ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৭:৪৮:৩২আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১২:০২:২৭
৩০ বছর ধরে বিড়াল পুষছেন পাবনার আলেপা খাতুন
ভালোবাসার অনন্য নজির
কলিট তালুকদার, পাবনা


 


পাবনার চাটমোহর পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের নির্বাচিত নারী কাউন্সিলর আলেপা খাতুন। তিনি কারো কাছে বিড়াল-প্রেমিক আবার কারো কাছে পরিচিত ‘বিড়াল মা’ হিসেবে। কারণ তার বাড়িতে রয়েছে একটি বা দু’টি নয়, ৪২টি বিড়াল। প্রায় ৩০ বছর ধরে চলছে বিড়ালের প্রতি আলেপা খাতুনের ভালোবাসার এই অনন্য নজির। বিড়ালকে ভালোবেসে কিছুই করতে পারেননি জীবনে, এ নিয়ে আক্ষেপও নেই তার। শুধু চাইলেন, বিড়ালের খাবার জোগাতে প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা।
পাবনার চাটমোহর পৌরসভার ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের পরপর দু’বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর আলেপা খাতুন (৪২)। পোশাক পরিধানে অতি সাধারণ। বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া দুই শতক জায়গার উপর কুঁড়েঘরে ছেলেকে নিয়ে বসবাস। ভোর থেকেই শুরু হয় তার কর্মব্যস্ততা। এ কর্মব্যস্ততা একটু অন্যরকম! তার ভালোবাসার সাথি যে ৪২টি বিড়াল।
বর্তমান সমাজে মানুষের মধ্যে যেখানে নিজে ভালো থাকার প্রবণতা বেশি, সেখানে আলেপার প্রাণী প্রেম দেখলে যে কেউ হতবাক হবেন। সাংসারিক অবস্থা খুব একটা ভালো না তার। কোনোমতে চলে সংসার। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর হিসেবে যে সন্মানী পান তার পুরো টাকা (৪ হাজার) খরচ করেন ৪২টি বিড়ালের পেছনে। তবে শুধু সম্মানীর টাকা দিয়েই বিড়ালগুলোর খাওয়া হয় না। এর জন্য একমাত্র ছেলে মহরমের কাছ থেকেও টাকা নিতে হয় তাকে।
আলেপার সঙ্গে কথা বলার জন্য তার বাড়িতে প্রবেশ করতেই চক্ষু চড়ক গাছে!  যেমনটা মা’র ডাকে সন্তানরা ছুটে আসে, তেমনি আলেপার মধুর ডাকে একের পর এক বিড়ালগুলো ছুটে এলো তাদের সাজানো খাবার খেতে। চোখ আটকে যায় একেক জনের জন্য একেকটা থালায় থরে থরে সাজানো মাছ-ভাত দেখে।
আলেপা জানান, প্রতিদিন আড়াই কেজি চালের ভাত আর সাথে ৯০ থেকে ১শ’ টাকার মাছ লাগে এসব  বিড়ালের  জন্য। দিনে ৫/৬ বার খাবার দিতে হয়। আমার ঘরেই ওরা থাকে। খাটে ও মেঝেতে বিছানা দিই। মশারি টাঙ্গায়া দিই। ছোটবেলা থেকেই আমি এসব ভালোবাসি। এদের জন্যি ভীষণ মায়া লাগে আমার। বিড়ালগুলোর অসুখ হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়, আবার ওষুধ কেনা লাগে। শীতের মধ্যে বেশি কষ্ট হয়। ওদের জন্য একটা ঘর হলে ভালো হয়, কিন্তু টাকা পাবো কোথায়! ওদের খাওয়াবো, নাকি ঘর বানাবো। এখন বিড়ালের সংখ্যা বাচ্চাসহ ৪২টা। আগে আরও বেশি ছিলো, কুকুর মেরে ফেলেছে বেশ কিছু। এছাড়া ছিলো বেজি। মানুষ সেগুলাক বিষ দিয়ে মেরে ফেলেছে।  
স্বামী-সন্তানদের কথা জিজ্ঞেস করতেই আবেগী হয়ে ওঠেন আলেপা খাতুন। তিনি বলেন, ‘বাপ-মা ছোট বয়সে বিয়ে দিয়েছিল। সংসার কি বুঝতে পারি নাই। ২৬ বছর আগে সন্তান মহরম গর্ভে থাকতে স্বামী আমাকে ছেড়ে চলে যায়। অনেক কষ্টে ছেলে মহরমকে মানুষ করিছি। ছেলে এখন রাজমিস্ত্রীর কাজ করে। কিছুদিন আগে ছেলেকে বিয়ে দিয়েছি। সবাই আমাক ভালোবাসে। মানুষ টাকা খরচ করে আমাকে ভোটে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। মানুষের ভোটে কাউন্সিলর হয়েছি। প্রতিদিন এলাকার মানুষদের কাছে যাই খোঁজ-খবর নেই’।
কথা হয় ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রনি রায়ের সাথে। তিনি বলেন, আলেপা আপা খুব সাদামাটা জীবন যাপন করেন। ছোটবেলা থেকেই আলেপা আপাকে দেখে আসছি। তার এই প্রাণীপ্রেম দেখে আমরা মুগ্ধ। অনেক কষ্টে চলে তার সংসার। কিন্তু কোন সময় কাউকে তিনি তা বুঝতে দেন না। বিড়ালগুলোই তার সবকিছু।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার বলেন, আমি তার বাড়িতে গিয়েছি। তার সমস্যাগুলো আমি শুনেছি। তার বিড়ালগুলোর জন্য একটি ঘর তৈরিসহ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd