ঢাকা : শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৩:৫৯:৩১
ভয়ার্ত সেই দিনের আতংক কাটেনি আজও
গণকবরে ভরা গ্রাম বেনাপোলের ‘গয়ড়া’ অরক্ষিত করব সংরক্ষণের দাবী
এম এ রহিম, বেনাপোল


 


পাকহানাদার বাহিনীর নৃশংসতায়-গণধর্ষণ ও ব্রাশফায়ারের ভয়ার্ত সেই দিনের আতংয়ক কাটেনি আজও। গণকবরে ভরা যশোরের বেনাপোলের অযো-পাড়া গায়ের একটি গ্রাম গয়ড়া। মুক্তিযুদ্ধে পাক সেনারা একদিনেই ৬৩ জনকে হত্যা করেছিল। একটি মইচে ও কুয়ায় সমাহিত করা হয় ১১ জনকে। একই পরিবারের ৪ নারীকে ১০ পাকসেনা পালাক্রমে নির্যাতন শেষে ছোট ৬ মাসের শিশুসহ তাদেরকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে তারা। আজও সেদিনের স্মৃতি তাড়া করে স্থানীয়দের। অযতœ, অবহেলা, সচেতনার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে শার্শা-বেনাপোলে শতাধিক গণকবর। বিজয়ের ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও ওই গ্রামের খোঁজ রাখেনি কেউ, গণকবরে ভরা এই গ্রামে আজো তৈরি হয়নি কোনো স্মৃতিফলক।
গয়ড়া  গ্রামের কিতাব আলি, শাশুড়ি লতিফুর নেছাকে পরে স্ত্রী পরি বেগম, ছয় মাস বয়সী ছেলে, ভাইবউ আছিয়া খাতুন ও সাইফুন নেছাকে নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করে পাকবাহিনী। বিভৎস্য স্মৃতিময় সে দিনের কথা তাড়া করে আজও
কালের স্বাক্ষী স্থানীয় প্রতিবেশী গয়ড়া গ্রামের নুর মোহাম্মদের স্ত্রী রিজিয়া বেগম ও আনসার এবং একই গ্রামের রহিমা খাতুন অশ্রশিক্ত নয়নে বলেন সেদিনের করুন কাহিন্ ীপাক হানাদার বাহিনীর ভয়ার্ত কে ভুলতে পারেনি তারা। সেদিনের কথা এ প্রজন্মের কাছে বললেই আতকে ওঠেন তারা। আজ তাদের কবর সংরক্ষন না হওয়ায় গরু ছাগল চরছে। বিলিন হয়ে যাচ্ছে অনেক কবর। বিজয়ের এ মাসে প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
আক্ষেপের যেন শেষ নেই কাগজপুুকুর  গ্রামের শহীদ আবুল কাশেম এর ছেলে আলী আকবার খোন ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেন বাবার সাথে যুদ্ধ করেছেন তিনি। তাদের খোঁজ খবর নেই না কেহ। বাবার নামে সড়কের নাম করনের দাবী জানালেও এমপি মেয়র ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কেহ কথা রাখেনি। এমপি বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।উলাশিতে সমাহিত ৬জনের কববের স্মুতিচিহ্ন বিলিন হওযায় পথে। এসব কবর সংরক্ষণের দাবী স্থানীয়দের।
দক্ষিণ পশ্চিম রনাঙ্গনের সদর দফতর শার্শা উপজেলার ডিহি কাশিপুর ও বেনাপোলের কাগজপুকুর ও গয়ড়ায় পাকসেনা ও মুক্তিবাহিনীর মধ্যে ৭১ এর সম্মুখ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে কাগজপুকুরে পতন ঘটে কিন্তু বেনাপোলের পতন ঘটেনি কোনদিন। একদিনেই ১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল শনিবার ব্রাশ ফায়ারে গয়ড়া গ্রামের ৬৩ জনকে হত্যা করে পাকিস্থানিরা। পুড়িয়ে দেওয়া হয় ওই গ্রামের প্রায় সবার বাড়ি ঘর। যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোল সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে গয়ড়া গ্রাম। এই গ্রামটি ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের বেনাপোল সাব-সেক্টরের আওতায়। ওই সময় সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন আবদুল হালিম ও ক্যাপ্টেন তৌফিক-ই-ইলাহী। পনের দিন ধরে চলে যুদ্ধ এতে যুদ্ধে মারা যায় দেড় শতাধিক সাধারন মানুষ। সামনা সামনি ওই যুদ্ধে পাকিস্থানী ১৫০ খানসেনা নিহত হয় এবং ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা শাহাদৎ বরন করেন। গয়ড়া গ্রামের মসজিদের পশ্চিম পাশে, কিতাব আলির বাড়িতে তৈরি করা মর্চের ভিতর,নূর মোহাম্মদের বাড়ির পুকুর পাড়ে, বাবর আলির বাড়ির প্রাচিরের কোনায় গণকবর দেওয়া হয়। আজ এসব কবরের স্মৃতিচিহ্ন বিলিন হয়ে যাচ্ছে। পারিবারিক গণকবরে ভরা এ গ্রামে নেই কোনো স্মৃতিফলক। স্থানীয়রা পরে কাগজপুকুর বাজারে ও উলাশিতে ২টি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছে। কবর সংরক্ষন সহ স্মৃতি সৌধ নির্মানের দাবী নিহত পরিবার সহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা দীন মোহাম্মদ শওকত আলী ও শাহ আলম জানান সেদিনের করুন কাহিনী। তারা বলেন, দেশ জাতি পরিবেশ ওসমাজ রক্ষায় যারা সব মায়া ত্যাগ করে জীবন  দিয়েছে তাদের কবর সংরক্ষণ করা হরে মরহুমের আত্মা শান্তি পাবে। মুক্তিযোদ্ধারা সহ সন্তানেরা চান এগুলো চিহ্নিকরে সংরক্ষণ করা হোক। ।
আজ ভয়ার্ত সেদিনের কথা মনে করলে আঁতকে ওঠে শরীর। এসব পরিবারের খোঁজ খবর নেয়নি কেহ বলেন স্বজনেরা।  
শার্শা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ডেপুটি-কর্মান্ডার নাসির উদ্দিন বলেন-যশোরের জামতলা,নাভারন,শার্শা,বেনাপোল কাগজপুকুর, গয়ড়াসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে গন কবর। কয়েকটি চিহ্নিত করা হলেও অনেক গণকবর রয়ে গেছে অরক্ষিত-এসব গন কবর সংরক্ষণে সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।
উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা, পূলক কুমার মন্ডল, অনেক গণকবর সংরক্ষন করা হয়েছে। অচিরেই আরো গণ কবর সংরক্ষনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধা বান্ধব সরকার সব ধরনের কাজ করে যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এসব গুলেকে চিহ্নিত করে কবর সংরক্ষণ করার বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পরামর্শ নেওয়া হবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd