে পারেন (রাতে ইন্ডিয়ান সাইডে গিয়ে, মুসলিম রেস্টুরেন্টে গরুর মাংস দিয়ে জম্পেশ ডিনার করতে পারেন) এবং রাতে ফুন্টশোলিংয়েই থাকতে পারেন। ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরার জন্য খুব সকলে ঘুম থাকে উঠতে পারেন ৬টা ৫০ মিনিটে ফুন্টশোলিং ইমিগ্রেশন অফিস থেকে Departure/এক্সিট সিল নিতে পারেন। প্রথমে বলতে পারে আপনাকে ৯টার পর আসতে, তবে একবার অনুরোধ করাতেই পাঁচ মিনিটের মধ্যে আপনাকে Departure/এক্সিট সিল দিয়ে দেবে, তারপর জয়গাঁও ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিস যেতে পারেন ৭টা ৫০ মিনিটে। ওই খানে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে আপনি দুই ভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারেন। ১. জয়গাঁও থেকে হাঁশিমারা হয়ে ময়নাগুরি থেকে চ্যাংড়াবান্ধা এবং তারপর বুড়িমারী। ঠিক যাওয়ার সময় বাংলাদেশ থাকে যেভাবে গিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই আগে থেকে শিলিগুড়িতে শ্যামলী বাস কাউন্টারের সঙ্গে ফোন করে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনি বুড়িমারী থেকে বাসে উঠবেন।
২. জয়গাঁ থাকে অটোতে করে আপনি চলে যান হাসিমারা রেলস্টেশনের উদ্দেশে। এরপর শিলিগুড়ি চলে যাবেন, তবে আপনি ইচ্ছে করলে বাসে যেতে পারেন। সে জন্য আপনাকে জয়গাঁ থেকে সরাসরি বাসে উঠতে হবে। তবে এখানে খরচ বেশি পড়বে। হাসিমারা থেকে ট্রেন ১০টা ২০ মিনিটে, ভাড়া জনপ্রতি ৬০ রুপি। টিকেটে কোনো বগি নির্দিষ্ট করা থাকে না। আপনি একটা স্লিপার বগিতে উঠে পড়তে পাহাড় কন্যা ভুটান
পারেন, আপনি শিলিগুড়ি পৌঁছে যেতে পারেন ২টার দিকে। বিকাল, সন্ধ্যায় কিছু শপিং করতে পারেন। রাতে শিলিগুড়িতেই থাকতে পারেন। আপনি ভাগ্যক্রমে ভারতীয় ট্রানজিট ভিসায় ভারতে অবস্থানকালে সময় বেশি পেলে এই সুযোগে দার্জিলিংও ঘুরে আসতে পারেন।
শিলিগুড়িতেই ছোটখাটো শপিং করতে পারেন। শিলিগুড়ির মানুষ ভালো। বাংলাদেশ থেকে আপনি আসছেন শুনলে অনেকে গল্প করবে আপনার সঙ্গে, বাংলাদেশের প্রতি তাদের ভালোই টান আছে। শিলিগুড়ি মালদাগুড়ি (শ্যামলী বাস কাউন্টার) থেকে বাস আছে ১টা ৩০ মিনিটে (দিনের একমাত্র বাস তা আবার রোববার বন্ধ থাকে)। চ্যাংড়াবান্ধা ইমিগ্রেশনে আসতে আসতে ৪টা বাজতে পারে। তেমন কোনো ঝামেলা ছাড়াই চ্যাংড়াবান্ধা-বুড়িমারী সীমান্ত পার হতে পারেন। বাংলাদেশে বুড়িমারী ইমিগ্রেশন অফিসের পাশে শ্যামলীর এসি বাস সাধারণত অপেক্ষা করে। এরপর আপনি এসি/নন এসি বাসেই ঢাকায় ফিরতে পারেন। পরদিন সকাল ৭টায় ঢাকার কল্যাণপুরে পৌঁছে যাবেন।
কিছু লক্ষণীয়:
১. ভারতীয় ভিসাসহ পাসপোর্টের ফটোকপির কয়েক কপি, আর পাসপোর্ট সাইজের ছবি সঙ্গে রাখবেন। ২. ন্যাশনাল আইডি কার্ডের দু-তিনটি ফটোকপি। ৩. চাকরিজীবী হলে ঘঙঈ ও স্টুডেন্ট হলে আইডি কার্ডের দু-এক ফটোকপি। ৪. ভুটানে সরকারি ছুটি অনেক বেশি, তাই সরকারি ছুটির লিস্ট দেখে ভ্রমণ প্লান করলে ভালো। ৫. ভুটানে কোথাও কোনো মসজিদ ও মুসলিম রেস্টুরেন্ট আপনার চোখে পড়বে না। ভুটানিজ ভাত, ডাল, সবজি খুবই মজার। তারপরও আপনার প্রয়োজন মনে হলে, বাংলাদেশ থেকেই কিছু, আচার, চাটনি, বিস্কুট নিয়ে যেতে পারেন। ৬. ও হ্যাঁ, আরেকটা কথা, ভুটান শতভাগ ধূমপানমুক্ত দেশ। কিন্তু বার সবার জন্যই খোলা। কোথাও কোনো সিগারেট কিনতে পাবেন না, ধূমপানের মতো বদভ্যাস থাকলে সিগারেট সঙ্গে করে নিয়ে নেবেন। পরবর্তী সময়ে তা বারে (smoking zone), হোটেলে অথবা পাহাড়ে ধূমপান করতে পারবেন, কিন্তু ধরা পড়লে কোনো কথা নেই, নগদ মোটা অঙ্কের জরিমানা। তবে ধূমপান না করাই ভালো। ৭. নিজস্ব প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বাংলাদেশ থেকেই নিয়ে গেলে ভালো।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
পর্যটন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd