ঢাকা : সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডেঙ্গু এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে : কাদের          ঈদে হাসপাতালের হেল্প ডেস্ক খোলা রাখার নির্দেশ          নবম ওয়েজ বোর্ডের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা           বন্দরসমূহের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ ১১:৩০:৫৬
বছর শুরুতেই বাংলাদেশের জন্য সুখবর
রুপম আক্তার


 


২০১৯ সালে বিশ্বের ৪১তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। এ তালিকায় বাংলাদেশ গত এক বছরে দুই ধাপ এগিয়েছে। আর দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। এই ধারাবাহিকতায় ২০৩৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ২৪তম স্থান দখল করে বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তালিকায় প্রবেশ করবে। প্রায় একই সময়ের মধ্যে (২০৩২ সালে) যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ঠেলে দিয়ে চীন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। তখন প্রতিবেশী ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিকস এন্ড বিজনেস রিসার্চের (সিইবিআর) ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল (ডব্লিউইএলটি), ২০১৯’ শিরোনামের সমীক্ষা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে, সামনের বছরগুলোতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। সিইবিআর-এর প্রতিবেদনের দশম সংস্করণ ছিল এটি। ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে মূল্যায়ন করা হয়েছে ১৯৩টি দেশের বার্ষিক অবস্থান। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সম্ভাব্যতা বিচার করে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত দেশগুলোর অবস্থানের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তালিকায় শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতির দেশ হিসেবে নাম রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, জার্মানি ও ভারতের।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লীগ টেবিল অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছরে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে। ২০২৩ সাল নাগাদ শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৬ তম হবে। আর ২০২৮ সাল নাগাদ ২৭ তম অবস্থানে চলে আসবে বাংলাদেশ।

সিইবিআর-এর প্রতিবেদনে ২০১৮-২০৩৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশে গড়ে ৭ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালের তুলনায় ২০৩৩ সালে ১৯ ধাপ অগ্রগতি হয়ে ২৪তম বৃহত্তর অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ।

প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে বলা হয়, তৈরি পোশাক রপ্তানি, শক্তিশালী রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, ভারতীয় বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয় ও সরকারি ব্যয়ের দিক থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হচ্ছে। প্রায় ৪৩ শতাংশ বাংলাদেশি কৃষিকর্মের সঙ্গে যুক্ত, যাদের বেশির ভাগই ধান ও পাট উত্পাদন করে থাকে। এ ছাড়া দেশে ভুট্টা, শাকসবজি ও গমের উত্পাদনও দেশটির উন্নতিতে ভূমিকা রাখছে। তবে আমদানির হার বেশি থাকায় বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সফলতা নিয়ে ঝুঁকিও দেখছে সিইবিআর। অবকাঠামো খাতে অর্থায়ন ও রাজস্ব বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তার জন্য সরকারকে নতুন নতুন খাতের দিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কেননা বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট আরো গুরুতর আকার ধারণ করছে।

সিইবিআরের পূর্বাভাসে বলা হয়, ২০৩৩ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতির দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে চীন প্রথম, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়, জাপানকে পেছনে ফেলে ভারত তৃতীয়, জাপান চতুর্থ স্থানে এবং জার্মানি এক ধাপ পিছিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে আসবে।

এই ১৫ বছরে এশিয়ার অন্যান্য দেশেরও অর্থনৈতিক উত্থান ঘটবে। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তালিকায় তখন দক্ষিণ কোরিয়া দশম, ইন্দোনেশিয়া ১২তম, থাইল্যান্ড ২১তম, ফিলিপাইন ২২তম এবং মালয়েশিয়া ২৫তম (বাংলাদেশ থেকে এক ধাপ পেছনে) স্থানে উঠে আসবে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তান এক বছরে দুই ধাপ পিছিয়ে এবার ৪৪তম স্থানে অবস্থান করছে। আগামী ১৫ বছরে পাকিস্তানেরও উন্নয়ন ঘটবে। দেশটি এ সময়ের মধ্যে ২৭তম স্থানে উঠে আসবে। তালিকায় ২০১৯ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা ৬৬তম, আফগানিস্তান ১১৫তম, ভুটান ১৬৬তম এবং নেপাল ১০১তম স্থানে রয়েছে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd